ইউরোর মঞ্চে আরও একটি রোমাঞ্চকর রাতের সাক্ষী থাকল ফুটবল বিশ্ব। প্রথমার্ধের চরম বিপর্যয়, গোল হজম করে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যাওয়ার প্রবল শঙ্কা—সবকিছুকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে এক অবিশ্বাস্য রূপকথা লিখল বেলজিয়াম। খাদের কিনারা থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে ম্যাচ জিতে মাঠ ছাড়ল কেভিন ডি ব্রুইনার দল। রোমাঞ্চে ঠাসা এই জয়ে গ্রুপ পর্বের বৈতরণী পার হয়ে টুর্নামেন্টের শেষ ১৬ নিশ্চিত করেছে ‘রেড ডেভিলস’রা।
ম্যাচের শুরুটা বেলজিয়ামের জন্য ছিল কোনো দুঃস্বপ্নের মতো। মাঠের খেলায় পাসিংয়ের ভুল আর রক্ষণভাগের বোঝাপড়ার অভাবে প্রথমার্ধেই গোল খেয়ে পিছিয়ে পড়ে তারা। ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থাকা বেলজিয়ানদের আক্রমণে প্রথমার্ধে ধার ছিল না বললেই চলে। গ্যালারিতে তখন তাদের সমর্থকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ, বিদায়ের ঘণ্টা বাজছিল ড্রেসিংরুমেও।
যেভাবে ফিরল বেলজিয়াম:
- কোচের মাস্টারস্ট্রোক ও কৌশল বদল: দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নেমেই আগ্রাসী ফুটবল খেলতে শুরু করে বেলজিয়াম। মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেন অধিনায়ক ডি ব্রুইনা।
- সমতাসূচক গোল (৭০ মিনিট): উইং থেকে বাড়ানো এক নিখুঁত ক্রসে চলন্তাবস্থায় দুর্দান্ত ভলিতে গোল করে দলকে ম্যাচে ফেরান বেলজিয়ান ফরোয়ার্ড।
- জয়সূচক গোল (৮৮ মিনিট): ম্যাচের অন্তিম মুহূর্তে প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারদের বোকা বানিয়ে ডি-বক্সের ভেতর থেকে কোণাকুণি শটে জাল কাঁপান বদলি হিসেবে নামা স্ট্রাইকার।
ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজতেই উল্লাসে ফেটে পড়ে পুরো বেলজিয়াম শিবির। যে দলটিকে প্রথমার্ধ শেষে টুর্নামেন্ট থেকে মৃত বলে ধরে নেওয়া হয়েছিল, তারাই দ্বিতীয়ার্ধে দেখাল আসল ঝলক। এই জাদুকরী প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখে গ্রুপ পর্বের বাধা পেরিয়ে চ্যাম্পিয়নের মতোই নকআউট পর্বে পা রাখল বেলজিয়াম।