পাবনা নিউজ ২৪ স্পোর্টস ডেস্ক: ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে এক স্নায়ুক্ষয়ী ম্যাচে দুর্দান্ত জয় তুলে নিয়েছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলা ১-১ গোলে সমতায় থাকার পর, অতিরিক্ত সময়ের নাটকীয়তায় সুইসদের ৩-১ ব্যবধানে হারিয়ে সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে আলবিসেলেস্তেরা।
এই জয়ে আগামী বৃহস্পতিবার ফুটবল বিশ্বের আরেক পরাশক্তি ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে লিওনেল মেসির দল।
ম্যাচের শুরুতেই ম্যাক অ্যালিস্টারের চমক ও মেসির রেকর্ড
ম্যাচের শুরু থেকেই কানসাস সিটির অ্যারোহেড স্টেডিয়ামে চড়তে থাকে উত্তেজনার পারদ। ম্যাচের মাত্র ১০ মিনিটেই ডেডলক ভাঙেন আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার। অধিনায়ক লিওনেল মেসির চমৎকার কর্নার কিক থেকে হেডের সাহায্যে বল জালে জড়ান তিনি। এই অ্যাসিস্টের মাধ্যমে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ অ্যাসিস্টের (১০টি) অনন্য রেকর্ড গড়েন মেসি।
সুইজারল্যান্ডের লড়াই এবং লাল কার্ডের ধাক্কা
১-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার পরও হাল ছাড়েনি সুইজারল্যান্ড। ম্যাচের দ্বিতীয় রিফ্রেমে ড্যান এনডয় চমৎকার এক আক্রমণে গোল করে সুইসদের ১-১ সমতায় ফেরান। তবে ম্যাচের ৭৮ মিনিটে সুইস তারকা ব্রেল এমবোলো লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে ১০ জনের দলে পরিণত হয় সুইজারল্যান্ড। এরপর নির্ধারিত সময় পর্যন্ত আর কোনো গোল না হওয়ায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।
“আমরা আর্জেন্টাইনরা কষ্ট সহ্য করতে জানি”
১০ জনের সুইজারল্যান্ডের জমাট রক্ষণভাগ ভাঙতে আর্জেন্টিনাকে বেশ বেগ পেতে হচ্ছিল। ম্যাচ শেষে এই কঠিন লড়াইয়ের মানসিকতা নিয়ে কথা বলেন গোলদাতা ম্যাক অ্যালিস্টার। তিনি বলেন:
“আমরা আর্জেন্টাইনরা কষ্ট সহ্য করতে জানি। মাঠে যখনই কঠিন পরিস্থিতি আসে, আমরা ভেঙে পড়ি না; বরং আরও শক্তিশালী হয়ে ঘুরে দাঁড়াই। আজকেও আমরা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত হাল ছাড়িনি এবং এই জয় আমাদের প্রাপ্য ছিল।”
অতিরিক্ত সময়ে আলভারেজ ও লাউতারো ম্যাজিক
ম্যাক অ্যালিস্টারের সেই কথার প্রমাণ মেলে অতিরিক্ত সময়ে। ম্যাচের ১১৫ মিনিটে জাদুর ছোঁয়া দেখান হুলিয়ান আলভারেজ। ডি-বক্সের বেশ দূর থেকে নেওয়া এক দূরপাল্লার বাঁকানো শটে সুইস গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন তিনি। আর্জেন্টিনা এগিয়ে যায় ২-১ ব্যবধানে।
এরপর ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্তে (১২০ মিনিটে) সুইসদের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠোকেন লাউতারো মার্তিনেজ। এক দুর্দান্ত কাউন্টার অ্যাটাক থেকে বল পেয়ে আলতো ট্যাপ-ইনে গোল করে আর্জেন্টিনার ৩-১ ব্যবধানের জয় এবং সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেন এই স্ট্রাইকার।