স্পোর্টস ও লাইফস্টাইল ডেস্ক, পাবনানিউজ২৪: ভরদুপুরে আব্দুল হামিদ রোডের জ্যাম ঠেলে এগোলেই কানে আসবে একটা চেনা গুঞ্জন। শপিং মলগুলোর কাঁচের ওপাশ থেকে উঁকি দিচ্ছে রঙ-বেরঙের আধুনিক পোশাক, আর একটু দূরেই ইছামতীর শান্ত হাওয়া যেন মনে করিয়ে দিচ্ছে এই শহরের শত বছরের পুরোনো এক রূপকথাকে। যে রূপকথার মূল নায়ক— পাবনার তাঁতের সুতো।
পাবনার ফ্যাশন কোনো বাঁধাধরা নিয়মে চলে না। এখানে ভোরের আলোয় দোগাছি বা আতাইকুলার তাঁতশালায় যে খটখট শব্দ ওঠে, সেই একই সুতোর টান গিয়ে পৌঁছায় শহরের তরুণ-তরুণীদের আধুনিক ওয়ারড্রোবে। ঐতিহ্যকে বুকে ধরে কীভাবে আধুনিকতাকে আপন করে নিতে হয়, তা পাবনার ফ্যাশন ট্রেন্ড না দেখলে বোঝা দায়।
তাঁতের শাড়ি থেকে ফ্লোর-লেংথ গাউন: রূপান্তরের গল্প
শহরের কোনো এক বিকেলে রিকশায় চড়ে যাওয়ার সময় যদি খেয়াল করেন, দেখবেন এক অদ্ভুত সুন্দর মেলবন্ধন। একদিকে কোনো বয়োজেষ্ঠ্যা নারী পরম যত্নে গায়ে জড়িয়েছেন পাবনার খাঁটি সুতি শাড়ি, যার প্রতিটি সুতোয় লেগে আছে কারিগরের ছোঁয়া। ঠিক তার পাশ দিয়েই হয়তো হেঁটে যাচ্ছেন এক কলেজপড়ুয়া তরুণী, যার পরনে চমৎকার একটি ফ্লোর-লেংথ (মেঝে ছোঁয়া) ওয়েস্টার্ন ড্রেস কিংবা কুর্তি।
হ্যাঁ, পাবনার ফ্যাশনে এখন ওয়েস্টার্ন আর ফিউশন পোশাকের এক বিশাল জয়জয়কার। বিশেষ করে গরমের এই সময়ে আরামদায়ক অথচ স্টাইলিশ লং ড্রেস, জ্যাকেট বা টপস এখন তরুণীদের প্রথম পছন্দ। তবে মজার ব্যাপার হলো, এই আধুনিক পোশাকগুলোর অনেকগুলোই তৈরি হচ্ছে আমাদের স্থানীয় সুতি বা লিনেন কাপড় দিয়ে। অর্থাৎ, খোলসটা আধুনিক হলেও প্রাণটা কিন্তু সেই পাবনারই!
ছেলেদের ফ্যাশনে ক্যাজুয়াল ক্রেজ ও সেই চিরচেনা আরাম
শহরের তরুণদের ফ্যাশন স্টেটমেন্টও এখন বেশ পরিণত। ফরমাল পোশাকের চেয়ে তাদের পছন্দ এখন সেমি-ক্যাজুয়াল লুক। জিম বা ফিটনেস সচেতন তরুণদের গায়ে যেমন দেখা যায় ট্রেন্ডি ওভারসাইজড টি-শার্ট কিংবা কার্গো প্যান্ট, তেমনি একটু জমকালো আড্ডায় তাদের পছন্দ লিনেন শার্ট ও চিনোস।
তবে দিনশেষে ঘরে ফিরে পাবনার ছেলেদের আসল ফ্যাশন কিন্তু সেই চিরচেনা আরামদায়ক সুতি লুঙ্গি। পাবনার লুঙ্গির যে ব্র্যান্ড ভ্যালু পুরো দেশে, তা তো আর নতুন করে বলার কিছু নেই! ঘরে এসে এই আরামটুকু না পেলে পাবনাবাসীর ফ্যাশন যেন পূর্ণই হয় না।
শহরের এক বুটিক মালিকের বয়ান: > "এখনকার কাস্টমাররা খুব সচেতন। তারা শুধু ফ্যাশন দেখে না, কাপড়ের আরামটাও খোঁজে। আগে মানুষ ভাবত ফ্যাশন মানেই ঢাকা বা কোলকাতার ট্রেন্ড। কিন্তু এখন পাবনার ছেলেমেয়েরা নিজেদের একটা সিগনেচার স্টাইল তৈরি করেছে। তারা শাড়িও পরে, আবার ওয়েস্টার্ন লং গাউনও সমান আত্মবিশ্বাসের সাথে ক্যারি করে।"
শপিং মলে বদলের হাওয়া: হাতের মুঠোয় গ্লোবাল ট্রেন্ড
অনলাইনের যুগ আর সোশ্যাল মিডিয়ার কল্যাণে গ্লোবাল ফ্যাশন এখন পাবনার দোরগোড়ায়। আব্দুল হামিদ রোডের শপিং মলগুলো থেকে শুরু করে অলিগলির বুটিক হাউস— সবখানেই এখন আধুনিকতার ছোঁয়া। উৎসবের দিনগুলোতে পাবনার বাজারে যে ভিড় নামে, তা ঢাকার যেকোনো বড় মলের চেয়ে কম নয়। মানুষ এখন ট্র্যাডিশনাল কাপড়ের পাশাপাশি ইন্টারন্যাশনাল ট্রেন্ডের ফিউশনগুলো দারুণভাবে লুফে নিচ্ছে।
পাবনানিউজ২৪-এর শেষ কথা
পাবনার ফ্যাশন ট্রেন্ড আসলে একটা নদীর মতো, যা তার উৎসকে ভুলে যায় না, কিন্তু নতুনের দিকে বয়ে চলে অবিরত। এখানে তাঁতের ঐতিহ্য ম্লান হয়নি, বরং তা আধুনিক ওয়েস্টার্ন কাটের সাথে মিলেমিশে আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। ঐতিহ্যের সুতোয় আধুনিকতার এই যে নিখুঁত বুনন— এটাই হলো আজকের বদলে যাওয়া পাবনার আসল ফ্যাশন স্টেটমেন্ট!