Home লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য কিডনি রোগীরা রাতে দুধ খেতে পারবে? জানুন বিশেষজ্ঞদের মতামত ও জরুরি সতর্কতা

কিডনি রোগীরা রাতে দুধ খেতে পারবে? জানুন বিশেষজ্ঞদের মতামত ও জরুরি সতর্কতা

0
কিডনি রোগীরা রাতে দুধ খেতে পারবে? জানুন বিশেষজ্ঞদের মতামত ও জরুরি সতর্কতা

স্বাস্থ্য ও পুষ্টি ডেস্ক, পাবনা নিউজ ২৪:

কিডনি মানবদেহের অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি অঙ্গ, যা শরীরের বর্জ্য ও অতিরিক্ত তরল ছেঁকে বের করে দেয়। কিডনি যখন তার স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা হারিয়ে ফেলে, তখন রোগীদের খাদ্যতালিকায় আসে আমূল পরিবর্তন। সাধারণ মানুষের জন্য এক গ্লাস গরম দুধ পরম পুষ্টিকর এবং চমৎকার ঘুমের সহায়ক হলেও, কিডনি রোগীদের ক্ষেত্রে এটি হিতে বিপরীত হতে পারে। অনেকেই জানতে চান, কিডনি রোগীরা রাতে দুধ খেতে পারবে কি না? চিকিৎসাবিজ্ঞান এবং পুষ্টিবিদদের মতে, এর উত্তরটি সবার জন্য এক নয়। এটি সম্পূর্ণ নির্ভর করে রোগীর রোগ কতটা গুরুতর এবং তাঁর রক্তের রিপোর্টের ওপর।

কেন কিডনি রোগীদের দুধ খাওয়ার ক্ষেত্রে কড়াকড়ি থাকে?

দুধে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন ও ক্যালসিয়ামের পাশাপাশি উচ্চ মাত্রায় দুটি উপাদান থাকে—পটাশিয়াম ও ফসফরাস। সুস্থ কিডনি এই উপাদানগুলোর অতিরিক্ত অংশ শরীর থেকে প্রস্রাবের মাধ্যমে বের করে দেয়। কিন্তু কিডনি বিকল হতে থাকলে এই ক্ষমতা কমে যায়।

  • রক্তে অতিরিক্ত ফসফরাস: দুধে থাকা ফসফরাস শরীর থেকে বের হতে না পারলে তা রক্তে জমতে থাকে। এর ফলে হাড় দুর্বল ও ভঙ্গুর হয়ে যায় এবং শরীরে তীব্র চুলকানি দেখা দিতে পারে।
  • রক্তে অতিরিক্ত পটাশিয়াম: রক্তে পটাশিয়ামের মাত্রা বেড়ে গেলে তা সরাসরি হৃদপিণ্ডের ওপর প্রভাব ফেলে, যা হৃদস্পন্দন অনিয়মিত করা থেকে শুরু করে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি পর্যন্ত বাড়িয়ে দেয়।

কন্ডিশন বা পর্যায় অনুযায়ী দুধ খাওয়ার নিয়ম

কিডনি রোগের স্টেজ বা পর্যায় ভেদে দুধ খাওয়ার নিয়ম ভিন্ন হয়:

১. প্রাথমিক পর্যায়ের রোগী (CKD Stage 1-3):

যাদের কিডনি রোগ প্রাথমিক পর্যায়ে আছে এবং রক্তের রিপোর্টে পটাশিয়াম ও ফসফরাসের মাত্রা স্বাভাবিক রয়েছে, তারা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রাতে সীমিত পরিমাণে দুধ খেতে পারেন। তবে তা অবশ্যই দিনে ১০০ মিলি বা আধা কাপের বেশি হওয়া উচিত নয়।

২. শেষ পর্যায়ের রোগী ও ডায়ালাইসিস (CKD Stage 4-5):

যাদের কিডনি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বা যারা নিয়মিত ডায়ালাইসিস নিচ্ছেন, তাদের রক্তে ফসফরাস ও পটাশিয়াম দ্রুত বেড়ে যায়। তাই এই পর্যায়ের রোগীদের রাতে বা দিনে যেকোনো সময়ই দুধ এবং দুগ্ধজাত খাবার (যেমন: মিষ্টি, দই, পনির) সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়।

রাতে দুধ খাওয়ার সঠিক নিয়ম

যদি চিকিৎসক কোনো রোগীকে দুধ খাওয়ার অনুমতি দেন, তবে রাতে ঘুমানোর ঠিক আগমুহূর্তে দুধ খাওয়া যাবে না। রাতের খাবার বা ডিনারের অন্তত ১ থেকে ২ ঘণ্টা পর এবং ঘুমানোর ১ ঘণ্টা আগে হালকা গরম ও ননিহীন (Low-fat) দুধ খাওয়া উচিত, যাতে তা সহজে হজম হয়।

গরুর দুধের বিকল্প কী হতে পারে?

যদি ক্যালসিয়ামের প্রয়োজন হয় বা দুধ খাওয়ার তীব্র ইচ্ছা থাকে, তবে চিকিৎসকের সাথে কথা বলে গরুর দুধের বিকল্প হিসেবে বাদামের দুধ (Almond Milk) বা সয়া মিল্ক (Soy Milk) বেছে নেওয়া যেতে পারে। কারণ এগুলোতে পটাশিয়াম ও ফসফরাসের পরিমাণ গরুর দুধের তুলনায় অনেক কম থাকে।

সমাপনী কথা

পরিশেষে বলা যায়, কিডনি রোগীদের জন্য কোনো নির্দিষ্ট ডায়েট চার্ট সবার ওপর একভাবে খাটে না। তাই রাতে দুধ খাওয়ার আগে রোগীর সর্বশেষ রক্তের রিপোর্ট (Creatinine, Potassium, Phosphorus) একজন বিশেষজ্ঞ নেফ্রোলজিস্ট বা রেনাল ডায়েটিশিয়ানকে দেখিয়ে সঠিক পরিমাণ জেনে নেওয়াটাই সবচেয়ে নিরাপদ।

সুস্থ জীবনধারা, বিভিন্ন রোগের পথ্য এবং প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য টিপস সবার আগে পড়তে পাবনা নিউজ ২৪-এর সাথেই থাকুন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here