Home পরিবেশ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সংকট: হাজার টন বর্জ্য জমেও মিলছে না জ্বালানি ও অর্থনৈতিক সুবিধা

বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সংকট: হাজার টন বর্জ্য জমেও মিলছে না জ্বালানি ও অর্থনৈতিক সুবিধা

0
বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সংকট: হাজার টন বর্জ্য জমেও মিলছে না জ্বালানি ও অর্থনৈতিক সুবিধা

অনলাইন ডেস্ক (পাবনা নিউজ ২৪) | ২ জুলাই, ২০২৬

বাংলাদেশ বর্তমানে দ্রুত নগরায়ণ এবং শিল্পায়নের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু এই উন্নয়নের হাত ধরে প্রতিদিন দেশজুড়ে জমা হচ্ছে হাজার হাজার টন বর্জ্য বা ময়লা-আবর্জনা। রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে জেলা শহর পাবনা—সবখানেই এখন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা (Waste Management) এক বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক বিশ্বে বর্জ্যকে যেখানে মূল্যবান সম্পদে রূপান্তর করা হচ্ছে, সেখানে বাংলাদেশে সঠিক পরিকল্পনার অভাবে এই বিশাল বর্জ্য থেকে এখনো জ্বালানি ও অর্থনৈতিক সুবিধা পুরোপুরি আদায় করা সম্ভব হচ্ছে না।

পাবনা নিউজ ২৪-এর আজকের বিশেষ প্রতিবেদনে থাকছে দেশের বর্তমান বর্জ্য সংকট এবং এর ভেতরের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত।

১. ল্যান্ডফিলে জমছে হাজার টন ময়লা, বাড়ছে পরিবেশ দূষণ

দেশের বড় শহরগুলোর বর্জ্য সাধারণত নির্দিষ্ট ল্যান্ডফিল বা খোলা জায়গায় স্তূপ করে রাখা হয়। প্রতিদিন যে পরিমাণ গৃহস্থালি, প্লাস্টিক ও মেডিকেল বর্জ্য তৈরি হচ্ছে, তা বৈজ্ঞানিক উপায়ে রিসাইকেল (Recycle) করা হচ্ছে না। ফলে এই বিশাল ময়লার ভাগাড়গুলো থেকে নির্গত হচ্ছে বিষাক্ত মিথেন গ্যাস, যা বায়ুমণ্ডলের ক্ষতি করছে। পাশাপাশি বৃষ্টির পানির সাথে মিশে ক্ষতিকর কেমিক্যাল ভূগর্ভস্থ পানি এবং আশেপাশের জলাশয়ের পানিকে মারাত্মকভাবে দূষিত করছে।

২. ‘বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ’ ও জ্বালানি খাতের অপূর্ণ সম্ভাবনা

আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে বর্জ্য পুড়িয়ে বা প্রসেস করে বায়োগ্যাস, জৈব সার এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব।

  • বিদ্যুৎ উৎপাদন: উন্নত দেশগুলো বর্জ্য থেকে শত শত মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করে তাদের জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করছে। বাংলাদেশে এ নিয়ে কিছু প্রকল্প হাতে নেওয়া হলেও তার গতি অত্যন্ত ধীর, যার ফলে এই খাতের সুবিধা এখনো সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছায়নি।
  • জ্বালানি সংকট নিরসন: বর্তমান বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের বাজারে বর্জ্য থেকে তৈরি বায়োগ্যাস বা কমপোজড ফুয়েল আমাদের এলপিজি বা প্রাকৃতিক গ্যাসের ওপর নির্ভরতা অনেকাংশে কমাতে পারতো। কিন্তু সরকারি-বেসরকারি সমন্বয়ের অভাবে এই সম্ভাবনা আলোর মুখ দেখছে না।

৩. হাতছাড়া হচ্ছে কোটি কোটি টাকার অর্থনৈতিক সুবিধা

প্লাস্টিক, কাগজ, কাচ এবং ই-বর্জ্য (E-waste) সঠিকভাবে আলাদা করে পুনরায় ব্যবহার উপযোগী করা গেলে দেশে এক বিশাল সার্কুলার ইকনোমি (Circular Economy) বা চক্রাকার অর্থনীতি গড়ে তোলা সম্ভব।

  • বর্জ্য রিসাইক্লিং শিল্পের মাধ্যমে দেশে হাজার হাজার নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতে পারে।
  • আমদানিকৃত সারের বিকল্প হিসেবে বর্জ্য থেকে উৎপাদিত উন্নতমানের জৈব সার কৃষিখাতে বিপ্লব ঘটাতে পারে, যা দেশের কোটি কোটি বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করবে।

সংকট উত্তরণে করণীয়: বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ

১. উৎসস্থলে বর্জ্য পৃথকীকরণ: প্রতিটি বাসা-বাড়ি এবং কলকারখানা থেকে পচনশীল ও অপচনশীল বর্জ্য শুরুতেই আলাদা করার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। ২. আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার: বর্জ্য থেকে জ্বালানি ও সার তৈরির জন্য বড় বড় শহরগুলোতে দ্রুত আধুনিক প্ল্যান্ট স্থাপন করতে হবে। ৩. জনসচেতনতা ও কঠোর আইন: যত্রতত্র ময়লা বা প্লাস্টিক ফেলা বন্ধে নাগরিকদের সচেতন করার পাশাপাশি সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভাগুলোকে আইনি কড়াকড়ি আরোপ করতে হবে।

পাবনা নিউজ ২৪-এর শেষ কথা

বর্জ্য কোনো ফেলনা বস্তু নয়, সঠিক পরিকল্পনা থাকলে এটিই হতে পারে দেশের নতুন অর্থনৈতিক হাতিয়ার। ঢাকাসহ দেশের প্রতিটি প্রান্তে আধুনিক ও সাস্টেইনেবল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি। বর্জ্যকে অভিশাপ না বানিয়ে একে সম্পদে রূপান্তর করতে পারলে বাংলাদেশ টেকসই উন্নয়নের পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে।

অর্থনীতি, পরিবেশ, জলবায়ু, রাজনীতি এবং দেশ-বিদেশের সব তাজা খবর সবার আগে পেতে চোখ রাখুন পাবনা নিউজ ২৪-এর পর্দায়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here