অনলাইন ডেস্ক (পাবনা নিউজ ২৪) | ২ জুলাই, ২০২৬
ইটের পর ইট, যান্ত্রিক কোলাহল আর কর্মব্যস্ত জীবনের ক্লান্তি মুছে দিতে প্রকৃতির চেয়ে বড় কোনো ওষুধ নেই। আর সেই প্রকৃতি যদি হয় পাহাড়, অরণ্য আর টলটলে জলের এক অপূর্ব মিতালী, তবে তো কথাই নেই! চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে অবস্থিত দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম কৃত্রিম হ্রদ ‘মহামায়া লেক’ (Mohamaya Lake) ঠিক এমনই এক স্বর্গরাজ্য। যেখানে জল আর পাহাড়ের মায়াজাল পর্যটকদের নিমেষেই মোহাবিষ্ট করে ফেলে।
পাবনা নিউজ ২৪-এর আজকের ভ্রমণ ফিচারে আমরা ঘুরে আসবো প্রকৃতির এই শান্ত স্নিগ্ধ কোল থেকে এবং জানবো কীভাবে কাটাবেন আপনার আগামী ছুটির দিনটি।
১. চোখ জুড়ানো সবুজ আর শান্ত জলের মিতালী
মহামায়া লেকের মূল সৌন্দর্য হলো এর চারপাশের আকাশচুম্বী সবুজ পাহাড় আর লেকের টলটলে শান্ত জল। পাহাড়ের বুক চিরে এঁকেবেঁকে চলে গেছে এই বিশাল হ্রদ। আপনি যখন নৌকায় বা কায়াকে চড়ে লেকের বুক চিরে এগিয়ে যাবেন, তখন মনে হবে কোনো দক্ষ শিল্পীর ক্যানভাসে আঁকা ছবির ভেতর দিয়ে চলছেন। চারদিকের নিস্তব্ধতা আর পাখির কলকাকলি আপনাকে যান্ত্রিক জীবনের সব ক্লান্তি ভুলিয়ে দেবে।
২. ঝরনার শীতল ছোঁয়া ও রোমাঞ্চ
মহামায়া লেকের ভেতরের দিকে রয়েছে একটি মনমুগ্ধকর প্রাকৃতিক ঝরনা। বোট নিয়ে লেকের একদম শেষ প্রান্তে পৌঁছালে পাহাড়ের ওপর থেকে আছড়ে পড়া ঝরনার ধারা দেখতে পাওয়া যায়। ঝরনার শীতল পানিতে গা ভেজানো কিংবা পাথুরে ট্রেইল ধরে কিছুটা ট্রেকিং করার রোমাঞ্চ অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমীদের জন্য এক দারুণ অভিজ্ঞতা।
৩. কায়াকিং: রোমাঞ্চের এক নতুন মাত্রা
মহামায়া লেক এখন তরুণ প্রজন্মের কাছে অন্যতম জনপ্রিয় কায়াকিং (Kayaking) স্পট। লাইফ জ্যাকেট গায়ে চাপিয়ে নিজের হাতে দাঁড় টেনে লেকের শান্ত জলে ভেসে বেড়ানোর অনুভূতি একদমই অন্যরকম। বন্ধুবান্ধব বা পরিবারের সাথে শান্ত বিকেলে কায়াকিং করার স্মৃতি দীর্ঘদিন মনে রাখার মতো।
৪. কীভাবে যাবেন এবং খরচ কেমন?
ঢাকা বা দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে চট্টগ্রামগামী যেকোনো বাসে চড়ে নেমে যেতে হবে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের ঠাকুরদীঘি বাজারে। সেখান থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশা নিয়ে মাত্র ১০-১৫ মিনিটেই পৌঁছে যাওয়া যায় মহামায়া লেকের মূল প্রবেশদ্বারে।
- প্রবেশ মূল্য: জনপ্রতি টিকিট কেটে ভেতরে প্রবেশ করতে হয়।
- বোট ও কায়াকিং: ইঞ্জিন চালিত বোট ও কায়াকিংয়ের জন্য ঘণ্টা মেপে নির্দিষ্ট ভাড়া রয়েছে, যা বেশ সাশ্রয়ী।
পরিবেশ রক্ষায় আমাদের দায়িত্ব:
মহামায়া লেক আমাদের দেশের একটি প্রাকৃতিক সম্পদ। তাই ভ্রমণের সময় প্লাস্টিকের বোতল, চিপসের প্যাকেট বা ওয়ান-টাইম প্লেট লেকের পানিতে বা পাহাড়ে ফেলে এর সৌন্দর্য ও পরিবেশ নষ্ট করবেন না।
পাবনা নিউজ ২৪-এর শেষ কথা
কম সময়ে এবং স্বল্প খরচে প্রকৃতির খুব কাছাকাছি গিয়ে একটু মানসিক শান্তি পেতে চাইলে মহামায়া লেকের কোনো বিকল্প নেই। আগামী উইকেন্ডেই প্ল্যান করে ফেলতে পারেন এই মায়াবী লেক ভ্রমণের।
ভ্রমণ কাহিনী, দেশের দর্শনীয় স্থান, লাইফস্টাইল এবং দেশ-বিদেশের সব তাজা খবর সবার আগে পেতে চোখ রাখুন পাবনা নিউজ ২৪-এর পর্দায়।