Home ফিচার জুন জুড়েই দেশে পিটুনির উৎসব: মব সহিংসতায় প্রাণ হারিয়েছেন ৩৩ জন!

জুন জুড়েই দেশে পিটুনির উৎসব: মব সহিংসতায় প্রাণ হারিয়েছেন ৩৩ জন!

0
জুন জুড়েই দেশে পিটুনির উৎসব: মব সহিংসতায় প্রাণ হারিয়েছেন ৩৩ জন!

জাতীয় ডেস্ক, পাবনা নিউজ ২৪ | প্রকাশ: ১ জুলাই, ২০২৬

আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার এক ভয়ানক সংস্কৃতি গ্রাস করছে দেশকে। সদ্য সমাপ্ত জুন মাস জুড়েই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে একের পর এক ঘটেছে ‘মব জাস্টিস’ বা গণপিটুনির ঘটনা। বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, বিদায়ী জুন মাসে দেশজুড়ে গণপিটুনি ও মব সহিংসতার শিকার হয়ে অন্তত ৩৩ জন মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।

চুরি, ডাকাতি কিংবা স্রেফ গুজবের ওপর ভিত্তি করে উত্তেজিত জনতার এই আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা দেশের সার্বিক মানবাধিকার পরিস্থিতিকে চরম উদ্বেগের মুখে ঠেলে দিয়েছে।

পৈশাচিকতার রাজত্ব: সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ঢাকা ও চট্টগ্রাম

পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, জুন মাসে মব সহিংসতার সিংহভাগ ঘটনাই ঘটেছে জনবহুল ও শিল্পাঞ্চল এলাকাগুলোতে। এর মধ্যে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগে নিহতের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। কোনো কোনো ঘটনায় চোর সন্দেহে পিটিয়ে মারা হয়েছে, আবার কোথাও অবাস্তব কোনো সন্দেহের বশে মানুষকে পিটিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। বিচারহীনতার মানসিকতা এবং প্রশাসনের প্রতি এক ধরণের অনাস্থা থেকেই মানুষ এভাবে আইন হাতে তুলে নিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

যে কারণে বাড়ছে ‘মব জাস্টিস’

পাবনা নিউজ ২৪-এর অনুসন্ধানে ও সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, সমাজে এই ধরণের মব জাস্টিস বা গণপিটুনি বাড়ার পেছনে কয়েকটি মূল কারণ রয়েছে:

  • আইনের দীর্ঘসূত্রতা: অপরাধীদের তাৎক্ষণিক শাস্তি না হওয়া বা আইনি প্রক্রিয়ার ওপর সাধারণ মানুষের ধৈর্যের অভাব।
  • গুজবের দ্রুত বিস্তার: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো যাচাই-বাছাই ছাড়াই মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়া ভুল তথ্য বা গুজব।
  • সামাজিক অসহিষ্ণুতা: মানুষের ভেতর পরমতসহিষ্ণুতা ও মানবিক মূল্যবোধের চরম অবক্ষয়।

প্রশাসনের কঠোর হুঁশিয়ারি

মব সহিংসতার এই ভয়াবহ রূপ দেখে নড়েচড়ে বসেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ প্রশাসন। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, সন্দেহভাজন কোনো অপরাধীকে আটক করলে তাকে মারধর না করে সরাসরি পুলিশের হাতে তুলে দিতে হবে। কোনো অবস্থাতেই কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নিলে তাকে কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হবে। ইতিমধ্যেই জুন মাসের বেশ কয়েকটি ঘটনায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং বেশ কিছু আসামিকে গ্রেফতারও করা হয়েছে।

এখনই লাগাম টানা জরুরি

মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, একটি সভ্য সমাজে এভাবে পিটিয়ে মানুষ মেরে ফেলার ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। যদি এখনই মব জাস্টিসের সাথে জড়িতদের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া না হয়, তবে এই সহিংসতা মহামারি আকার ধারণ করতে পারে।

সাধারণ জনগণের মধ্যেও সচেতনতা বাড়ানো এবং আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন দেশের বিশিষ্ট নাগরিকেরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here