নিউজ ডেস্ক, পাবনা নিউজ ২৪:
ছুটি বা অবসরের সুযোগ পেলেই আমাদের দেশের অধিকাংশ ভ্রমণপিয়াসী মানুষের প্রথম পছন্দ থাকে কক্সবাজারের সমুদ্র সৈকত, সাজেক ভ্যালির মেঘের রাজ্য কিংবা শ্রীমঙ্গলের চায়ের বাগান। কিন্তু অতিরিক্ত বাণিজ্যিকীকরণ এবং পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়ের কারণে এই চেনা জায়গাগুলো এখন আর আগের মতো শান্ত ও মানসিক প্রশান্তি দিতে পারে না। প্রকৃতিপ্রেমী ও আধুনিক ট্রাভেলাররা এখন এমন সব জায়গা খুঁজছেন যেখানে যান্ত্রিক কোলাহল নেই, কৃত্রিমতার ছোঁয়া লাগেনি এবং প্রকৃতির আসল রূপ বুক ভরে উপভোগ করা যায়। বাংলাদেশ নদীমাতৃক ও বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির দেশ। চেনা পর্যটন কেন্দ্রের বাইরেও এদেশের আনাচে-কানায় লুকিয়ে আছে এমন কিছু অবিশ্বাস্য সুন্দর, শান্ত গ্রাম ও নদীঘেরা অঞ্চল, যা এখনো সাধারণ পর্যটকদের চোখের আড়ালে রয়ে গেছে।কম খরচে প্রকৃতির কাছাকাছি যাওয়া, স্থানীয় মানুষের খাঁটি সংস্কৃতিকে কাছ থেকে জানা, কীভাবে যাবেন, কখন যাবেন এবং ভ্রমণের বিস্তারিত গাইডলাইনসহ বাংলাদেশের এমন ৫টি অনাবিষ্কৃত ‘অফবিট’ জায়গার আদ্যোপান্ত নিচে তুলে করা হলো:
মারায়ং তং ও আলীকদম (বান্দরবান): মেঘের ওপর এক শান্ত স্বর্গ
বান্দরবানের চিম্বুক বা নীলগিরির নাম সবাই জানলেও আলীকদমের ‘মারায়ং তং’ পাহাড়ের চূড়া এখনো সাধারণ পর্যটকদের ভিড় থেকে অনেকটাই মুক্ত। এটি মূলত ১৬৪০ ফুট উঁচুতে অবস্থিত একটি অনন্য ট্র্যাকিং রুট এবং পাহাড়ের চূড়ায় আদিবাসী সম্প্রদায়ের বসবাস।
কেন যাবেন এবং কী দেখবেন?
মারায়ং তং পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে চারপাশের পাহাড়ী ল্যান্ডস্কেপ এবং নিচে সাপের মতো বয়ে চলা মাতামুহুরী নদীর রূপ আপনাকে মুগ্ধ করবে। রাতে এখানে তাবু খাটিয়ে ক্যাম্পিং করার অভিজ্ঞতা অতুলনীয়। সকালে যখন চারপাশ ঘন কুয়াশা আর মেঘের চাদরে ঢেকে যায়, তখন মনে হবে আপনি কোনো মেঘের দ্বীপে ভাসছেন। এখানে রয়েছে শান্ত বৌদ্ধ উপাসনালয় বা ক্যায়াং, যা মনের মাঝে এক আধ্যাত্মিক প্রশান্তি এনে দেয়।
কোন সিজনে যাবেন?
মারায়ং তং ভ্রমণের সবচেয়ে সেরা সময় হলো শরৎকাল ও শীতকাল (সেপ্টেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি)। এই সময়ে আকাশ পরিষ্কার থাকে এবং রাতে ক্যাম্পিং করার জন্য আবহাওয়া চমৎকার থাকে। বর্ষাকালে ট্র্যাকিং পথ পিচ্ছিল ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে, তাই বর্ষা এড়িয়ে চলাই ভালো।
কীভাবে যাবেন?
