স্বাস্থ্য ডেস্ক, পাবনা নিউজ ২৪ | প্রকাশ: ১ জুলাই, ২০২৬
নিউমোনিয়া বলতেই সাধারণত আমরা ফুসফুসের একটি মারাত্মক সংক্রমণকে বুঝি। শীত কিংবা ঋতু পরিবর্তনের সময়ে এই রোগের প্রকোপ অনেক বেড়ে যায়। তবে চিকিৎসকেরা এখন এক নতুন উদ্বেগের কথা জানাচ্ছেন। নিউমোনিয়া কেবল ফুসফুসের কার্যক্ষমতা কেড়ে নিয়েই ক্ষান্ত হয় না, সঠিক সময়ে চিকিৎসা না হলে এটি শরীরের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গকেও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
সাধারণ একটি ঠাণ্ডা-কাশি থেকে তৈরি হওয়া এই রোগটি কীভাবে পুরো শরীরের জন্য কাল হয়ে দাঁড়াতে পারে, তা নিয়ে আজকের বিশেষ প্রতিবেদন।
ফুসফুস ছাড়িয়ে যেভাবে ছড়ায় সংক্রমণ
নিউমোনিয়ার মূল কারণ হলো ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস বা ফাঙ্গাসের আক্রমণ, যা ফুসফুসের বায়ুথলিগুলোকে (Alveoli) পুঁজ বা তরলে ভরিয়ে দেয়। যখন এই সংক্রমণ তীব্র রূপ নেয়, তখন ফুসফুস রক্তে পর্যাপ্ত অক্সিজেন সরবরাহ করতে পারে না। রক্তে অক্সিজেনের ঘাটতি দেখা দিলে এবং ফুসফুসের ব্যাকটেরিয়া রক্তপ্রবাহে মিশে গেলে (যাকে সেপসিস বলা হয়) তা পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়ে এবং অন্যান্য অঙ্গের ক্ষতি করতে শুরু করে।
যেসব অঙ্গ সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে:
- ১. হৃৎপিণ্ড বা হার্ট (Heart): নিউমোনিয়ার কারণে রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা কমে যাওয়ায় হার্টকে দ্বিগুণ গতিতে পাম্প করতে হয়। এর ফলে হার্টের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের গবেষণায় দেখা গেছে, তীব্র নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের হার্ট অ্যাটাক বা হার্ট ফেইলিউরের ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়।
- ২. কিডনি (Kidneys): রক্তে যদি নিউমোনিয়ার ইনফেকশন বা বিষাক্ত উপাদান ছড়িয়ে পড়ে, তবে কিডনি তার স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা হারাতে শুরু করে। শরীর থেকে বর্জ্য পদার্থ দূর করতে না পারার কারণে ‘অ্যাকিউট কিডনি ইনজুরি’ হতে পারে, যা রোগীকে ডায়ালাইসিসের দিকে ঠেলে দেয়।
- ৩. লিভার বা যকৃৎ (Liver): শরীরে অক্সিজেনের তীব্র ঘাটতি এবং ব্যাকটেরিয়ার কারণে লিভারের কোষগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে লিভারের এনজাইমগুলো অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে থাকে, যা জন্ডিস বা লিভার ড্যামেজের কারণ হতে পারে।
- ৪. মস্তিষ্ক বা ব্রেন (Brain): মস্তিষ্কে পর্যাপ্ত অক্সিজেন না পৌঁছালে রোগী বিভ্রান্তি বা প্রলাপ বকতে পারেন (যাকে ডেলিরিয়াম বলা হয়)। বিশেষ করে প্রবীণ রোগীদের ক্ষেত্রে নিউমোনিয়া হলে স্মৃতিভ্রম বা অচেতন হয়ে যাওয়ার মতো ঘটনা বেশি ঘটে।
লক্ষণ যা অবহেলা করবেন না
পাবনা নিউজ ২৪-এর পাঠকদের জন্য চিকিৎসকদের পরামর্শ, বুকে ব্যথার সাথে তীব্র জ্বর, শ্বাসকষ্ট এবং কাশির সাথে হলুদাভ বা রক্তমিশ্রিত কফ বের হলে তা নিউমোনিয়ার লক্ষণ হতে পারে। এর সাথে যদি রোগী অতিরিক্ত ক্লান্তিবোধ করেন বা প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যায়, তবে বুঝতে হবে সংক্রমণ ফুসফুসের বাইরেও ছড়াচ্ছে।
প্রতিরোধে করণীয়
নিউমোনিয়ার এই ভয়াবহতা থেকে বাঁচতে সবচেয়ে কার্যকরী উপায় হলো সচেতনতা। শিশু এবং প্রবীণদের (যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম) নিয়মিত নিউমোকোক্কাল এবং ফ্লু ভ্যাকসিন দেওয়া উচিত। এছাড়া সামান্য ঠাণ্ডা-কাশিকে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে অ্যান্টিবায়োটিক বা প্রয়োজনীয় থেরাপি শুরু করলে এই বহুমাত্রিক অঙ্গহানির ঝুঁকি থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব।