বিশ্ব ফুটবলের এক সময়ের অবিসংবাদিত পরাশক্তি জার্মানি গত কয়েকটি বড় টুর্নামেন্টে নিজেদের হারিয়ে খুঁজছিল। ডাই মানশাফটদের সেই চেনা ধার, আগ্রাসী মানসিকতা আর মাঠ কাঁপানো ফুটবল যেন রূপকথার গল্প হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তবে এবারের ইউরো কাপে ঘরের মাঠে দেখা যাচ্ছে সম্পূর্ণ এক বদলে যাওয়া জার্মানিকে। মাঠের পারফরম্যান্স, তরুণদের জয়জয়কার আর কৌশলী ফুটবল—সব মিলিয়ে জার্মান ফুটবলে এখন স্পষ্ট পরিবর্তনের হাওয়া। দীর্ঘদিন পর ড্রেসিংরুমে ফিরেছে স্বস্তি, আর সমর্থকদের মনে জেগেছে পুরোনো গৌরব ফিরে পাওয়ার আশা।
টানা কয়েকটি বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে গ্রুপ পর্ব ও নকআউটের শুরুতেই বিদায় নেওয়ার পর জার্মানির ফুটবল কাঠামো নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছিল। তবে কোচ হুলিয়ান নাগেলসম্যানের হাত ধরে দলটিতে এখন চলছে এক দুর্দান্ত পুনর্গঠন প্রক্রিয়া। পুরোনোদের অভিজ্ঞতার সাথে তরুণদের গতির মিশ্রণে এক অপরাজেয় দল গঠনে মনোযোগী হয়েছেন তিনি।
জার্মান ফুটবলের এই রূপান্তরের মূল চালিকাশক্তি:
- তরুণ প্রজন্মের উত্থান: জামাল মুসিয়ালা এবং ফ্লোরিয়ান ভির্টজের মতো তরুণ তুর্কিরা মাঝমাঠ ও আক্রমণভাগের হাল ধরেছেন। তাদের গতি আর ড্রিবলিং প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগকে রীতিমতো ছিন্নভিন্ন করে দিচ্ছে।
- অভিজ্ঞতার নিখুঁত ব্যবহার: মাঝমাঠে টনি ক্রুসের মতো অভিজ্ঞ সেনাপতির নিয়ন্ত্রণ দলকে শান্ত রাখছে কঠিন পরিস্থিতিতেও। তরুণদের গাইড করার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখছেন সিনিয়রেরা।
- আক্রমণাত্মক ও আধুনিক কৌশল: রক্ষণাত্মক ফুটবল বা বল পজিশন ধরে রাখার চেনা ছক থেকে বেরিয়ে এসে জার্মানি এখন খেলছে হাই-প্রেসিং ও কাউন্টার-অ্যাটাকিং ফুটবল, যা প্রতিপক্ষকে খাপ খাইয়ে নেওয়ার কোনো সুযোগই দিচ্ছে না।
চলতি টুর্নামেন্টে একের পর এক আধিপত্য বিস্তারকারী জয় স্রেফ কোনো অঘটন নয়, বরং এটি জার্মান ফুটবলের নিয়মতান্ত্রিক পালাবদলের এক জ্বলন্ত প্রমাণ। মাঠের এই দাপট জানান দিচ্ছে, বিশ্ব ফুটবলের রাজত্ব ফিরে পেতে ডাই মানশাফটরা এখন পুরোপুরি প্রস্তুত।