স্পোর্টস ডেস্ক, পাবনানিউজ২৪: ফুটবলবিশ্বে ‘ডেভিড বনাম গোলিয়াথ’-এর গল্প আমরা অনেক শুনেছি। কিন্তু ২০২৬ উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপে মাত্র সাড়ে পাঁচ লাখ জনসংখ্যার এক ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্র যা করে দেখালো, তাকে রূপকথা বললেও হয়তো কম বলা হবে। গ্রুপ ‘এইচ’ (Group H)-এর শেষ ম্যাচে সৌদি আরবের সাথে ০-০ গোলে ড্র করে নিজেদের প্রথম বিশ্বকাপেই শেষ ৩২ বা নক-আউট পর্ব নিশ্চিত করেছে কেপ ভার্দে! বিদায় নিয়েছে উরুগুয়ের মতো সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দল।
বিশ্বকাপ শুরুর আগে ফুটবল পণ্ডিতরা যখন এই গ্রুপ থেকে স্পেন আর উরুগুয়ের নক-আউটের টিকিট অগ্রিম কেটে রেখেছিলেন, তখন আটলান্টিকের বুক থেকে উঠে আসা ‘ব্লু শার্কস’রা মনে মনে লিখছিল এক অন্য চিত্রনাট্য।
স্পেনের প্রাচীর ভাঙা থেকে উরুগুয়ের বুকে কাঁপন
কেপ ভার্দের এই অবিশ্বাস্য যাত্রার শুরুটা হয়েছিল আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে। নিজেদের ইতিহাসের প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচে সামনে ছিল পরাশক্তি স্পেন। সবাই ভেবেছিল স্প্যানিশ আর্মাডার সামনে স্রেফ উড়ে যাবে এই পুচকে দল। কিন্তু নিরেট ডিফেন্স আর ইস্পাতকঠিন মানসিকতায় স্পেনকে ০-০ গোলে রুখে দিয়ে বিশ্বকে চমকে দেয় তারা।
চমকের ওখানেই শেষ ছিল না। মিয়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে উরুগুয়ের বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচে কেভিন পিনা এবং হেলিও ভারেলার ইতিহাস জড়ানো গোলে ২-২ ব্যবধানে ড্র করে তারা। সাবেক দুই বিশ্বচ্যাম্পিয়নকে রুখে দেওয়ার পর গোটা ফুটবল বিশ্বের মন জয় করে নেয় এই দ্বীপরাষ্ট্রটি।
সৌদি বধের রাতে ইতিহাস ছোঁয়া ড্র
গ্রুপ পর্বের শেষ সমীকরণ ছিল সৌদি আরবের বিরুদ্ধে। হিউস্টনের স্টেডিয়ামে স্নায়ুচাপের এক চরম পরীক্ষা ছিল কেপ ভার্দের সামনে। আক্রমণ আর পাল্টা আক্রমণে ঠাসা ম্যাচে গোলরক্ষক ভোজিনহার একেকটি দুর্দান্ত সেভ কেপ ভার্দেকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখে। শেষ বাঁশি বাজার সাথে সাথেই গ্যালারিতে থাকা হাজারো কেপ ভার্দে সমর্থক এবং মাঠের ফুটবলারদের চোখে আনন্দের অশ্রু নেমে আসে। ৩ ম্যাচে ৩টি অবিস্মরণীয় ড্র নিয়ে অপরাজিত থেকে গ্রুপের রানার্স-আপ হিসেবে তারা পা রাখলো নক-আউটে।
কোচ বুবিস্তার আবেগঘন বার্তা: > "আমার মনে হচ্ছে আমি কোনো স্বপ্ন দেখছি। ছোটবেলা থেকে যে বিশ্বকাপের স্বপ্ন দেখতাম, আজ সেখানে আমরা ইতিহাস গড়লাম। এই আনন্দ পুরো কেপ ভার্দেবাসীর। তবে আমাদের পা মাটিতেই আছে, সামনে আর্জেন্টিনা— আমরা বিশ্বাস করি, ফুটবলে অসম্ভব বলে কিছু নেই।"
পাবনানিউজ২৪-এর শেষ কথা: এবার সামনে মেসিদের আর্জেন্টিনা!
বিশ্বকাপের পরিধি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে যারা সমালোচনা করেছিলেন, কেপ ভার্দের এই সাফল্য তাদের গালে এক সজোড় চপেটাঘাত। উরুগুয়ের মতো ঐতিহ্যবাহী ফুটবল পরাশক্তি যখন বিদায় নিচ্ছে, তখন মাত্র ৫০০,০০০ জনসংখ্যার একটি দেশ খেলবে নক-আউট পর্ব।
তবে রূপকথার গল্পটা এখানেই শেষ হচ্ছে না। শেষ ৩২-এর মহালড়াইতে আগামী ৩ জুলাই মিয়ামিতে কেপ ভার্দের মুখোমুখি হবে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা! বিশ্বজয়ী মেসিদের বিরুদ্ধে এই ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্রের স্বপ্নের দৌড় কতদূর যায়, তা দেখতে মুখিয়ে আছে পুরো ফুটবল বিশ্ব।