Home বিশ্ব মার্কিন হামলা ও প্রাথমিক সমঝোতা ব্যর্থ: ইরান নিয়ে ট্রাম্পের পরের পরিকল্পনা কী?

মার্কিন হামলা ও প্রাথমিক সমঝোতা ব্যর্থ: ইরান নিয়ে ট্রাম্পের পরের পরিকল্পনা কী?

0

পাবনা নিউজ ২৪ আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানে মার্কিন বিমান হামলা এবং এর পরবর্তী প্রাথমিক কূটনৈতিক সমঝোতা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি এখন বিস্ফোরণোন্মুখ। ওয়াশিংটন এবং তেহরানের মধ্যকার আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরবর্তী সামরিক ও রাজনৈতিক কৌশল কী হবে—তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা।

পেন্টাগন এবং হোয়াইট হাউসের অভ্যন্তরীণ সূত্র এবং আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসন এখন ইরানের বিরুদ্ধে বহুমাত্রিক এবং আরও কঠোর একটি পরিকল্পনার দিকে এগোচ্ছে। ট্রাম্পের সম্ভাব্য পরবর্তী পরিকল্পনাগুলোর মূল দিকগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:

১. ‘সর্বোচ্চ চাপ’ (Maximum Pressure) কৌশলের চরম রূপ

প্রাথমিক আলোচনা ব্যর্থ হওয়ায় ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের ওপর অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক অবরোধের পরিধি আরও বাড়াতে যাচ্ছে। এবার লক্ষ্য শুধু ইরান নয়, বরং যেসব দেশ বা সংস্থা ইরানের কাছ থেকে গোপনে তেল কিনছে বা তাদের সাথে বাণিজ্য করছে, তাদের ওপরেও কঠোর নিষেধাজ্ঞা (Secondary Sanctions) আরোপ করা হবে। ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে পুরোপুরি পঙ্গু করে দেওয়াই এই পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য।

২. হরমুজ প্রণালীতে নৌ-অবরোধ ও সামরিক টহল জোরদার

বিশ্বের অন্যতম প্রধান জ্বালানি সরবরাহ রুট ‘হরমুজ প্রণালী’র ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারে ইরান—এমন আশঙ্কায় মার্কিন নৌবাহিনী সেখানে সামরিক উপস্থিতি দ্বিগুণ করছে। ট্রাম্পের পরবর্তী পরিকল্পনা হলো মিত্র দেশগুলোকে সাথে নিয়ে পারস্য উপসাগরে একটি শক্তিশালী নৌ-জোট গঠন করা, যাতে ইরান কোনোভাবেই আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল ব্যাহত করতে না পারে।

৩. সাইবার যুদ্ধ ও ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় নিখুঁত হামলা (Precision Strikes)

সার্বক্ষণিক পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের (Full-scale War) ঝুঁকি এড়াতে ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের পরমাণু কেন্দ্র এবং ব্যালিস্টিক মিসাইল উৎপাদনকারী ভূগর্ভস্থ স্থাপনাগুলোতে বড় ধরনের সাইবার হামলা (Cyber Warfare) চালাতে পারে। পাশাপাশি, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ (CIA) এবং পেন্টাগনের যৌথ পরিচালনায় নিখুঁত ড্রোন হামলার মাধ্যমে ইরানের শীর্ষ সামরিক কমান্ডার ও প্রযুক্তিবিদদের লক্ষ্যবস্তু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

৪. আঞ্চলিক মিত্রদের সামরিকভাবে শক্তিশালী করা

ইরানকে রুখতে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন মিত্র দেশগুলোর (বিশেষ করে ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় দেশগুলো) প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার পরিকল্পনা নিয়েছেন ট্রাম্প। ওয়াশিংটন ইতিমধ্যেই এই অঞ্চলে অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং প্যাট্রিয়ট মিসাইল ব্যাটারি মোতায়েনের প্রক্রিয়া শুরু করেছে, যাতে ইরানের যেকোনো সম্ভাব্য পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করা যায়।

৫. শাসনের পরিবর্তন (Regime Change) নাকি নতুন চুক্তি?

প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, ট্রাম্পের চূড়ান্ত লক্ষ্য ইরানকে এমন এক কোণঠাসা পরিস্থিতিতে ফেলা, যাতে দেশটির অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি ভেঙে পড়ে এবং সরকার চরম জনরোষের মুখে পড়ে। ট্রাম্প চান ইরান বাধ্য হয়ে সম্পূর্ণ মার্কিন শর্ত মেনে একটি নতুন এবং অত্যন্ত কঠোর পরমাণু চুক্তিতে সই করুক, যা তেহরানের হাত পা পুরোপুরি বেঁধে দেবে।

ট্রাম্পের এই ‘সব বা কিছুই না’ (All or Nothing) নীতি মধ্যপ্রাচ্যকে এক দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে নাকি ইরানকে আলোচনার টেবিলে ফেরাতে বাধ্য করছে, তা আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই পরিষ্কার হয়ে যাবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here