রুট: ঢাকা বা যেকোনো জেলা থেকে প্রথমে বাসে করে বান্দরবান অথবা সরাসরি কক্সবাজারের চকরিয়া বাস টার্মিনালে নামতে হবে।
চকরিয়া থেকে: চকরিয়া থেকে লোকাল বাস বা চান্দের গাড়িতে (জিপ) করে আলীকদম বাজারে যেতে হবে।
আলীকদম থেকে ট্র্যাকিং: আলীকদম বাজার থেকে আলীকদম-থানচি সড়কের ‘আবাসিক’ নামক স্থানে নামতে হবে। সেখান থেকে পাহাড়ের চূড়ায় ওঠার জন্য প্রায় আড়াই থেকে তিন ঘণ্টার ট্র্যাকিং বা পায়ে হাঁটা পথ শুরু হয়।
এখানে গেলে ত্রিপুরা, মারমা ও ম্রো জনগোষ্ঠীর সরল জীবনযাত্রা এবং জুম চাষের সংস্কৃতিকে খুব কাছ থেকে দেখা যায়। সাজেকের তুলনায় এখানে থাকা-খাওয়ার খরচ অনেক কম। পাহাড়ে রাত কাটানোর জন্য তাবু ও প্রয়োজনীয় শুকনো খাবার আলীকদম বাজার থেকেই কিনে নেওয়া সাশ্রয়ী। স্থানীয় গাইডদের সাহায্য নিয়ে মাত্র ২,০০০ থেকে ৩,০০০ টাকার মধ্যে এই পাহাড়ি রোমাঞ্চ উপভোগ করা সম্ভব।
টেঙ্গরগিরি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য (বরগুনা): চেনা সুন্দরবনের অচেনা রূপ
সুন্দরবনের কথা শুনলেই আমরা খুলনা বা বাগেরহাটের কথা ভাবি। কিন্তু বরগুনা জেলার তালতলী উপজেলায় অবস্থিত ‘টেঙ্গরগিরি’ (যা স্থানীয়ভাবে ফাতরার বন নামেও পরিচিত) বাংলাদেশের অন্যতম বৃহত্তম এবং অনাবিষ্কৃত উপকূলীয় ম্যানগ্রোভ বন। এটি প্রায় ১৩,৯১০ একর এলাকা জুড়ে বিস্তৃত।
কেন যাবেন এবং কী দেখবেন?
একদিকে ঘন জঙ্গল, বন্য হরিণ, বুনো শুকর, বানর ও শত প্রজাতির পাখির কলকাকলি, অন্যদিকে সাগরের উত্তাল গর্জন—এই দুইয়ের এক অপূর্ব মিলনমেলা টেঙ্গরগিরি। বনের ভেতর দিয়ে বন বিভাগ তৈরি করেছে চমৎকার কাঠের ট্রেইল বা ফুটব্রিজ। সেই ট্রেইল ধরে হেঁটে চলার সময় মনে হবে আপনি কোনো আদিম অরণ্যে হারিয়ে গেছেন। এর পাশেই রয়েছে একেবারে নির্জন ‘शुभ সন্ধ্যার সৈকত’ (Shuvoshondha Beach), যেখানে কোনো পর্যটকের কোলাহল ছাড়াই সমুদ্রের ঢেউ আর চমৎকার সূর্যাস্ত দেখা যায়।
কোন সিজনে যাবেন?
টেঙ্গরগিরি বনের আসল সৌন্দর্য উপভোগ করার উপযুক্ত সময় হলো শীতকাল (নভেম্বর থেকে মার্চ)। এই সময়ে বনের ভেতরের খালগুলোতে নৌকা ভ্রমণ সহজ হয়, সাগরের রূপ শান্ত থাকে এবং বন্যপ্রাণীদের দেখা পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।
কীভাবে যাবেন?
