চলতি ফুটবল বিশ্বকাপের মঞ্চে ইতিহাস লিখল সহ-আয়োজক কানাডা। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে বাঁচা-মরার লড়াইয়ে যোগ করা সময়ের চরম নাটকীয়তায় জয় ছিনিয়ে নিয়েছে তারা। ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্তে স্টেফেন এউস্তাকিওর (Stephen Eustáquio) অবিশ্বাস্য এক গোলে ১-০ ব্যবধানে জয় পায় কানাডা। আর এই জয়ের মধ্য দিয়েই বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো নকআউট পর্বে (লাস্ট ১৬) পা রাখল কানাডিয়ানরা।
স্নায়ুযুদ্ধ এবং ম্যাচের অন্তিম মুহূর্তের রোমাঞ্চ
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণ-প্রতিআক্রমণে লড়াই জমে উঠেছিল। দক্ষিণ আফ্রিকার রক্ষণভাগ আজ ছিল চীনের প্রাচীরের মতো দৃঢ়। কানাডার ফরোয়ার্ডরা একের পর এক আক্রমণ করেও প্রথমার্ধে আফ্রিকার ডিফেন্স ভাঙতে পারেনি। ঘড়ির কাঁটা যতই ৯০ মিনিটের দিকে এগোচ্ছিল, স্টেডিয়ামে উপস্থিত হাজারো কানাডিয়ান দর্শকের বুকে ততই ধড়ফড়ানি বাড়ছিল। কারণ, ম্যাচটি ড্র হলে পরের রাউন্ডে যাওয়ার সমীকরণ কঠিন হয়ে যেত সহ-আয়োজকদের জন্য।
কিন্তু ম্যাচের আসল নাটকীয়তা তখনো বাকি ছিল। নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলা শেষে যখন রেফারি ইনজুরি টাইমের সংকেত দেন, ঠিক তখনই ঘটে সেই জাদুকরী ঘটনা:
ম্যাচের ৯২তম মিনিট: দক্ষিণ আফ্রিকার ডি-বক্সের ঠিক বাইরে একটি আক্রমণ গুছিয়ে নেয় কানাডা।
এউস্তাকিওর ম্যাজিক: জটলার ভেতর থেকে বল পেয়েই দারুণ এক কোণাকুণি শট নেন মিডফিল্ডার স্টেফেন এউস্তাকিও।
স্টেডিয়ামে বিস্ফোরণ: বল জালে জড়াতেই উল্লাসে ফেটে পড়ে পুরো স্টেডিয়াম। ১-০ গোলের লিড নেয় কানাডা, যা নিশ্চিত করে তাদের ঐতিহাসিক জয়।
কানাডার ফুটবলে এক নতুন দিগন্ত
বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক হিসেবে এবার কানাডার ওপর প্রত্যাশার চাপ ছিল অনেক বেশি। এর আগে পুরুষ বিশ্বকাপে কানাডা কখনোই গ্রুপ পর্বের বাধা পার হতে পারেনি। তাই ঘরের মাঠে এউস্তাকিওর এই গোলটি কেবল একটি ম্যাচ জেতায়নি, বরং কানাডার ফুটবল ইতিহাসকে চিরতরে বদলে দিয়েছে।
“এটি আমার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে সেরা মুহূর্ত। আমরা জানতাম আমাদের ইতিহাস গড়তেই হবে, আর দেশের মানুষের সামনে এই জয় পাওয়াটা স্বপ্নের মতো,” — ম্যাচ শেষে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন জয়ের নায়ক স্টেফেন এউস্তাকিও।
গ্রুপ পর্বের এই রোমাঞ্চকর জয়ের পর কানাডা এখন আত্মবিশ্বাসে ফুটছে। শেষ ১৬-র লড়াইয়ে তারা কার মুখোমুখি হবে তা এখনো চূড়ান্ত না হলেও, এউস্তাকিও এবং তার দল বুঝিয়ে দিয়েছে—ঘরের মাঠে যেকোনো পরাশক্তিকে টেক্কা দিতে তারা সম্পূর্ণ প্রস্তুত।