স্বাস্থ্য ডেস্ক, পাবনা নিউজ ২৪ | প্রকাশ: ১ জুলাই, ২০২৬
হাতটা একটু ওপরে তুলতে গেলেই চড়ত করে একটা ব্যথা পিঠের দিকে চলে যাচ্ছে? কিংবা রাতে যে পাশে কাঁধে ব্যথা, সে পাশে চাপ দিয়ে ঘুমাতেই পারছেন না? এমন পরিস্থিতিতে আমাদের চেনা-পরিচিত বা গুগল ডাক্তাররা চট করে রায় দিয়ে দেন—‘নির্ঘাত ফ্রোজেন শোল্ডার হয়েছে!’
কিন্তু আসলেই কি তাই? চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, কাঁধে ব্যথা হওয়া মানেই তা ফ্রোজেন শোল্ডার বা কাঁধ জমে যাওয়া নয়। কাঁধের জয়েন্টটি আমাদের শরীরের সবচেয়ে জটিল জয়েন্টগুলোর একটি। এখানে আরও অনেক সূক্ষ্ম সমস্যা হতে পারে, যা আমরা ভুল করে ফ্রোজেন শোল্ডার ভেবে ভুল চিকিৎসা করি। পাবনা নিউজ ২৪-এর পাঠকদের জন্য আজ থাকছে কাঁধ ব্যথার আসল রহস্য এবং ঘরে বসেই তা পরীক্ষা করার দারুণ কিছু উপায়।
ফ্রোজেন শোল্ডার বনাম অন্যান্য শত্রু: পার্থক্য বুঝবেন যেভাবে
আপনার কাঁধের ব্যথাটি আসলে কী, তা বুঝতে নিচের ৩টি ভিন্ন লক্ষণ খেয়াল করুন:
- ১. ফ্রোজেন শোল্ডার (Frozen Shoulder): এর আসল নাম ‘অ্যাডহেসিভ ক্যাপসুলাইটিস’। এখানে ব্যথা তো থাকবেই, কিন্তু সবচেয়ে বড় লক্ষণ হলো কাঁধ পুরোপুরি জ্যাম বা লক হয়ে যাওয়া। অর্থাৎ, আপনি নিজে চেষ্টা করলেও হাত ওপরে তুলতে পারবেন না, আবার অন্য কেউ যদি আপনার হাতটা জোর করে ওপরে তুলতে যায়, তাহলেও হাত এক চুলও নড়বে না, লক হয়ে থাকবে।
- ২. রোটেটর কাফ ইনজুরি (Rotator Cuff Injury): আমাদের কাঁধের হাড়গুলোকে যে পেশিগুলো শক্ত করে ধরে রাখে, তাকে বলে রোটেটর কাফ। কোনো ভারী জিনিস তুলতে গিয়ে বা শোয়ার ভুলের কারণে এই পেশি ছিঁড়ে বা মচকে যেতে পারে। এর লক্ষণ হলো—আপনি নিজে হাত তুলতে গেলে প্রচণ্ড ব্যথা লাগবে, কিন্তু অন্য কেউ যদি আপনার হাতটা ধরে ওপরে তুলে দেয়, তবে হাত সহজেই ওপরে উঠে যাবে!
- ৩. বারসাইটিস বা টেন্ডিনাইটিস (Bursitis): কাঁধের জয়েন্টের ভেতরের তরল থলি বা রগ ফুলে গেলে এই ব্যথা হয়। এতে হাত নাড়ালে একটা নির্দিষ্ট কোণে (যেমন ৬০ থেকে ১২০ ডিগ্রি ওপরে তোলার সময়) তীব্র কামড়ানি ব্যথা ওঠে, কিন্তু হাতটা তার চেয়ে আরও ওপরে তুলে ফেললে ব্যথা আবার কমে যায়!
ঘরে বসেই করুন ‘৩-স্টেপ সেলফ টেস্ট’
ডাক্তারের কাছে যাওয়ার আগে আপনি নিজেই ঘরে বসে নিশ্চিত হতে পারেন আপনার সমস্যাটি ফ্রোজেন শোল্ডার কিনা:
- আঁচড়ানোর পরীক্ষা (Comb Test): আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে চুল আঁচড়ানোর মতো করে হাত মাথার পেছনে নেওয়ার চেষ্টা করুন। ফ্রোজেন শোল্ডার হলে হাত মাথার পেছনে কিছুতেই যাবে না।
- পিঠ ছোঁয়ার পরীক্ষা (Back Reach Test): আপনার আক্রান্ত হাতটি পিঠের পেছন দিক দিয়ে ঘুরিয়ে ওপরের দিকে ওঠানোর চেষ্টা করুন (যেভাবে পিঠ চুলকানো হয়)। যদি হাত কোমরের ওপরে এক ইঞ্চিও না ওঠে, তবে তা ফ্রোজেন শোল্ডারের লক্ষণ।
- পকেট টেস্ট (Pocket Test): প্যান্টের পেছনের পকেটে হাত ঢোকাতে গিয়ে যদি কাঁধে তীব্র মোচড় দিয়ে ওঠে, তবে বুঝতে হবে আপনার জয়েন্টের ভেতরের ক্যাপসুলটি সংকুচিত হয়ে আসছে।
পাবনা নিউজ ২৪-এর বিশেষ পরামর্শ
যদি আপনার কাঁধ সত্যি সত্যিই ফ্রোজেন শোল্ডার হয়ে থাকে, তবে প্যানিক বা ভয় পাওয়ার কিছু নেই। এটি সাধারণত ডায়াবেটিস বা থাইরয়েডের রোগীদের বেশি হয়। প্রাথমিক অবস্থায় গরম সেঁক, হালকা স্ট্রেচিং এক্সারসাইজ এবং চিকিৎসকের পরামর্শে ফিজিওথেরাপি নিলে এই জ্যাম ধীরে ধীরে খুলে যায়।
তাই কাঁধে ব্যথা হলেই মনগড়া ব্যথানাশক বড়ি না খেয়ে আগে ব্যথার ধরণটি বুঝুন। আজই আপনার ঘরে থাকা প্রিয়জনদের ওপর এই টেস্টগুলো করে দেখে নিতে পারেন তাদের কাঁধের জয়েন্ট কতটা সচল আছে!