রুট ১ (নৌপথ): ঢাকা সদরঘাট থেকে প্রতিদিন বিকেলে পটুয়াখালী বা আমতলীর লঞ্চ ছাড়ে। লঞ্চে নেমে সেখান থেকে মোটরসাইকেল বা লোকাল বাসে করে তালতলী যাওয়া যায়।
রুট ২ (সড়কপথ): ঢাকা থেকে সরাসরি বাসে করে পটুয়াখালী বা কুয়াকাটাগামী বাসে চড়ে আমতলী নামতে হবে। আমতলী থেকে লোকাল বাস বা সিএনজিতে তালতলী উপজেলা সদর। তালতলী থেকে মোটরসাইকেলে চড়ে সরাসরি টেঙ্গরগিরি ইকো-পার্কের প্রবেশদ্বারে পৌঁছানো যায়।
কুয়াকাটা বা কক্সবাজারের মতো এখানে কোনো বিলাসবহুল হোটেল নেই, তবে তালতলী সদরে সাধারণ সরকারি রেস্টহাউজ বা কটেজে খুব কম খরচে (৫০০-১০০০ টাকা) থাকা যায়। সমুদ্র উপকূলের রাখাইন আদিবাসীদের পাড়া, তাদের তাঁত শিল্প এবং ঐতিহ্যবাহী জীবনযাত্রা দেখার দারুণ সুযোগ মিলবে এখানে। জেলেদের থেকে তাজা সামুদ্রিক মাছ কিনে খাওয়ার খরচও নামমাত্র।
ঝালকাঠির ভাসমান পেয়ারা বাজার ও ভীমরুলী: বাংলার ভেনিস
বর্ষা ও শরৎকালে নদীমাতৃক বাংলাদেশের আসল এবং সতেজ সৌন্দর্য দেখতে হলে আপনাকে যেতে হবে ঝালকাঠি জেলার ভীমরুলী গ্রামে। ছোট ছোট খাল আর শত বছরের পুরানো পেয়ারা বাগানের চারপাশ জুড়ে গড়ে ওঠা এই অঞ্চলটিকে অনেকেই ‘বাংলার ভেনিস’ বলে থাকেন।
কেন যাবেন এবং কী দেখবেন?
ভোরের আলো ফুটতেই শত শত দেশী নৌকা বোঝাই সবুজ ও হলুদ কচি পেয়ারা নিয়ে খালের ওপর জড়ো হন স্থানীয় চাষীরা। নৌকার ওপরেই চলে পাইকারি বেচাকেনা। খালের দুপাশের মাইলের পর মাইল পেয়ারা বাগান এবং দেশীয় ডিঙি নৌকায় চড়ে সেই বাগানের ভেতরের সরু নালা দিয়ে ঘুরে বেড়ানোর অনুভূতি সম্পূর্ণ আলাদা। চাষীদের পেয়ারা তোলার দৃশ্য এবং শান্ত ও সবুজে ঘেরা গ্রামীণ পরিবেশ আপনার চোখের নিমেষে শহরের সব ক্লান্তি দূর করে দেবে।
কোন সিজনে যাবেন?
এই জায়গার একটি নির্দিষ্ট সিজন রয়েছে। ভীমরুলী যাওয়ার একমাত্র সেরা সময় হলো বর্ষাকাল (জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর)। এই সময়েই পেয়ারা পাকে এবং ভাসমান বাজারটি পূর্ণ যৌবন পায়। বছরের অন্য সময়ে গেলে এই রূপ দেখা যাবে না।
কীভাবে যাবেন?
রুট: ঢাকা সদরঘাট থেকে প্রতিদিন রাতে হুলারহাট বা বরিশালের বিলাসবহুল লঞ্চ ছাড়ে। আপনি ঝালকাঠি বা বরিশাল সদরে নামতে পারেন।
লোকাল যাতায়াত: বরিশাল বা ঝালকাঠি লঞ্চ ঘাট থেকে সিএনজি বা মাহিন্দ্রা ভাড়া করে সরাসরি চলে যান ‘ভীমরুলী ঘাট’। ভীমরুলী ঘাট থেকে স্থানীয় মাঝিদের ছোট ডিঙি নৌকা বা ট্রলার ভাড়া (ঘণ্টা প্রতি ৩০০-৫০০ টাকা) করে পুরো বাজার ও বাগান ঘুরে দেখা যায়।বরিশাল বা ঝালকাঠি থেকে ডে-ট্যুর বা এক দিনেই এই বাজার ঘুরে আসা যায়, তাই বাড়তি থাকার খরচের প্রয়োজন হয় না। স্থানীয় নদীকেন্দ্রিক জীবনযাত্রা, ঐতিহ্যবাহী গামছা ও শীতলপাটি তৈরির শিল্পীদের সাথে সময় কাটানো যায়। দুপুরের খাবারের জন্য খালের পাড়েই ছোট বাজার আছে, যেখানে খাঁটি দেশী মাছ ও রসগোল্লা পাওয়া যায় অত্যন্ত সস্তায়।
হাওর অঞ্চলের গুপ্ত রত্ন: শনির হাওর (সুনামগঞ্জ)
টাঙ্গুয়ার হাওরের নাম ডাক এখন সারা দেশে, যার ফলে সেখানে এখন পর্যটকদের অতিরিক্ত ভিড় আর যান্ত্রিক হাউসবোটের কোলাহল লেগেই থাকে। কিন্তু আপনি যদি সত্যিকারের জনমানবহীন, বিশাল জলরাশির নীরবতা এবং পাখির কলকাকলি উপভোগ করতে চান, তবে আপনার গন্তব্য হওয়া উচিত সুনামগঞ্জের ‘শনির হাওর’।
কেন যাবেন এবং কী দেখবেন?
