Home লাইফস্টাইল ফেসবুক-টিকটক ছাড়া টানা ৭ দিন: সোশ্যাল মিডিয়া ‘ডিটক্স’ করলে শরীরে ও মনে যা ঘটে!

ফেসবুক-টিকটক ছাড়া টানা ৭ দিন: সোশ্যাল মিডিয়া ‘ডিটক্স’ করলে শরীরে ও মনে যা ঘটে!

0
ফেসবুক-টিকটক ছাড়া টানা ৭ দিন: সোশ্যাল মিডিয়া ‘ডিটক্স’ করলে শরীরে ও মনে যা ঘটে!
অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম আমাদের মস্তিষ্কের শান্তি কেড়ে নেয়; সোশ্যাল মিডিয়া ডিটক্সের মাধ্যমে ফিরে পাওয়া সম্ভব জীবনের আসল আনন্দ।

পাবনা নিউজ ২৪

সকালে চোখ মেলা থেকে শুরু করে রাতে ঘুমাতে যাওয়া পর্যন্ত—আমাদের দিনের একটা বড় অংশ কেটে যায় ফেসবুকের নিউজফিড স্ক্রোল করতে করতে কিংবা টিকটকের ১৫ সেকেন্ডের ভিডিওর নেশায়। অজান্তেই আমরা জড়িয়ে পড়েছি এক অবাস্তব ভার্চুয়াল জগতের গোলকধাঁধায়। কিন্তু কখনো কি ভেবে দেখেছেন, এই যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আমরা স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকছি, তা আমাদের অজান্তেই শরীর ও মনের কতটা ক্ষতি করছে?

বর্তমানে বিশ্বজুড়ে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে একটি নতুন ট্রেন্ড বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে, যার নাম ‘সোশ্যাল মিডিয়া ডিটক্স’ (Social Media Detox)। এর মানে হলো—একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম বা টিকটকের মতো প্ল্যাটফর্মগুলো থেকে সম্পূর্ণ দূরে থাকা। বিজ্ঞান বলছে, যদি আপনি মাত্র এক সপ্তাহের জন্য এই সোশ্যাল মিডিয়ার মায়া ত্যাগ করতে পারেন, তবে আপনার শরীরে ও মনে এমন কিছু জাদুকরী পরিবর্তন আসবে যা আপনাকে অবাক করবে। চলুন জেনে নেওয়া যাক বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা ও বাস্তব কিছু অভিজ্ঞতার আলোকে, টানা ৭ দিন সোশ্যাল মিডিয়া ছাড়া থাকলে কী ঘটে।

১. ডোপামিন হরমোনের ভারসাম্য ও মানসিক শান্তি (প্রথম ২ দিন)

আমাদের ফেসবুকে কোনো ছবিতে লাইক পড়লে বা টিকটকে ভিউ বাড়লে মস্তিষ্কে ‘ডোপামিন’ (Dopamine) নামক একটি ‘ফিল গুড’ হরমোন ক্ষরিত হয়। একে বলা হয় এক ধরণের সাময়িক সস্তা আনন্দ। যখনই আমরা ফোন থেকে দূরে থাকি, মস্তিষ্ক এই কৃত্রিম ডোপামিন মিস করতে শুরু করে, যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে ‘উইথড্রয়াল সিম্পটম’ বলে।

বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে দেখা গেছে, ডিটক্সের প্রথম ও দ্বিতীয় দিন কিছুটা একাকীত্ব বা অস্থিরতা লাগতে পারে। কিন্তু তৃতীয় দিন থেকেই মস্তিষ্ক তার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে শুরু করে। অবাস্তব তুলনা ও হিংসা কমে যাওয়ার ফলে এক ধরণের অদ্ভুত মানসিক শান্তি অনুভূত হয়।

২. ঘুম হবে গভীর ও ক্লান্তিহীন (৩য় থেকে ৪র্থ দিন)

