Home ফিচার রেকর্ড রেমিট্যান্স প্রবাহ: চলতি মাসের প্রথম ২৮ দিনেই দেশে ২৫৮ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা মাসের হিসাবে আড়াই বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছে

রেকর্ড রেমিট্যান্স প্রবাহ: চলতি মাসের প্রথম ২৮ দিনেই দেশে ২৫৮ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা মাসের হিসাবে আড়াই বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছে

0
রেকর্ড রেমিট্যান্স প্রবাহ: চলতি মাসের প্রথম ২৮ দিনেই দেশে ২৫৮ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা মাসের হিসাবে আড়াই বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছে
অর্থবছরের শেষে প্রবাসীদের উপহার! দেশের রিজার্ভ ও অর্থনীতিতে স্বস্তি ফিরিয়ে আড়াই বিলিয়ন ডলার ছাড়ালো প্রবাসী আয়। দেশের অর্থনীতিতে বড় সুবাতাস।

নিউজ ডেস্ক: পাবনা নিউজ ২৪

৩০ জুন, ২০২৬

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে আবারও সুবাতাস বইয়ে দিচ্ছেন আমাদের রেমিট্যান্স যোদ্ধারা। অর্থবছরের শেষ মাস জুনে দেশে প্রবাসী আয়ের বা রেমিট্যান্সের এক অভূতপূর্ব জোয়ার লক্ষ্য করা গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চলতি জুন ২০২৬ মাসের প্রথম ২৮ দিনেই বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে দেশে প্রবাসী আয় এসেছে রেকর্ড পরিমাণ ২৫৮ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার।

মাসের হিসাবে এই অঙ্ক আড়াই বিলিয়ন ডলারের (2.5 Billion USD) বিশাল মাইলফলক ছাড়িয়ে গেছে, যা দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে (Foreign Exchange Reserve) এক নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে। দেশীয় মুদ্রায় (প্রতি ডলার ১২২ টাকা হিসেবে) এর পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৩১ হাজার ৫৫০ কোটি টাকা। প্রতি মুহূর্তে দেশের অর্থনীতির গতিপ্রকৃতি বদলে দেওয়া এই রেমিট্যান্স প্রবাহ নিয়ে বিস্তারিত বিশ্লেষণ নিচে তুলে ধরা হলো।

বছর ব্যবধানে রেমিট্যান্সের বড় লাফ

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান আনুষ্ঠানিকভাবে এই তথ্য নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে, গত বছরের (২০২৫ সালের জুন) একই সময়ে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ২৫৪ কোটি মার্কিন ডলার। সেই তুলনায় চলতি বছরের জুনের প্রথম ২৮ দিনে রেমিট্যান্সের প্রবাহ ১.৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। শুধু তাই নয়, ২৮ জুন একদিনেই প্রবাসীরা ব্যাংকিং চ্যানেলে পাঠিয়েছেন ১৩ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলার। প্রতিদিনের গড় হিসাব করলে জুনের প্রথম ২৮ দিনে দৈনিক গড়ে ৯ কোটি ২৪ লাখ মার্কিন ডলার করে রেমিট্যান্স দেশে এসেছে।

অর্থবছরের হিসাবে নতুন রেকর্ডের দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শুরু থেকেই প্রবাসীদের টাকা পাঠানোর গতি ছিল বেশ সন্তোষজনক। বাংলাদেশ ব্যাংকের উপাত্ত অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ২৮ জুন পর্যন্ত (প্রায় ৩৬৩ দিনে) দেশে সর্বমোট রেমিট্যান্স এসেছে ৩ হাজার ৫৩৪ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলার (৩৫.৩৪৩ বিলিয়ন ডলার)।

গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের একই সময়ে এই আয়ের পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ৪ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার। অর্থাৎ, বছর ব্যবধানে দেশের সামগ্রিক রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৭.৬০ শতাংশের এক বিশাল প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, এই প্রবৃদ্ধি বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম সেরা পারফরম্যান্স।

