Home খেলাধুলা তারকার চেয়ে বড় দল: হেক্সা জয়ের স্বপ্নে ব্রাজিলের নতুন অস্ত্র কার্লো আনচেলত্তি

তারকার চেয়ে বড় দল: হেক্সা জয়ের স্বপ্নে ব্রাজিলের নতুন অস্ত্র কার্লো আনচেলত্তি

0
তারকার চেয়ে বড় দল: হেক্সা জয়ের স্বপ্নে ব্রাজিলের নতুন অস্ত্র কার্লো আনচেলত্তি

বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে সফল দল হয়েও গত দুই দশক ধরে এক অদ্ভুত ট্রফি খরায় ভুগছে ব্রাজিল। ২০০২ সালের পর থেকে প্রতিবারই ‘হেক্সা’ বা ষষ্ঠ বিশ্বকাপ জয়ের মিশন শুরু হয় আকাশচুম্বী প্রত্যাশা আর তারকাদের মেলা নিয়ে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত মাঠ ছাড়তে হয় হতাশা নিয়ে। তবে এবার ব্রাজিলের হেক্সা জয়ের স্বপ্নে যোগ হয়েছে এক নতুন সমীকরণ, এক নতুন রণকৌশল। যার কেন্দ্রে কোনো ড্রিবলিং মাস্টার বা গোলমেশিন স্ট্রাইকার নন, বরং ডাগআউটে দাঁড়িয়ে থাকা এক মাস্টারমাইন্ড—কার্লো আনচেলত্তি।

ব্রাজিল ফুটবল ফেডারেশনের (CBF) দীর্ঘ প্রতীক্ষা আর নাটকীয়তার অবসান ঘটিয়ে সেলেসাওদের ডাগআউটে এখন এই ইতালিয়ান ডন। আর তার অধীনে ব্রাজিলের মূল মন্ত্র একটাই—”তারকার চেয়ে বড় দল।”

একক নির্ভরতা থেকে দলগত ফুটবলে রূপান্তর

গত কয়েক বিশ্বকাপে ব্রাজিলের অন্যতম প্রধান সমস্যা ছিল ‘নেইমার-নির্ভরতা’ বা অতিমাত্রায় একক কোনো তারকার ওপর ভরসা করা। আনচেলত্তি দায়িত্ব নিয়েই এই সংস্কৃতিতে বড় পরিবর্তন এনেছেন। রিয়াল মাদ্রিদে যেভাবে তিনি ভিনিসিউস জুনিয়র, রদ্রিগো কিংবা জুড বেলিংহামদের ব্যক্তিগত প্রতিভাকে দলের প্রয়োজনে খাপ খাইয়েছেন, ঠিক একই ফর্মুলা তিনি প্রয়োগ করছেন সেলেসাওদের ওপরেও।

এখানে কেউ এককভাবে নায়ক নন; বরং প্রত্যেকেই দলের এক একজন অবিচ্ছেদ্য অংশ। মাঠের ১১ জন এবং সাইড বেঞ্চের শক্তিকে এক সুতোয় বেঁধে তিনি তৈরি করেছেন এক অপরাজেয় দলগত রসায়ন।

আনচেলত্তি কেন ব্রাজিলের ‘হেক্সা’ জয়ের সেরা অস্ত্র?

১. চ্যাম্পিয়ন মানসিকতা: ক্লাব ফুটবলের ইতিহাসে সবচেয়ে সফল কোচদের একজন আনচেলত্তি। চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয় কিংবা ইউরোপের শীর্ষ ৫ লিগ জয়ের অনন্য অভিজ্ঞতা তার রয়েছে। কীভাবে বড় ম্যাচের চাপ সামলাতে হয় এবং খেলোয়াড়দের মনস্তাত্ত্বিক রূপান্তর ঘটাতে হয়, তা তার চেয়ে ভালো কেউ জানে না।

২. তারকাদের ড্রেসিংরুম সামলানোর জাদু: ব্রাজিলের মতো হাই-প্রোফাইল ড্রেসিংরুমে ইগো বা অহংবোধের লড়াই নতুন কিছু নয়। আনচেলত্তি তার শান্ত স্বভাব এবং ‘ফাদার ফিগার’ বা অভিভাবকসুলভ আচরণ দিয়ে রিয়াল মাদ্রিদ ও মিলানের ড্রেসিংরুম শান্ত রেখেছিলেন। ব্রাজিলের তরুণ ও অভিজ্ঞ ফুটবলারদের মধ্যেও তিনি তৈরি করেছেন পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ।

৩. কৌশলগত নমনীয়তা: ব্রাজিলের ঐতিহ্যবাহী ‘জোগো বোনিতো’ বা সুন্দর ফুটবলের ধারক তারা। কিন্তু আধুনিক ফুটবলে শুধু সুন্দর খেললেই জেতা যায় না, প্রয়োজন নিখুঁত ট্যাকটিকস। আনচেলত্তি ব্রাজিলের আক্রমণাত্মক সহজাত প্রবৃত্তিকে ধরে রেখে ডিফেন্সে এনেছেন ইউরোপীয় ঘরানার কঠোর শৃঙ্খলা।

ফুটবল বিশেষজ্ঞদের মতে: “ব্রাজিলের ফুটবলারদের স্কিল নিয়ে কখনো সংশয় ছিল না, অভাব ছিল একজন সঠিক পথপ্রদর্শকের। আনচেলত্তি ঠিক সেই অভাবটাই পূরণ করছেন।”

মিশন ২০২৬: সাম্বার ছন্দে ইউরোপীয় ডিসিপ্লিন

চলতি ২০২৬ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের মাঠের পারফরম্যান্স পরিষ্কার বার্তা দিচ্ছে—এই দলটা আর আগের মতো আবেগতাড়িত নয়। গ্রুপ পর্ব থেকে শুরু করে নকআউটের প্রতিটি ধাপে আনচেলত্তির কৌশলের ছাপ স্পষ্ট। আক্রমণভাগে গতি যেমন আছে, মাঝমাঠে বল ধরে রাখার নিয়ন্ত্রণ এবং রক্ষণভাগে ইস্পাতকঠিন দেয়াল—সব মিলিয়ে এক ভারসাম্যপূর্ণ ব্রাজিলকে দেখছে বিশ্ব।

হেক্সা জয়ের এই দীর্ঘ পথযাত্রায় ব্রাজিল এবার এক নতুন দর্শন নিয়ে এগোচ্ছে। ব্যক্তি নয়, দলের জয়ই যেখানে শেষ কথা। আর এই নতুন অস্ত্রের হাত ধরেই কোটি কোটি সেলেসাও ভক্তরা বুক বাঁধছেন তাদের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ ট্রফি উঁচিয়ে ধরার স্বপ্নে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here