নিউজ ডেস্ক, পাবনা নিউজ ২৪
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর রাউন্ড অব ৩২-এর হাইভোল্টেজ ম্যাচে সুইডেনকে ৩-০ গোলের বড় ব্যবধানে হারিয়ে শেষ ১৬ বা নকআউট পর্বের পরবর্তী ধাপ নিশ্চিত করেছে ফেবারিট ফ্রান্স। নিউ ইয়র্ক নিউ জার্সী স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে ফরাসিদের আক্রমণের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি সুইডিশ রক্ষণভাগ। দলের হয়ে জোড়া গোল করে ম্যাচ মাতান অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপে এবং অন্য গোলটি আসে তরুণ তুর্কি ব্র্যাডলি বারকোলার পা থেকে। এই জয়ের মাধ্যমে দিদিয়ের দেশমের শিষ্যরা আরও একবার প্রমাণ করল কেন তারা এই বিশ্বকাপের অন্যতম প্রধান দাবিদার।
ম্যাচের শুরু থেকেই ৪-২-৩-১ ফর্মেশনে মাঠে নেমে বলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হোল্ডে নেয় ফ্রান্স। আদ্রিয়েন রাবিও এবং অরেলিয়েন চুয়ামেনির চমৎকার মিডফিল্ড নিয়ন্ত্রণের ওপর ভর করে ফ্রান্স একের পর এক আক্রমণ শানাতে থাকে সুইডেনের বক্সে। ম্যাচের প্রথম আধঘণ্টায় ফ্রান্সের পজেশন ছিল প্রায় ৬১ শতাংশ। ওসামন ডেম্বেলে এবং ব্র্যাডলি বারকোলার গতিময় উইং প্লে সুইডেনের রক্ষণভাগকে পুরোপুরি ভেঙে ফেলে।
ম্যাচের প্রথমার্ধে ফ্রান্স প্রায় ১৫টি শট নেয়, যার মধ্যে কিলিয়ান এমবাপের একটি গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হয় এবং আরেকটি দুর্দান্ত শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। অন্যদিকে, সুইডিশ গোলরক্ষক জ্যাকব ওয়াইডেন জەتেনস্ট্রম প্রথমার্ধে একের পর এক দুর্দান্ত সেভ করে দলকে ম্যাচে টিকিয়ে রেখেছিলেন। বিশেষ করে ডেম্বেলে এবং উইলিয়াম সালিবার নিশ্চিত দুটি গোল রুখে দিয়ে তিনি সুইডেনের প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন।
তবে প্রথমার্ধের ঠিক শেষ মুহূর্তে, অর্থাৎ ৪৫তম মিনিটে আর শেষ রক্ষা হয়নি। মাইকেল অলিসের চমৎকার একটি রিভার্স পাস থেকে বক্সের বাম প্রান্ত দিয়ে বল পান এমবাপে। সুইডিশ ডিফেন্ডারদের বোকা বানিয়ে ডান পায়ের এক জোরালো কোনাকুনি শটে বল জালে জড়ান এই ফরাসি ফরোয়ার্ড। ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় লেস ব্লুস।
দ্বিতীয় অর্ধে বারকোলার গোল ও এমবাপের রেকর্ড
বিরতির পর ফিরে এসে ফ্রান্স তাদের আক্রমণের ধার আরও বাড়িয়ে দেয়। ম্যাচের ৫৩তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ব্র্যাডলি বারকোলা। মাঝমাঠ থেকে মাইকেল অলিসের নিখুঁত থ্রু পাস ধরে বক্সে ঢুকে ঠান্ডা মাথায় সুইডিশ গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন বারকোলা (২-০)। এই গোলের পর সুইডেন ম্যাচ থেকে এক প্রকার ছিটকে যায়।
এরপর ম্যাচের ৭৪তম মিনিটে নিজের দ্বিতীয় এবং দলের তৃতীয় গোলটি করেন কিলিয়ার এমবাপে। এবারও অ্যাসিস্টের ভূমিকায় ছিলেন দুর্দান্ত ফর্মে থাকা মাইকেল অলিস। অলিসের পাস থেকে বল পেয়ে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে গোল করেন এমবাপে। এই গোলের মাধ্যমে এমবাপে বিশ্বকাপের ইতিহাসে এক নতুন কীর্তি গড়েন।
পরিসংখ্যান ও অনন্য রেকর্ড বুক
এই ম্যাচের পর কিছু অনন্য রেকর্ড ও পরিসংখ্যান সামনে এসেছে যা ফুটবল বিশ্বকে চমকে দিয়েছে:
এমবাপের রেকর্ড: এই জোড়া গোলের মাধ্যমে কিলিয়ান এমবাপের বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারের মোট গোল সংখ্যা দাঁড়াল ১৮-তে। তিনি জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসেকে (১৬ গোল) ছাড়িয়ে এখন বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় এককভাবে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন, যার সামনে এখন কেবল লিওনেল মেসি (১৯ গোল)।
নকআউট রেকর্ড: বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে এমবাপের গোল সংখ্যা এখন ১০, যা বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে একটি নতুন রেকর্ড।
ম্যাচের আধিপত্য: পুরো ম্যাচে ফ্রান্স মোট ২৫টি শট নেয়, যার বিপরীতে সুইডেন কেবল রক্ষণভাগ সামলাতেই ব্যস্ত ছিল। সুইডিশ গোলকিপার জەتেনস্ট্রম একাই ৯টি সেভ না করলে ব্যবধান আরও বড় হতে পারত।
পরবর্তী লক্ষ্য: রাউন্ড অব ১৬-তে প্যারাগুয়ে
সুইডেনকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দেওয়ার পর ফ্রান্সের পরবর্তী গন্তব্য এখন ফিলাডেলফিয়া স্টেডিয়াম। আগামী ৪ জুলাই কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে শেষ ১৬-এর ম্যাচে লাতিন আমেরিকার শক্তিশালী দল প্যারাগুয়ের মুখোমুখি হবে ফ্রান্স। টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত অপরাজিত থাকা ফ্রান্স যেভাবে খেলছে, তাতে প্যারাগুয়ের রক্ষণভাগের জন্য এটি একটি বড় পরীক্ষা হতে যাচ্ছে।