রেকর্ড রেমিট্যান্স প্রবাহের প্রধান কারণসমূহ

অর্থনৈতিক বিশ্লেষক ও ব্যাংকিং খাতের বিশেষজ্ঞদের মতে, হঠাৎ করে রেমিট্যান্সের এই বিশাল উল্লম্ফনের পেছনে বেশ কয়েকটি বড় কারণ কাজ করেছে:

ব্যাংকিং চ্যানেলে ডলারের আকর্ষণীয় রেট: বর্তমানে ব্যাংকিং চ্যানেলে ডলারের বিনিময় হার (Exchange Rate) প্রায় ১২২ টাকার কাছাকাছি হওয়ায় প্রবাসীরা হুন্ডির মতো অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণ পথ ছেড়ে অফিশিয়াল বা বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে টাকা পাঠাতে বেশি উৎসাহিত হচ্ছেন।

ঈদ-উল-আজহার প্রভাব: জুন মাসের মাঝামাঝিতে উদযাপিত হওয়া পবিত্র ঈদ-উল-আযহা বা কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে প্রবাসীরা তাঁদের পরিবার-পরিজনের কাছে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি টাকা পাঠিয়েছেন। ঈদের এই প্রভাব পুরো মাস জুড়েই বজায় ছিল।

সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিশেষ উদ্যোগ: বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠালে আড়াই শতাংশ প্রোদাহ (Incentive) দেওয়ার পাশাপাশি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো প্রবাসীদের আকৃষ্ট করতে বিভিন্ন ধরণের রেমিট্যান্স বন্ড ও আকর্ষণীয় রেট অফার করছে, যা ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে।

দেশের অর্থনীতিতে এর প্রভাব ও গুরুত্ব

এই রেকর্ড পরিমাণ প্রবাসী আয় এমন এক সময়ে এসেছে যখন বাংলাদেশ ডলার সংকট এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের টানাপোড়েন কাটিয়ে ওঠার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করছে। এই রেমিট্যান্স প্রবাহ দেশের অর্থনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে:

১. রিজার্ভের শক্তিশালী অবস্থান: আড়াই বিলিয়নের বেশি ডলার যোগ হওয়ায় বাংলাদেশ ব্যাংকের গ্রস এবং নিট রিজার্ভ—উভয়ই বেশ শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছাবে। এতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (IMF) রিজার্ভের শর্ত পূরণ করা সরকারের জন্য অনেক সহজ হবে।

২. আমদানি দায় মেটানোর সুবিধা: জ্বালানি তেল, সার এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় কাঁচামাল আমদানির জন্য যে বিপুল পরিমাণ ডলারের প্রয়োজন হয়, এই রেমিট্যান্সের ফলে ব্যাংকগুলো এলসি (Letter of Credit) খোলার ক্ষেত্রে বাড়তি তারল্য বা সুবিধা পাবে।

3. মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও গ্রামীণ অর্থনীতি সচল: ৩১ হাজার কোটি টাকারও বেশি অর্থ সরাসরি দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের হাতে পৌঁছাচ্ছে। এর ফলে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়বে এবং দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে বিশেষ করে গ্রামীণ অর্থনীতিতে এক বিশাল গতিশীলতা তৈরি হবে।

অর্থবছরের শেষ সময়ে এসে রেমিট্যান্সের এই মহাবিস্ফোরণ বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার (Macroeconomic Stability) জন্য একটি বড় মাইলফলক। তবে এই ধারা বজায় রাখতে হলে প্রবাসীদের জন্য হুন্ডির চেয়ে ব্যাংকিং চ্যানেলকে সবসময় বেশি লাভজনক ও সহজ করতে হবে। পাবনা নিউজ ২৪-এর পক্ষ থেকে দেশের অর্থনীতির এই আসল চালিকাশক্তি—আমাদের সূর্যসন্তান রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের জানাই আন্তরিক অভিনন্দন ও স্যালুট।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here