বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং কৌশলগতভাবে সংবেদনশীল সমুদ্রপথ ‘হরমুজ প্রণালি’র নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বৈশ্বিক রাজনীতিতে আবারও নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের তেল পরিবহনের মূল ধমনী হিসেবে পরিচিত এই সংকীর্ণ জলপথটির আধিপত্য ধরে রাখতে পশ্চিমা বিশ্ব এবং আঞ্চলিক শক্তিগুলোর মধ্যে পর্দার আড়ালে ও প্রকাশ্যে চলছে তীব্র মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ এবং সামরিক মহড়া। এই প্রণালির নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে—তা নিয়ে ভূ-রাজনৈতিক টেবিলের টানাপোড়েন এখন আন্তর্জাতিক সম্পর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে।
ভৌগোলিক অবস্থানের কারণেই ওমান ও ইরানের মধ্যবর্তী এই জলপথটি বিশ্ব অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। প্রতিদিন বিশ্বের মোট চাহিদার প্রায় এক-পঞ্চমাংশ খনিজ তেল এই রুট দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এই রুটে সামান্যতম অস্থিরতাও মুহূর্তের মধ্যে বিশ্ব বাজারে জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী করে তুলতে পারে।
টানাপোড়েনের মূল কারণ ও বর্তমান সমীকরণ:
- ইরানের কৌশলগত অবস্থান: হরমুজ প্রণালির একটি বড় অংশ ইরানের জলসীমার মধ্যে হওয়ায় তেহরান এটিকে নিজেদের সবচেয়ে বড় ভূ-রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে। যেকোনো আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার জবাবে এই প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেয় তারা।
- পশ্চিমা বিশ্বের সামরিক উপস্থিতি: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্র দেশগুলো এই আন্তর্জাতিক জলপথে মুক্ত বাণিজ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করতে দীর্ঘদিন ধরে নৌবাহিনীর একটি বড় অংশ মোতায়েন করে রেখেছে, যা ইরান কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছে না।
- নজরদারি ও ড্রোন যুদ্ধ: সম্প্রতি এই অঞ্চলে আধুনিক ড্রোন এবং সাবমেরিনের মাধ্যমে একে অপরের ওপর নজরদারি বাড়ানোর প্রতিযোগিতা তীব্র হয়েছে, যা যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের রূপ নিতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি কেবল একটি বাণিজ্যিক পথ নয়, এটি আন্তর্জাতিক কূটনীতির অন্যতম বড় চালিকাশক্তি। এই সংকীর্ণ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার লড়াইয়ে বিশ্ব পরাশক্তিগুলোর এই টানাপোড়েন বিশ্ব অর্থনীতিকে এক বড় ধরনের অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।