নিউজ ডেস্ক || পাবনা নিউজ ২৪
পবিত্র হজ পালন শেষে কোনো ধরনের বড় ধরনের জটিলতা ছাড়াই সফলভাবে সম্পন্ন হলো চলতি বছরের হজের ফিরতি ফ্লাইট কার্যক্রম। সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এ বছর সর্বমোট ৭৯,১০০ জন বাংলাদেশি হাজি ও হজের সেবা প্রদানকারী (গাইড ও চিকিৎসক দল) নিরাপদে সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরে এসেছেন। গত ৩০ জুন রাতে শেষ ফিরতি ফ্লাইটটি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের মধ্য দিয়ে শেষ হয় ৫ সপ্তাহের এই বিশাল বিমান পরিবহন সেবা।ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় পরিচালিত হজ বুলেটিনের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। এবারের হজের ফিরতি ফ্লাইট শুরু হয়েছিল গত ৩০ মে এবং তা সফলভাবে ১ জুলাইয়ের মধ্যে শতভাগ সম্পন্ন করা হয়।
সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনার হাজিদের চিত্র
চলতি বছরের হজের চূড়ান্ত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাংলাদেশ থেকে মোট হজ কোটার বিপরীতে নিবন্ধিত হাজিরা দুটি ভিন্ন ব্যবস্থাপনায় সৌদি আরব গিয়েছিলেন। দেশে ফেরার ক্ষেত্রেও তাদের জন্য বিশেষ কোটা ও শিডিউল বজায় রাখা হয়েছিল:
সরকারি ব্যবস্থাপনা: সরকারি ব্যবস্থাপনার অধীনে মোট ৪,৪৫৯ জন হাজি নিরাপদে দেশে ফিরে এসেছেন।
বেসরকারি ব্যবস্থাপনা: বেসরকারি বিভিন্ন ট্রাভেল এজেন্সির তত্ত্বাবধানে হজে যাওয়া ৭৪,৬৪১ জন হাজি সফলভাবে নিজ মাতৃভূমিতে প্রত্যাবর্তন করেছেন।
হজ অফিসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিমানবন্দরগুলোতে হাজিদের জমজমের পানি বিতরণ এবং ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করার জন্য বিশেষ বুথ স্থাপন করায় এবার হাজিদের দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে ভোগান্তির শিকার হতে হয়নি।
এয়ারলাইন্সভিত্তিক হজযাত্রী পরিবহনের পূর্ণাঙ্গ পরিসংখ্যান
এবারের ফিরতি হজ ফ্লাইট পরিচালনায় সৌদি আরব এবং বাংলাদেশের ৩টি অনুমোদিত প্রধান এয়ারলাইন্স দায়িত্ব পালন করেছে। মোট ২১৬টি ফিরতি ফ্লাইটের মাধ্যমে হাজিদের দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। এয়ারলাইন্সগুলোর পারফরম্যান্সের বিস্তারিত উপাত্ত নিচে দেওয়া হলো:
| বিমান সংস্থার নাম | পরিচালিত মোট ফ্লাইট | ফিরিয়ে আনা হাজির সংখ্যা |
| বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স | ১১৬টি | ৩৪,৫৬৭ জন |
| সৌদিয়া এয়ারলাইন্স (Saudia) | ৭০টি | ২৫,৩৭৭ জন |
| ফ্লায়নাস এয়ারলাইন্স (Flynas) | ৩০টি | ১১,০৪৩ জন |
| অন্যান্য এয়ারলাইন্স | — | ৮,১১৩ জন |
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মোট হাজির প্রায় ৪৩ শতাংশেরও বেশি হাজিকে এককভাবে পরিবহন করেছে দেশের জাতীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স।
সৌদি আরবে ৫৫ বাংলাদেশি হাজির ইন্তেকাল
এবারের পবিত্র হজের পুরো মৌসুমে সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থানে মোট ৫৫ জন বাংলাদেশি হাজি ও হজযাত্রী ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত হাজিদের মধ্যে ৩৭ জন পুরুষ এবং ১৮ জন নারী ছিলেন।
হজ বুলেটিনের তথ্য অনুযায়ী, মৃতদের মধ্যে মক্কায় ৩৭ জন, পবিত্র মদিনা মুনাওয়ারায় ১৭ জন এবং জেদ্দায় ১ জন মারা যান। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, এ বছর মিনা, আরাফাহ কিংবা মুজদালিফায় কোনো বাংলাদেশি হাজির মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। সৌদি আরবের নিয়ম অনুযায়ী, ইন্তেকাল করা এই সকল হাজিদের পবিত্র মক্কা ও মদিনার নির্দিষ্ট কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে।
চিকিৎসা ও আইটি সেবার বিবরণ
হজ মিশন বাংলাদেশ জানিয়েছে, পবিত্র হজ পালনকালে হাজিদের সেবা দিতে মক্কা ও মদিনায় বিশেষ মেডিকেল সেন্টার এবং আইটি হেল্প ডেস্ক সার্বক্ষণিক নিয়োজিত ছিল। সৌদি আরবের বিভিন্ন চিকিৎসা কেন্দ্র থেকে এ বছর বাংলাদেশি হাজিদের মোট ৬৭,১৩৯টি স্বয়ংক্রিয় চিকিৎসা ব্যবস্থাপত্র (Automated Prescriptions) দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ৪১৫ জন হাজি মক্কা ও মদিনার স্থানীয় হাসপাতালে জরুরি চিকিৎসা নিয়েছেন এবং শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত বেশ কয়েকজন সুস্থ হয়ে দেশে ফিরেছেন। মক্কা ও মদিনার আইটি ডেস্ক থেকে প্রায় ২৮,৪৫২ জন হাজিকে হারিয়ে যাওয়া বা বিভিন্ন ডিজিটাল সেবা দিয়ে সহায়তা করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়েছিল গত ১৮ এপ্রিল প্রাক-হজ ফ্লাইটের মাধ্যমে, যা শেষ হয় ২১ মে। এরপর ২৬ মে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হয়। সব মিলিয়ে অত্যন্ত সুশৃঙ্খল এবং সফলভাবে এবারের হজ অপারেশন সমাপ্ত করায় ধর্ম মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সগুলোকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন হাজি ও তাদের পরিবারের সদস্যরা।