Home বিশ্ব সতর্কতা জারি: যুক্তরাষ্ট্রের প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপাঞ্চলে ধেয়ে আসছে শক্তিশালী ‘সুপার টাইফুন’

সতর্কতা জারি: যুক্তরাষ্ট্রের প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপাঞ্চলে ধেয়ে আসছে শক্তিশালী ‘সুপার টাইফুন’

0
সতর্কতা জারি: যুক্তরাষ্ট্রের প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপাঞ্চলে ধেয়ে আসছে শক্তিশালী ‘সুপার টাইফুন’

পাবনা নিউজ ২৪ ডেস্ক: জলবায়ু পরিবর্তনের চরম রূপ ধারণ করে প্রশান্ত মহাসাগরে সৃষ্টি হওয়া একটি শক্তিশালী ‘সুপার টাইফুন’ দ্রুত গতিতে ধেয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রিত দ্বীপাঞ্চলগুলোর দিকে। আবহাওয়া পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, এই দানবীয় ঝড়ের প্রভাবে গুয়াম (Guam) এবং উত্তর মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জসহ (Northern Mariana Islands) আশপাশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা রয়েছে।

ইতিমধ্যেই মার্কিন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ এবং স্থানীয় প্রশাসন ওই অঞ্চলের বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার নির্দেশনাসহ সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে।

বাতাসের গতিবেগ ও বর্তমান অবস্থান

উপগ্রহ থেকে প্রাপ্ত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এই সুপার টাইফুনটি ক্যাটাগরি-৪ বা ৫ মাত্রার হারিকেনের শক্তি নিয়ে সাগরের বুক চিরে এগিয়ে আসছে। এর কেন্দ্রের কাছাকাছি বাতাসের একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ১৫০ থেকে ১৭০ মাইল বা তারও বেশি রেকর্ড করা হয়েছে। ঝড়ের তীব্রতা এতটাই বেশি যে আবহাওয়া বিদরা একে ‘অতি বিপজ্জনক’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

প্রশান্ত মহাসাগরীয় যৌথ টাইফুন সতর্কীকরণ কেন্দ্র (JTWC) জানিয়েছে, বর্তমান গতিপথ বজায় থাকলে আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এটি স্থলভাগে আঘাত হানতে পারে।

উপকূলীয় অঞ্চলে বড় ধরনের জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা

সুপার টাইফুনের প্রভাবে শুধু প্রলয়ঙ্কারী ঝড়ো বাতাসই নয়, বরং সমুদ্র উপকূলে ১৫ থেকে ২০ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস ধেয়ে আসতে পারে। ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের কারণে পাহাড়ি এলাকাগুলোতে ভূমিধস এবং নিচু এলাকায় আকস্মিক বন্যার (Flash Flood) লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

মার্কিন আবহাওয়া দপ্তরের বার্তা: “এটি কোনো সাধারণ ঝড় নয়। জানমালের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে উপকূলীয় এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে। জরুরি রসদ ও শুকনো খাবার মজুত রাখুন।”

প্রশাসনের প্রস্তুতি ও উদ্ধারকারী দল মোতায়েন

পরিস্থিতি মোকাবিলায় মার্কিন ফেডারেল ইমার্জেন্সি ম্যানেজমেন্ট এজেন্সি (FEMA) ইতিমধ্যেই তাদের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। গুয়াম এবং মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জের সামরিক ঘাঁটি ও স্থানীয় উদ্ধারকারী দলগুলোকে ‘স্ট্যান্ডবাই’ রাখা হয়েছে। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার আশঙ্কায় স্যাটেলাইট ফোন এবং ব্যাকআপ জেনারেটরের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

বিপজ্জনক আবহাওয়ার কারণে ওই অঞ্চলের সমস্ত বাণিজ্যিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে এবং সমুদ্র বন্দরগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কার্যক্রম বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের এই দ্বীপবাসীদের জন্য আগামী কয়েকটি দিন চরম উদ্বেগ ও পরীক্ষার হতে যাচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here