বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন ও সমৃদ্ধ রন্ধনশৈলীর নাম খেমার বা কম্বোডিয়ান খাবার। আর এই খেমার রান্নার অবিচ্ছেদ্য এবং সবচেয়ে জনপ্রিয় একটি উপাদানের নাম ‘স্টিকি রাইস’ (Sticky Rice) বা আঠালো চালের ভাত। কম্বোডিয়ায় যেকোনো বড় উৎসব, বিশেষ করে খেমার নববর্ষ কিংবা ঐতিহ্যবাহী পুচুম বেন (Pchum Ben) উৎসবে স্টিকি রাইস ছাড়া যেন ভূরিভোজের কথা চিন্তাই করা যায় না।
রেস্তোরাঁয় গিয়ে তো অনেক বিদেশি খাবারই ট্রাই করা হয়, তবে কেমন হয় যদি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই রাজকীয় খেমার স্বাদ আজ ঘরেই তৈরি করে নেওয়া যায়? খুব সাধারণ কিছু উপাদানে কীভাবে একদম নিখুঁত কম্বোডিয়ান স্টাইলের স্টিকি রাইস তৈরি করবেন, রইল তার সহজ রেসিপি।
খেমার স্টিকি রাইসের আসল রহস্য
খেমার স্টিকি রাইস সাধারণ ভাতের মতো পানিতে ফুটিয়ে রান্না করা হয় না। কম্বোডিয়ান ঐতিহ্যের আসল টেক্সচার ও স্বাদ পেতে হলে চালটিকে প্রথমে দীর্ঘ সময় ভিজিয়ে রেখে তারপর বাষ্পে বা স্টিমে (Steam) সেদ্ধ করতে হয়। এর ফলে ভাতটি নরম ও আঠালো হয়, কিন্তু একে অপরের সাথে লেপ্টে কাদা হয়ে যায় না।
প্রয়োজনীয় উপকরণ
ঘরে খাস খেমার স্বাদ আনতে আপনার প্রয়োজন হবে:
খেমার স্টিকি রাইস ( Glutinous Rice / আঠালো চাল): ২ কাপ
নারকেলের দুধ (Coconut Milk): ১ কাপ (খাঁটি ও ঘন হলে সবচেয়ে ভালো)
চিনি: ৩-৪ টেবিল চামচ (স্বাদ অনুযায়ী)
লবণ: আধা চা চামচ
কলা পাতা: (ঐচ্ছিক, পরিবেশন ও সুগন্ধের জন্য)
ধাপে ধাপে প্রস্তুত প্রণালী
ধাপ ১: চাল ভিজিয়ে রাখা (সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ)
প্রথমে স্টিকি রাইস ভালো করে ধুয়ে নিন যতক্ষণ না পানি পরিষ্কার দেখায়। এবার চালগুলো পর্যাপ্ত পানিতে কমপক্ষে ৪ থেকে ৬ ঘণ্টা (সম্ভব হলে সারারাত) ভিজিয়ে রাখুন। চাল যত ভালো ভিজবে, খেমার স্টাইলের আসল টেক্সচার তত নিখুঁত হবে।
ধাপ ২: স্টিম বা বাষ্পে সেদ্ধ করা
ভিজিয়ে রাখা চালের পানি ঝরিয়ে নিন। এবার একটি স্টিমার বা মোমো ম্যাকার অথবা ডেকচির ওপর সুতি পাতলা কাপড় বা কলা পাতা বিছিয়ে তার ওপর চালগুলো ছড়িয়ে দিন। ঢাকনা বন্ধ করে মাঝারি আঁচে ২০ থেকে ২৫ মিনিট স্টিম করুন। মাঝপথে একবার চালগুলো হালকা উল্টে-পাল্টে দিতে পারেন।
ধাপ ৩: নারকেলের দুধের সস তৈরি
চাল সেদ্ধ হতে হতে অন্য একটি পাত্রে ঘন নারকেলের দুধ, চিনি এবং লবণ একসাথে মিশিয়ে হালকা আঁচে ২-৩ মিনিট গরম করে নিন। চিনি গলে গেলেই চুলা বন্ধ করে দিন (দুধ যেন ফুটে ঘন না হয়ে যায়)।
ধাপ ৪: আসল মেলবন্ধন
স্টিম করা গরম ভাত একটি ছড়ানো পাত্রে ঢালুন। এবার গরম থাকা অবস্থাতেই তৈরি করে রাখা নারকেলের দুধের মিশ্রণটি অল্প অল্প করে ভাতের ওপর ঢেলে আলতো হাতে মিশিয়ে নিন। মেশানো হয়ে গেলে পাত্রটি ১০-১৫ মিনিটের জন্য ঢেকে রাখুন। এই সময়ে চালের ভেতরের অংশ নারকেলের সবটুকু রস চুষে নেবে এবং ভাত হয়ে উঠবে দারুণ সুগন্ধি ও মায়াবী আঠালো।
পরিবেশন শৈলী
কম্বোডিয়ায় এই খেমার স্টিকি রাইস সাধারণত মিষ্টি পাকা আম (Mango Sticky Rice) কিংবা কাঁঠালের সাথে ডেজার্ট হিসেবে খাওয়া হয়। আবার অনেক সময় এর ওপর একটু ভাজা তিল ছিটিয়ে কলা পাতায় মুড়িয়ে পরিবেশন করা হয়। চাইলে হালকা কোনো মাংসের কারির সাথেও এটি দারুণ জমে যায়।
তাহলে আর দেরি কেন? আজই রান্নাঘরে তৈরি করে ফেলুন খাস খেমার স্বাদের এই স্টিকি রাইস আর বাড়ির সবাইকে দিন কম্বোডিয়ান আভিজাত্যের এক দারুণ সারপ্রাইজ!