শনির হাওরের আয়তন বিশাল এবং এর চারপাশটা যেন দিগন্তের সাথে মিশে গেছে। বর্ষাকালে এই হাওর সমুদ্রের রূপ ধারণ করে, যেখানে তাকালে শুধু পানি আর পানি দেখা যায়। ছোট একটি সাধারণ কাঠের নৌকা ভাড়া করে থইথই পানির বুকে ঘুরে বেড়ানো এবং পানির নিচে আংশিক ডুবে থাকা হিজল-করচের বনের মাঝে বুনো পাখির ওড়াউড়ি দেখার আনন্দ ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। বিকেলে হাওরের একদম মাঝখানে দাঁড়িয়ে টকটকে লাল রঙের সূর্যাস্ত এক মায়াবী ও অলৌকিক পরিবেশ তৈরি করে।
কোন সিজনে যাবেন?
শনির হাওর ভ্রমণের সেরা সময় হলো টৈটম্বুর বর্ষাকাল (জুন থেকে অক্টোবর)। এই সময়ে হাওর পানিতে পরিপূর্ণ থাকে। তবে আপনি যদি শীতকালে যান (ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি), তবে হাওরের রূপ বদলে যায়; তখন সেখানে দেখা মেলে হাজার হাজার পরিযায়ী বা অতিথি পাখি এবং সবুজ ফসলের মাঠ।
কীভাবে যাবেন?
রুট: ঢাকা থেকে সরাসরি সুনামগঞ্জগামী বহু দূরপাল্লার বাস রয়েছে। সুনামগঞ্জ শহরে নেমে সেখান থেকে সাহেব বাড়ি ঘাট বা চলতি নদী ঘাটে যেতে হবে।
ঘাট থেকে হাওর: ঘাট থেকে সরাসরি শনির হাওরে যাওয়ার জন্য ট্রলার বা সাধারণ নৌকা পাওয়া যায়। সারা দিনের জন্য একটি নৌকা ১,৫০০ থেকে ২,৫০০ টাকায় ভাড়া করে মনের মতো ঘুরে বেড়ানো যায়।টাঙ্গুয়ার হাওরের বিলাসবহুল হাউসবোটের আকাশচুম্বী খরচ ছাড়াই এই হাওরে খুব কম খরচে ভ্রমণ করা সম্ভব। রাতে থাকার জন্য সুনামগঞ্জ শহরের সাধারণ মানের হোটেলে থাকতে পারেন। হাওরের প্রান্তিক জেলেদের জীবন সংগ্রাম এবং নদী থেকে সদ্য ধরা টাটকা দেশী মাছের তরকারি দিয়ে দুপুরের খাবারের স্বাদ আপনার ভ্রমণকে আজীবন স্মৃতির পাতায় ধরে রাখবে।
আত্রাইয়ের পতিসর ও রবীন্দ্র কাঁচারি বাড়ি (নওগাঁ): নদী ও সাহিত্যের মেলবন্ধন
যারা প্রকৃতির পাশাপাশি ইতিহাস, সাহিত্য ও শান্ত গ্রামীণ পরিবেশ ভালোবাসেন, তাদের জন্য নওগাঁ জেলার আত্রাই নদীর তীরে অবস্থিত ‘পতিসর’ একটি আদর্শ অফবিট জায়গা। এটি বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জমিদারি ও তার বহু কালজয়ী সৃষ্টির স্মৃতিবিজড়িত একটি শান্ত পল্লী।
কেন যাবেন এবং কী দেখবেন?
