Home বিশ্ব ইউরোপে তাপপ্রবাহের নতুন রেকর্ড: ৪০ ডিগ্রি ছাড়ালো তাপমাত্রা, আজই জারি হলো সর্বোচ্চ সতর্কতা

ইউরোপে তাপপ্রবাহের নতুন রেকর্ড: ৪০ ডিগ্রি ছাড়ালো তাপমাত্রা, আজই জারি হলো সর্বোচ্চ সতর্কতা

0
ইউরোপে তাপপ্রবাহের নতুন রেকর্ড: ৪০ ডিগ্রি ছাড়ালো তাপমাত্রা, আজই জারি হলো সর্বোচ্চ সতর্কতা
ইউরোপজুড়ে তীব্র তাপপ্রবাহে জনজীবন বিপর্যস্ত; বিভিন্ন দেশে জারি করা হয়েছে স্বাস্থ্য সতর্কতা।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | পাবনা নিউজ ২৪

 ২৭ জুন ২০২৬

চলতি গ্রীষ্মে চরম আবহাওয়ার এক ভয়াবহ রূপ দেখছে পুরো ইউরোপ। আজ (শনিবার) মহাদেশটির একাধিক দেশে তাপমাত্রা অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে ৪০ থেকে ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের গণ্ডি পার করেছে। জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি, স্পেন ও যুক্তরাজ্যের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে আজ সকাল থেকেই তীব্র দাবদাহ শুরু হয়, যা দুপুরের দিকে চরম আকার ধারণ করে। পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি হওয়ায় আজই বেশ কয়েকটি দেশের আবহাওয়া দপ্তর ও স্বাস্থ্য বিভাগ যৌথভাবে সর্বোচ্চ জরুরি অবস্থা বা ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করেছে। নাগরিকদের জন্য স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে—খুব বেশি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া যেন কেউ ঘরের বাইরে পা না বাড়ান।আবহাওয়াবিদদের মতে, আজ জলবায়ু পরিবর্তনের এক নির্মম বাস্তবতার সাক্ষী হচ্ছে ইউরোপ। স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে তাপমাত্রা এবার প্রায় ৬ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি রেকর্ড করা হয়েছে। বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, বৈশ্বিক উষ্ণতা নিয়ন্ত্রণে এখনই কঠোর পদক্ষেপ না নিলে এই দাবদাহ আগামী দিনগুলোতে আরও দীর্ঘস্থায়ী রূপ নিতে পারে।

আজ স্তব্ধ ইউরোপের প্রধান শহরগুলো: বদলে গেছে জীবনযাত্রা

আজ দুপুরের পর থেকেই ইউরোপের প্যারিস, মাদ্রিদ, রোম এবং বার্লিনের মতো ব্যস্ততম শহরগুলোর রাস্তাঘাট প্রায় জনশূন্য হয়ে পড়েছে। তীব্র গরম ও হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি এড়াতে স্থানীয় প্রশাসন আজ অনেক পাবলিক ট্রান্সপোর্ট বা গণপরিবহনের ট্রিপ সংখ্যা কমিয়ে দিয়েছে। কিছু কিছু দেশের রেললাইনে অতিরিক্ত তাপে পাত বেঁকে যাওয়ার আশঙ্কায় ট্রেন চলাচলের গতি সীমিত করা হয়েছে।শহরের নির্মাণশ্রমিক এবং যারা খোলা আকাশের নিচে কাজ করেন, তাদের জন্য আজ থেকেই বাধ্যতামূলক কর্মঘণ্টা পুনর্নির্ধারণ বা কাজ সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফ্রান্স ও স্পেনের কিছু এলাকায় বয়স্ক ও শিশুদের জন্য আজ জরুরি ভিত্তিতে বিশেষ ভ্রাম্যমাণ ‘শীতলীকরণ বুথ’ বা কুলিং স্টেশন চালু করা হয়েছে।

