আন্তর্জাতিক ডেস্ক (পাবনা নিউজ ২৪) | ২ জুলাই, ২০২৬
বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন ও অনিয়ন্ত্রিত তাপমাত্রা বৃদ্ধির খেসারত দিতে হচ্ছে পুরো বিশ্বকে। এবার গ্রীষ্মের শুরুতেই তীব্র দাবদাহ ও একের পর এক ভয়াবহ দাবানলে (Wildfire) লণ্ডভণ্ড হয়ে পড়েছে ইউরোপের একাধিক দেশ। পরিস্থিতি এতটাই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে যে, ফ্রান্স এবং যুক্তরাজ্যসহ বেশ কয়েকটি দেশে সর্বোচ্চ ‘রেড অ্যালার্ট’ (Red Alert) বা লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
পাবনা নিউজ ২৪-এর আন্তর্জাতিক ডেস্ক থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে জানা যাচ্ছে, তীব্র গরমে ইউরোপের জনজীবন পুরোপুরি থমকে গেছে।
১. দাবানলের গ্রাসে ফ্রান্সের বনাঞ্চল
দক্ষিণ ও পশ্চিম ফ্রান্সের বিস্তীর্ণ বনাঞ্চল এখন আগুনের লেলিহান শিখায় পুড়ছে। তীব্র বাতাস এবং শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে দাবানল খুব দ্রুত লোকালয়ের দিকে ছড়িয়ে পড়ছে। অগ্নিনির্বাপক বাহিনীর হাজার হাজার সদস্য দিনরাত চেষ্টা করেও আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে হিমশিম খাচ্ছেন। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উপদ্রুত অঞ্চলগুলো থেকে ইতোমধ্যে হাজার হাজার বাসিন্দা ও পর্যটককে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। দেশটির আবহাওয়া দপ্তর জরুরি প্রয়োজন ছাড়া সাধারণ মানুষকে ঘরের বাইরে বের না হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
২. যুক্তরাজ্যে তাপমাত্রার নতুন রেকর্ড ও রেড অ্যালার্ট
গ্রীষ্মপ্রধান দেশ না হওয়া সত্ত্বেও যুক্তরাজ্যের আবহাওয়া এখন চরম বৈরী রূপ ধারণ করেছে। ইতিহাসের অন্যতম তীব্র তাপপ্রবাহের (Heatwave) মুখোমুখি হয়ে দেশটিতে সর্বোচ্চ স্বাস্থ্য ও আবহাওয়া সতর্কতা বা ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করা হয়েছে। তীব্র গরমের কারণে দেশটির রেললাইন ও বিমানবন্দরের রানওয়ে গলে যাওয়ার উপক্রম হওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। হাসপাতালগুলোতে হিট স্ট্রোক এবং ডিহাইড্রেশনে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা হু হু করে বাড়ছে।
৩. ইউরোপজুড়ে একই হাহাকার
শুধু ফ্রান্স বা যুক্তরাজ্যই নয়; স্পেন, পর্তুগাল, ইতালি এবং গ্রিসের অবস্থাও একই রকম শোচনীয়। তাপমাত্রা অনেক জায়গায় ৪০ থেকে ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ঘর ছাড়িয়ে গেছে। নদী ও ভূগর্ভস্থ পানির স্তর আশঙ্কাজনকভাবে নিচে নেমে যাওয়ায় অনেক অঞ্চলে তীব্র পানির সংকট দেখা দিয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলো এই দুর্যোগকে জলবায়ু পরিবর্তনের অন্যতম স্পষ্ট ও ভয়াবহ প্রমাণ হিসেবে দেখছে।
কেন এই চরম আবহাওয়া? বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ:
পরিবেশ বিজ্ঞানীদের মতে, কার্বন নিঃসরণ বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক উষ্ণায়নের (Global Warming) ফলেই ইউরোপে এখন ঘন ঘন এবং দীর্ঘমেয়াদী তাপপ্রবাহ দেখা দিচ্ছে। আল্পস পর্বতমালার হিমবাহগুলো দ্রুত গলে যাওয়া এবং মাটির শুষ্কতা এই দাবানলকে আরও উস্কে দিচ্ছে। বিশ্ব নেতারা যদি এখনই কার্বন নির্গমন কমাতে কঠোর পদক্ষেপ না নেন, তবে আগামীতে এই পরিস্থিতি আরও ভয়ঙ্কর রূপ নেবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
পাবনা নিউজ ২৪-এর শেষ কথা
ইউরোপের এই ভয়াবহ পরিস্থিতি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, জলবায়ু পরিবর্তন কোনো দূরের ভবিষ্যৎ নয়, এটি বর্তমানের এক নির্মম বাস্তবতা। উন্নত দেশগুলোর এই বিপর্যয় উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্যও এক বড় সতর্কবার্তা। প্রকৃতিকে বাঁচাতে বিশ্বজুড়ে এখনই সম্মিলিত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
আন্তর্জাতিক রাজনীতি, বৈশ্বিক জলবায়ু, আবহাওয়া আপডেট এবং দেশ-বিদেশের সব তাজা খবর সবার আগে পেতে চোখ রাখুন পাবনা নিউজ ২৪-এর পর্দায়।