স্পোর্টস ডেস্ক, পাবনা নিউজ ২৪: গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ খ্যাত ২০২৬ ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ এখন রূপ নিয়েছে চরম নাটকীয়তায়। একের পর এক চমক আর বড় বড় দলের বিদায়ে টুর্নামেন্ট যখন মাঝপথে, ঠিক তখনই ঘটলো এক নজিরবিহীন ঘটনা। ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাস সাক্ষী হলো এক বড় ট্র্যাজেডির। আসরের শেষ ষোলোর লড়াই শেষ হতে না হতেই টুর্নামেন্ট থেকে পুরোপুরি বিদায় নিল তিন স্বাগতিক দেশ—যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো এবং কানাডা।
নিজেদের মাটিতে, চেনা দর্শকদের সামনে ট্রফি জয়ের যে স্বপ্ন নিয়ে তারা টুর্নামেন্ট শুরু করেছিল, নকআউট পর্বের শেষ ষোলোর মঞ্চেই সেই স্বপ্নের নির্মম সমাধি ঘটলো। এর মাধ্যমে তিন আয়োজক দেশ ছাড়াই এখন চলবে ২০২৬ বিশ্বকাপের বাকি অংশ।
শেষ ষোলোতে আমেরিকার স্বপ্নভঙ্গ
তিন স্বাগতিকের মধ্যে সবার শেষে বিদায় নিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (USA)। সিয়াটলের লুমেন ফিল্ডে শেষ ষোলোর হাইভোল্টেজ ম্যাচে বেলজিয়ামের মুখোমুখি হয়েছিল তারা। মাঠের বাইরে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ফোনালাপ এবং ফোলারিন বালোগানের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিতর্কিত নাটকীয়তা সত্ত্বেও মাঠের লড়াইয়ে সুবিধা করতে পারেনি আমেরিকা। বেলজিয়ামের ফরোয়ার্ড চার্লস ডি কেটেলারের জোড়া গোল এবং রোমেলু লুকাকুদের আক্রমণাত্মক ফুটবলের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি স্বাগতিকরা। ৪-১ গোলের বিশাল ব্যবধানে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যায় যুক্তরাষ্ট্র।
আগেই বিদায় নিয়েছিল মেক্সিকো ও কানাডা
যুক্তরাষ্ট্রের বিদায়ের আগেই অবশ্য বাকি দুই আয়োজক দেশের বিদায় ঘণ্টা বেজে গিয়েছিল। উত্তর আমেরিকার পরাশক্তি মেক্সিকো ঘরের মাঠে বিদায় নেয় ফুটবল পরাশক্তি ইংল্যান্ডের কাছে। শেষ ষোলোর ম্যাচে তীব্র লড়াই করেও ৩-২ ব্যবধানে হেরে আসর থেকে বিদায় নেয় মেক্সিকানরা।
অন্য দিকে, মাঠের পারফরম্যান্সে এবার দারুণ কিছুর আশা জাগালেও শেষ পর্যন্ত মরক্কোর কাছে অসহায় আত্মসমর্পণ করতে হয় আরেক স্বাগতিক কানাডাকে। আফ্রিকার সিংহদের কাছে ৩-০ গোলের বড় ব্যবধানে হেরে ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ মিশন শেষ করে কানাডিয়ানরা।
স্বাগতিকহীন বিশ্বকাপ: ফুটবল ইতিহাসে নতুন অভিজ্ঞতা
বিশ্বকাপের ইতিহাসে যৌথ আয়োজনের ঘটনা এটিই প্রথম নয়, তবে এবারই প্রথম একই সাথে তিনটি দেশ যৌথভাবে বিশ্বকাপ আয়োজন করছে। কোয়ার্টার ফাইনাল বা শেষ আটের লড়াই শুরু হওয়ার আগেই সবকটি স্বাগতিক দেশের বিদায় নেওয়ার ঘটনা ফুটবল ভক্তদের বেশ স্তব্ধ করেছে। ঘরের মাঠে চেনা দর্শকদের যে বাড়তি সুবিধা বা ‘হোম অ্যাডভান্টেজ’ পাওয়ার কথা ছিল, সেটি কাজে লাগাতে পুরোপুরি ব্যর্থ হলো কনকাকাফ অঞ্চলের এই তিন দেশ।
তিন স্বাগতিক দেশের বিদায়ে গ্যালারির স্থানীয় দর্শকদের মাঝে কিছুটা হতাশা নেমে আসলেও, বিশ্বকাপের উন্মাদনা কিন্তু বিন্দুমাত্র কমেনি। ফ্রান্স, স্পেন, ইংল্যান্ড আর মরক্কোর মতো দলগুলো যেভাবে ছন্দে রয়েছে, তাতে করে আগামী দিনগুলোতে ফুটবলপ্রেমীরা আরও রোমাঞ্চকর এবং জমজমাট ম্যাচ উপহার পেতে যাচ্ছেন—তা বলাই বাহুল্য।