 হাসপাতালে রোগীর ঢল: চিকিৎসকদের জরুরি গাইডলাইন

আজ সকাল থেকেই ইউরোপের বড় বড় শহরের হাসপাতালগুলোতে জরুরি বিভাগে রোগীর সংখ্যা অস্বাভাবিক হারে বাড়তে দেখা গেছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, হাসপাতালে আসা অধিকাংশ রোগীই তীব্র পানিশূন্যতা (Dehydration), হিট এক্সহশন এবং হিট স্ট্রোকের শিকার।পরিস্থিতি সামাল দিতে আজ বিভিন্ন দেশের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে বিশেষ মেডিকেল গাইডলাইন জারি করা হয়েছে। চিকিৎসকদের পরামর্শ:

পিপাসা না লাগলেও প্রতি ঘণ্টায় অন্তত এক গ্লাস বিশুদ্ধ পানি বা ইলেকট্রোলাইট সমৃদ্ধ তরল পান করতে হবে।

চা, কফি বা অতিরিক্ত চিনিযুক্ত কোমল পানীয় সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলতে হবে, কারণ এগুলো শরীরকে আরও দ্রুত পানিশূন্য করে তোলে।

বাইরে বের হলে অবশ্যই হালকা রঙের, ঢিলেঢালা সুতি পোশাক পরতে হবে এবং ছাতা ও সানগ্লাস ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা উচিত।

শিশু, বয়োবৃদ্ধ, গর্ভবতী নারী এবং যারা আগে থেকেই জটিল রোগে ভুগছেন, তাদের আজ সম্পূর্ণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বা ঠান্ডা ঘরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বনাঞ্চলে দাবানলের রেড অ্যালার্ট ও বড় ইভেন্ট স্থগিত

টানা শুষ্ক আবহাওয়া এবং আজকের রেকর্ড ভাঙা তাপমাত্রার কারণে দক্ষিণ ইউরোপের বনাঞ্চলগুলোতে, বিশেষ করে স্পেন ও পর্তুগালে আজ নতুন করে দাবানলের (Wildfire) উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বনের কাছাকাছি বসবাসকারী বাসিন্দাদের আজ দুপুরের দিকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার জন্য স্থানীয় প্রশাসন থেকে অ্যালার্ট পাঠানো হয়েছে।পাশাপাশি, আজ ও আগামীকাল উন্মুক্ত স্থানে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বেশ কিছু আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, লাইভ কনসার্ট এবং ওপেন-এয়ার থিয়েটার শো বাতিল বা স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। আয়োজকরা জানিয়েছেন, এই তীব্র গরমে হাজার হাজার মানুষের সমাগম বড় ধরণের স্বাস্থ্য বিপর্যয় ঘটাতে পারে বলেই এই কঠিন সিদ্ধান্ত।

জলবায়ু গবেষকদের মতে, ইউরোপের আজকের এই চিত্র কোনো কাকতালীয় ঘটনা নয়। এটি মূলত বিশ্বব্যাপী নির্বিচারে কার্বন নিঃসরণের সরাসরি ফল। চরম ভাবাপন্ন আবহাওয়া এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি ঘন ঘন আঘাত হানছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ধরে রাখতে না পারলে, ২০৩০ সালের মধ্যে ইউরোপের প্রতিটি গ্রীষ্মকাল এমন অগ্নিগর্ভ রূপ নেবে। এর ফলে কৃষি খাতে বড় বিপর্যয় আসবে, দেখা দেবে তীব্র পানির সংকট এবং বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর ধারণাতীত চাপ সৃষ্টি হবে।

ইউরোপজুড়ে আজকের এই রেকর্ড ভাঙা তাপপ্রবাহ কেবল একটি মৌসুমী গরমের খবর নয়, এটি মানবজাতির জন্য প্রকৃতির এক চূড়ান্ত সতর্কবার্তা। পরিবেশ রক্ষায় আন্তর্জাতিক স্তরে বড় বড় পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি ব্যক্তিগত সচেতনতা বাড়ানো এখন সময়ের দাবি। প্রকৃতি যেভাবে রুদ্ররূপ ধারণ করছে, তাতে এখনই ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে মানুষের অস্তিত্বই বড় ধরণের হুমকির মুখে পড়বে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here