আত্রাই নদীর শান্ত বয়ে চলা এবং নদীর তীরের শান্ত স্নিগ্ধ গ্রাম আপনাকে এক লহমায় ব্যস্ত জীবনের সব মানসিক চাপ ভুলিয়ে দেবে। কবিগুরুর পতিসর কুঠিবাড়ি, তার ব্যবহৃত আসবাবপত্র, ঐতিহাসিক দীঘি এবং তার চারপাশের সুনিবিড় পরিবেশ অত্যন্ত মনোরম। এখানে নেই কোনো আধুনিক শহরের কৃত্রিম কোলাহল, আছে কেবল গ্রামীণ নীরবতা এবং সাহিত্যের সুবাস। রবিঠাকুর এই পতিসরে বসেই তার বিখ্যাত ‘আমাদের ছোট নদী’ কবিতাসহ বহু গান ও ছোটগল্প রচনা করেছিলেন।
কোন সিজনে যাবেন?
পতিসর ভ্রমণের জন্য শরৎকাল ও শীতকাল (অক্টোবর থেকে মার্চ) সবচেয়ে উপযুক্ত। এই সময়ে উত্তরবঙ্গের আবহাওয়া বেশ মনোরম থাকে এবং আত্রাই নদীর তীরের কাশফুল ও গ্রামীণ সরিষা ক্ষেতের সৌন্দর্য দেখার মতো হয়।
কীভাবে যাবেন?
রুট ১ (ট্রেন): ঢাকা থেকে সান্তাহার বা আত্রাই রেলওয়ে স্টেশনের সরাসরি আন্তঃনগর ট্রেন রয়েছে। আত্রাই স্টেশনে নেমে সেখান থেকে সিএনজি বা ইজিবাইকে চড়ে খুব সহজে পতিসর কুঠিবাড়ি যাওয়া যায়।
রুট ২ (সড়কপথ): ঢাকা থেকে নাটোর বা নওগাঁগামী বাসে উঠে আত্রাই বিশ্বরোড নামতে হবে, সেখান থেকে লোকাল যাতায়াতের মাধ্যমে পতিসর যাওয়া সম্ভব।
উত্তরবঙ্গের খাঁটি গ্রামীণ সংস্কৃতি, বাউল গান এবং মাটির তৈরি তৈজসপত্রের কারিগরদের জীবনধারা দেখার জন্য এটি একটি চমৎকার অফবিট ডেস্টিনেশন। নওগাঁ বা নাটোর শহরে থাকার জন্য ভালো মানের হোটেল রয়েছে, যার খরচ বেশ সাশ্রয়ী। স্থানীয় গ্রামীণ হোটেলের খাঁটি দেশী খাবার ও খাঁটি গরুর দুধের মিষ্টির স্বাদ মাত্র কয়েকশ টাকার মধ্যেই অনায়াসে উপভোগ করা যায়।
আমাদের দেশের চেনা ও অতি-বাণিজ্যিক পর্যটন কেন্দ্রগুলোর ওপর থেকে মানুষের মানসিক চাপ কমাতে এবং ভ্রমণের প্রকৃত ও অকৃত্রিম আনন্দ ফিরে পেতে আমাদের এই অনাবিষ্কৃত অফবিট জায়গাগুলোর দিকে নজর দেওয়া উচিত। তবে একজন দায়িত্বশীল ভ্রমণকারী হিসেবে আমাদের মনে রাখতে হবে—এই জায়গাগুলো এখনো সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন থাকার একমাত্র কারণ হলো এখানে সাধারণ ট্যুরিস্টদের প্লাস্টিক ও বর্জ্যের দূষণ এখনো পৌঁছায়নি। তাই আমাদের দায়িত্ব হলো, এই শান্ত গ্রাম, পাহাড় ও নদীমাতৃক অঞ্চলগুলোর পরিবেশ যেন কোনোভাবেই প্লাস্টিকের বোতল বা ময়লা ফেলে নষ্ট না করি। স্থানীয় মানুষের সংস্কৃতি, সরলতা ও গোপনীয়তাকে সর্বোচ্চ সম্মান জানিয়ে কম খরচে প্রকৃতির আসল রূপ উপভোগ করার চেয়ে তৃপ্তিদায়ক আর কিছুই হতে পারে না।