ফোনের নীল আলো বা ‘ব্লু লাইট’ (Blue Light) আমাদের শরীরে ‘মেলাটোনিন’ (Melatonin) নামক ঘুমের হরমোন তৈরিতে বাধা দেয়। ঘুমানোর আগে ফেসবুক বা টিকটক স্ক্রোল করার কারণে আমাদের গভীর ঘুম বা ‘REM Sleep’ ব্যাহত হয়।

বিজ্ঞানীদের মতে, টানা ৩ থেকে ৪ দিন ঘুমানোর আগে ফোন ব্যবহার না করলে মেলাটোনিন হরমোন স্বাভাবিক নিয়মে ক্ষরিত হয়। ফলে খুব দ্রুত ঘুম চলে আসে এবং সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর শরীরকে অনেক বেশি সতেজ ও ক্লান্তিহীন মনে হয়। যারা ইনসোমনিয়া বা অনিদ্রায় ভুগছেন, তাদের জন্য এটি একটি প্রাকৃতিক ওষুধ।

৩. মনোযোগ ও কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি (৫ম দিন)

আমরা যখন কোনো কাজ করি এবং বারবার নোটিফিকেশনের টোনে ফোন চেক করি, তখন আমাদের মনোযোগের একাগ্রতা (Attention Span) নষ্ট হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, একজন গড়পড়তা মানুষ দিনে প্রায় ১৫০ বারের বেশি ফোন চেক করে!

টানা ৫ দিন সোশ্যাল মিডিয়া থেকে দূরে থাকলে আপনার কাজের ফোকাস অবিশ্বাস্যভাবে বেড়ে যাবে। যে কাজটি করতে আগে ৩ ঘণ্টা লাগত, সেটি আপনি মাত্র ১ বা ১.৫ ঘণ্টায় শেষ করতে পারবেন। আপনার সৃজনশীলতা এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা অনেক গুণ বৃদ্ধি পাবে।

৪. বাস্তব সম্পর্ক ও আত্মবিশ্বাস পুনরুদ্ধার (৬ষ্ঠ ও ৭ম দিন)

সোশ্যাল মিডিয়ার লাইক-কমেন্টের সংখ্যা দিয়ে আমরা অনেকেই নিজের যোগ্যতা বিচার করতে শুরু করি, যা আমাদের আত্মবিশ্বাস কমিয়ে দেয়। একে বলা হয় FOMO (Fear of Missing Out) বা পিছিয়ে পড়ার ভয়।

ডিটক্সের শেষ দুই দিনে বাস্তব অভিজ্ঞতা বলে, মানুষ তার পরিবার, বন্ধু এবং নিজের সাথে কোয়ালিটি টাইম কাটাতে শুরু করে। ভার্চুয়াল বন্ধুদের চেয়ে বাস্তবের মুখোমুখি আড্ডা বা গল্প আপনার মনকে অনেক বেশি প্রফুল্ল করে তোলে। নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাস ফিরে আসে এবং মানুষ বুঝতে পারে যে ফেসবুকের লাইক-কমেন্ট ছাড়াও জীবনটা অনেক সুন্দর ও অর্থবহ।

শেষ কথা: কীভাবে শুরু করবেন এই চ্যালেঞ্জ?

৭ দিনের এই সোশ্যাল মিডিয়া ডিটক্স আপনার জীবনকে নতুন করে চিনতে শেখাবে। শুরু করার জন্য খুব কঠিন কিছু করতে হবে না:

  • ফোন থেকে সাময়িকভাবে ফেসবুক ও টিকটক অ্যাপটি আনইনস্টল করে দিন।
  • নোটিফিকেশন সম্পূর্ণ বন্ধ বা ‘Do Not Disturb’ মুডে রাখুন।
  • সোশ্যাল মিডিয়ার পরিবর্তে বই পড়া, গাছ লাগানো বা নতুন কোনো শখের কাজ শুরু করুন।

তাহলে আর দেরি কেন? আজই নিজের শরীর আর মনের রিফ্রেশমেন্টের জন্য “৭ দিনের সোশ্যাল মিডিয়া ডিটক্স চ্যালেঞ্জ” নিয়ে নিন। আপনার জীবন বদলে দেওয়ার জন্য এই এক সপ্তাহই যথেষ্ট হতে পারে!

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here