পাবনানিউজ২৪
উত্তর আমেরিকার আকাশে তখন ২০২৬ বিশ্বকাপের জমকালো আলো। গ্যালারিতে থ্রি লায়ন্স সমর্থকদের গগনবিদারি চিৎকার। মাঠের ডাগআউটে দাঁড়িয়ে কপালে চিন্তার ভাঁজ নিয়ে চুইংগাম চিবোচ্ছেন একজন মাস্টারমাইন্ড— টমাস টুখেল।ইংল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (FA) যখন গ্যারেথ সাউথগেটের যুগের অবসান ঘটিয়ে এই জার্মান কোচের হাতে হ্যারি কেইন-জুড বেলিংহামদের দায়িত্ব তুলে দিয়েছিল, লক্ষ্য ছিল একটাই— ১৯৬৬ সালের পর অধরা সেই সোনালী ট্রফিটা এবার ঘরে তোলা। বাছাইপর্বে কোনো গোল না হজম করে রেকর্ড গড়ে বিশ্বমঞ্চে আসা ইংল্যান্ডকে নিয়ে আশার পারদ ছিল তুঙ্গে। কিন্তু গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচেই ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে ৪-২ গোলের জয় যেমন আনন্দের জোয়ার এনেছিল, তেমনি ডিফেন্সের কঙ্কালটাও বের করে দিয়েছিল। এরপর ঘানার সাথে গোলশূন্য ড্র। আক্রমণভাগে হাজারো তারকা খচিত এই দলের আসল দুর্বলতাটা এখন স্পষ্ট— তাদের রক্ষণভাগ। পাবনার ফুটবলপ্রেমী থেকে শুরু করে বিশ্বজুড়ে থ্রি লায়ন্স ভক্তদের মনে এখন একটাই প্রশ্ন— নক-আউটের কঠিন অগ্নিপরীক্ষার আগে টুখেল কি পারবেন তার এই ভাঙা দেওয়াল মেরামত করতে?
ক্রোয়েশিয়া ম্যাচেই বেজেছিল সতর্কবার্তা
টমাস টুখেল বরাবরই ডিফেন্সিভ ট্যাকটিক্সে চতুরতার জন্য পরিচিত। চেলসিকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতানোর পেছনে তার নিরেট রক্ষণাত্মক দেওয়ালই ছিল মূল চাবিকাঠি। কিন্তু ইংল্যান্ডের ডাগআউটে এসে যেন সেই চিরচেনা টুখেল ম্যাজিক কিছুটা ম্লান। ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ৪ গোল দিয়ে ম্যাচ জিতলেও, যেভাবে জোড়া গোল হজম করতে হয়েছে জন স্টোনস আর মার্ক গুয়েহিদের, তা বড় কোনো টুর্নামেন্টে শিরোপাজয়ী দলের লক্ষণ নয়।ঘানার বিরুদ্ধে ম্যাচে আক্রমণ দানা বাঁধলেও ডিফেন্সে যে বোঝাপড়ার অভাব ছিল, তা কাউন্টার অ্যাটাকে বারবার ফুটে উঠেছে। গ্রুপ পর্বের দুর্বল প্রতিপক্ষ হয়তো এই সুযোগ পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারেনি, কিন্তু সামনে যখন আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স বা ব্রাজিলের মতো বিশ্বসেরা আক্রমণভাগ এসে দাঁড়াবে, তখন ভুলও হবে প্রাণঘাতী।
চোটের ধাক্কা ও রাইট-ব্যাক পজিশনের শূন্যতা
ইংল্যান্ডের জন্য এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় দুঃসংবাদ হয়ে এসেছে দলের অন্যতম সেরা ডিফেন্ডার রিশ জেমসের চোট। নিউ জার্সিতে পানামার বিপক্ষে ম্যাচের আগেই জানা গেছে, চোটের কারণে তিনি মাঠের বাইরে চলে গেছেন। যদিও টুখেল আশা করছেন শেষ ৩২ বা নক-আউট পর্বের শুরুতেই জেমসকে পাওয়া যাবে, কিন্তু তার অনুপস্থিতি ব্যাকলাইনে বড় একটা ফাটল তৈরি করেছে।স্টোনস-গুয়েহি জুটির মধ্যে আন্তর্জাতিক ম্যাচের সেই চিরন্তন রসায়ন এখনো পুরোপুরি জমে ওঠেনি। ড্যান বার্ন বা এজরি কনসাদের অভিজ্ঞতা থাকলেও নক-আউটের তীব্র চাপ সামলানোর ক্ষমতা নিয়ে ফুটবল পণ্ডিতদের মনে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে।
টুখেলের উপলব্ধি: > "আমি ইংল্যান্ডের কোচ হওয়াটা মনেপ্রাণে উপভোগ করছি। এই ছেলেদের সামর্থ্য নিয়ে আমার কোনো সন্দেহ নেই। তবে আমাদের মনে রাখতে হবে, বিশ্বকাপের নক-আউট পর্ব এক নির্মম জায়গা। সেখানে ভুলের কোনো ক্ষমা নেই। আমাদের রক্ষণভাগকে আরও জমাট হতে হবে।"
পাবনানিউজ২৪-এর শেষ কথা: নক-আউটের আগে টুখেলের আসল পরীক্ষাগ্রুপ পর্বের বাধা পেরিয়ে ইংল্যান্ডের নক-আউট নিশ্চিত করাটা হয়তো সময়ের ব্যাপার মাত্র। কিন্তু আসল বিশ্বকাপ শুরু হবে নক-আউট থ্রিলার থেকে। হ্যারি কেইন গোল করবেন, সাকা-বেলিংহামরা মাঝমাঠ কাঁপাবেন— এটা বলাই বাহুল্য। কিন্তু ট্রফি জিততে হলে যে রক্ষণভাগকে ‘চীনের প্রাচীর’ বানাতে হবে, তা টুখেলের চেয়ে ভালো কে জানেন!টমাস টুখেল কি পারবেন তার চেলসি আমলের সেই অপ্রতিরোধ্য ডিফেন্সিভ ব্লু-প্রিন্ট এই থ্রি লায়ন্স শিবিরে ফিরিয়ে আনতে? নাকি রক্ষণভাগের এই আলগাভাব আরও একবার ট্রফি জয়ের স্বপ্নকে ধূলিসাৎ করে দেবে? উত্তর দেবে সময়, তবে টুখেলকে দ্রুতই এই সমস্যার সমাধান খুঁজতে হবে— কারণ বিশ্বকাপের মঞ্চে সময় বড্ড কম!