Home ধর্ম ও জীবন পবিত্র কাবাঘর ধোয়ার পদ্ধতি ও আসবাব: কেমন থাকে কাবার ভেতরের দৃশ্য?

পবিত্র কাবাঘর ধোয়ার পদ্ধতি ও আসবাব: কেমন থাকে কাবার ভেতরের দৃশ্য?

0
পবিত্র কাবাঘর ধোয়ার পদ্ধতি ও আসবাব: কেমন থাকে কাবার ভেতরের দৃশ্য?

ধর্ম ও সমাজ ডেস্ক, পাবনা নিউজ ২৪:

পবিত্র কাবা শরিফ—বিশ্বের কোটি কোটি মুসলিমের হৃদয়ের স্পন্দন ও ইবাদতের কেন্দ্রবিন্দু। প্রতি বছর নির্দিষ্ট সময়ে অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণ ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পবিত্র কাবার ভেতরের অংশ ধোয়ার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়। সৌদি আরবের বাদশা বা তাঁর বিশেষ প্রতিনিধির নেতৃত্বে মক্কা ও মদিনার হারামাইন কমিটির শীর্ষ ব্যক্তি এবং মুসলিম দেশগুলোর রাষ্ট্রদূতরা এই মহতি কার্যক্রমে অংশ নেন। কিন্তু সাধারণ মানুষের মনে সবসময়ই কৌতুহল থাকে—কীভাবে ধোয়া হয় এই পবিত্র ঘর? আর কাবার ভেতরেই বা কী কী আসবাবপত্র রয়েছে? আজকের বিশেষ প্রতিবেদনে আমরা তা বিস্তারিত জানবো।

পবিত্র কাবাঘর ধোয়ার ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতি

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর মক্কা বিজয়ের পর থেকে কাবার ভেতরের অংশ ধুয়ে পরিষ্কার করার এই নিয়মটি সুন্নাত হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। বর্তমানে বছরে সাধারণত একবার (কোনো কোনো বিশেষ পরিস্থিতিতে দুবার) এই ধোয়ার কাজ সম্পন্ন করা হয়। এর পুরো প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত নিখুঁত ও পবিত্র উপায়ে করা হয়:

  • পবিত্র জমজমের পানি ও খাঁটি গোলাপ জল: কাবা শরিফ ধোয়ার জন্য সাধারণ কোনো পানি ব্যবহার করা হয় না। কুয়োর তাজা জমজমের পানির সাথে মক্কার ঐতিহ্যবাহী তায়েফি গোলাপ জল, খাঁটি উদ (আগরকাঠের তেল) এবং অত্যন্ত মূল্যবান সুগন্ধি মেশানো হয়।
  • বিশেষ কাপড়ের ব্যবহার: সুগন্ধিযুক্ত এই পবিত্র পানির মিশ্রণ কাবার ভেতরের দেয়ালে এবং মার্বেল পাথরের মেঝেতে ছিটানো হয়। এরপর বিশেষ সাদা কাপড় এবং খেজুর পাতা দিয়ে তৈরি করা ঐতিহ্যবাহী ঝাড়ু দিয়ে দেয়াল ও মেঝে ঘষে ঘষে পরিষ্কার করা হয়।
  • আগরকাঠের ধোঁয়া ও সুবাস: ধোয়ার কাজ শেষ হওয়ার পর খাঁটি উদ বা আগরকাঠের সুগন্ধি ধূপ জ্বালানো হয়, যা কাবার ভেতরের বাতাসকে এক স্বর্গীয় সুবাসে সুবাসিত করে তোলে। এই সুগন্ধি দীর্ঘ সময় কাবার ভেতরে স্থায়ী হয়।

পবিত্র কাবার ভেতরের আসবাব ও ভেতরের দৃশ্য

কাবার ভেতরে কোনো বিলাসবহুল আসবাবপত্র বা অতিরিক্ত জাঁকজমক থাকে না। এর ভেতরের পরিবেশ অত্যন্ত সাদামাটা কিন্তু গাম্ভীর্যপূর্ণ:

  • তিনটি কাঠের স্তম্ভ (খুঁটি): কাবার ছাদকে ধরে রাখার জন্য ঠিক মাঝখানে উত্তর থেকে দক্ষিণে সারিবদ্ধভাবে তিনটি মজবুত কাঠের স্তম্ভ রয়েছে। এগুলো অন্ধকারাচ্ছন্ন রঙের এবং অত্যন্ত প্রাচীন ও মূল্যবান কাঠ দিয়ে তৈরি।
  • ঝুলন্ত লণ্ঠন বা প্রদীপ: এই স্তম্ভগুলোর মাঝখানে ওপরের দিকে বেশ কিছু ঐতিহাসিক এবং প্রাচীন লণ্ঠন ও প্রদীপ ঝুলন্ত অবস্থায় থাকে। এগুলো মূলত সোনা, রুপা ও তামা দিয়ে তৈরি, যা কাবার ভেতরের ইতিহাসকে স্মরণ করিয়ে দেয়।
  • মূল্যবান সুগন্ধির টেবিল: কাবার ভেতরে একটি বিশেষ মার্বেল পাথরের টেবিল বা সদৃশ আসবাব রয়েছে। কাবা ধোয়ার সময় ব্যবহৃত সুগন্ধি, গোলাপ জল এবং উদ-এর পাত্রগুলো এই টেবিলের ওপরই সাজিয়ে রাখা হয়।
  • তওবার দরজা (বাবুত তাওবাহ): কাবার ভেতরে ডান কোণায় একটি ছোট সোনার দরজা রয়েছে, যা মূলত কাবার ছাদে ওঠার সিঁড়ির পথ। এটিকে ‘বাবুত তাওবাহ’ বা তওবার দরজা বলা হয়।
  • মার্বেল পাথরের মেঝে ও দেয়াল: কাবার ভেতরের মেঝে এবং দেয়ালের অর্ধেক অংশ পর্যন্ত সাদা ও ধূসর রঙের নিখুঁত মার্বেল পাথর দিয়ে মোড়ানো। দেয়ালের ওপরের অংশে সবুজ রঙের রেশমি কাপড় বা গিলাফ লাগানো থাকে, যাতে পবিত্র কুরআনের আয়াত খচিত থাকে।

সমাপনী কথা

পবিত্র কাবা শরিফ ধোয়ার এই দৃশ্য এবং এর ভেতরের সরল আসবাবপত্র আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, মহান আল্লাহর দরবারে বাহ্যিক জৌলুসের চেয়ে অন্তরের পবিত্রতাই সবচেয়ে বেশি মূল্যবান। প্রতি বছর এই ধোয়ার অনুষ্ঠান বিশ্ব মুসলিমের কাছে এক পরম আবেগ ও শ্রদ্ধার প্রতীক।

ইসলামি সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং মক্কা-মদিনার এমন সব হৃদয়স্পর্শী ও অজানা তথ্য সবার আগে পড়তে পাবনা নিউজ ২৪-এর সাথেই থাকুন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here