প্রকৃতির এক আকস্মিক ও প্রলয়ংকরী আঘাতে মুহূর্তেই ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলা। গত ২৪ জুনের শক্তিশালী জোড়া ভূমিকম্পের পর সময় যত গড়াচ্ছে, ততই দীর্ঘ হচ্ছে লাশের মিছিল। উদ্ধার অভিযানের অষ্টম দিনে এসে সরকারিভাবে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ২৯৫ জনে। এই ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ে পুরো দেশজুড়ে চরম শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতদের স্মরণে দেশটিতে ৭ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে।
ভেনেজুয়েলার জাতীয় পরিষদের সভাপতি হোর্হে রদ্রিগেজ সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়েছেন। তিনি জানান, উদ্ধারকাজের অগ্রগতির সাথে সাথে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত ভয়াবহতা সামনে আসছে। কেবল প্রাণহানিই নয়, আহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১ হাজার ২৬৭ জনে। হাসপাতালগুলোতে এখন তিল ধারণের ঠাঁই নেই, চিকিৎসকেরা আহতদের সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন।
ভয়াবহ দুর্যোগের চিত্র ও বর্তমান পরিস্থিতি:
- জোড়া ভূমিকম্পের আঘাত: গত ২৪ জুন মাত্র ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে পরপর ৭.২ এবং ৭.৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে ভেনেজুয়েলার উত্তর-কেন্দ্রীয় অঞ্চলে। অগভীর উৎপত্তিস্থল হওয়ায় ভূপৃষ্ঠে কম্পনের তীব্রতা ছিল কল্পনাতীত, যা রাজধানী কারাকাস ও লা গুয়াইরাসহ বিস্তীর্ণ এলাকার শত শত বহুতল ভবন মাটির সাথে মিশিয়ে দেয়।
- আশ্রয়শিবির ও উদ্ধার তৎপরতা: গৃহহীন ও ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ১২ হাজার ৮৪১ জন মানুষের জন্য দেশজুড়ে ২৫টি জরুরি অস্থায়ী আশ্রয়শিবির চালু করা হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে এ পর্যন্ত ৬ হাজার ৪৬১ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
- আফটারশক ও আতঙ্ক: মূল ভূমিকম্পের পর এ পর্যন্ত দেশটিতে ৭৮২ বারেরও বেশি মৃদু ও মাঝারি মাত্রার পরাঘাত (Aftershocks) অনুভূত হয়েছে। ফলে নতুন করে ভবন ধসের আতঙ্কে হাজার হাজার মানুষ ঘরে ফিরতে ভয় পাচ্ছেন এবং খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাচ্ছেন।
ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ডেলসি রদ্রিগেজ এই শোকের সময় দুর্গতদের পাশে থাকার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। ভেঙে পড়া বিদ্যুৎ ও টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা সচল করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ও দেশীয় প্রায় ৪ হাজার উদ্ধারকর্মী এখনও নিখোঁজদের সন্ধানে রাত-দিন কাজ করে যাচ্ছেন।