পাবনা নিউজ ২৪ হেলথ ডেস্ক: গ্রীষ্মের তীব্র দাবদাহে বড়দের পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে শিশুরা। এই সময়ে গরমের তীব্রতার কারণে শিশুদের মধ্যে পেটের নানাবিধ সমস্যা, বিশেষ করে ডায়রিয়ার প্রকোপ মারাত্মকভাবে বেড়ে যায়। সঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপ না নিলে শিশুর শরীর দ্রুত পানিশূন্য হয়ে বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
আজকের ফিচারে আমরা জানবো গরমে শিশুদের ডায়রিয়া কেন হয়, এর লক্ষণ এবং প্রতিরোধ ও প্রতিকারে করণীয় কী।
গরমে শিশুদের ডায়রিয়ার প্রধান কারণসমূহ
১. দূষিত পানি ও খাবার: গরমে খাবার খুব দ্রুত নষ্ট বা বাসি হয়ে যায়। বাসি খাবার বা অনিরাপদ পানি পানের মাধ্যমে শিশুদের পেটে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস (যেমন: রোটাভাইরাস) প্রবেশ করে ডায়রিয়া ঘটায়।
২. বাইরের খোলা খাবার ও পানীয়: তীব্র গরমে রাস্তার ধারের খোলা শরবত, ফুচকা, চটপটি বা কাটা ফল খাওয়ালে শিশুরা সহজেই ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়।
৩. হাইজিনের অভাব: শিশুদের অপরিচ্ছন্ন হাত বা অপরিষ্কার ফিডার ও খেলনার মাধ্যমে জীবাণু সহজেই তাদের পেটে চলে যায়।
৪. অতিরিক্ত গরম: প্রচণ্ড গরমে শরীরের স্বাভাবিক হজমপ্রক্রিয়া ব্যাহত হয়, যা অনেক সময় পাতলা পায়খানার কারণ হতে পারে।
শিশুর ডায়রিয়া হলে করণীয় (প্রাথমিক চিকিৎসা)
খাবার স্যালাইন (ORS): শিশুর পাতলা পায়খানা শুরু হলেই প্রতিবার মলত্যাগের পর বয়স অনুযায়ী পরিমাণমতো খাবার স্যালাইন খাওয়াতে হবে। স্যালাইন বানানোর নিয়ম ঠিকঠাক মেনে চলতে হবে।
বুকের দুধ ও তরল খাবার: শিশু যদি বুকের দুধ খায়, তবে তা কোনো অবস্থাতেই বন্ধ করা যাবে না। পাশাপাশি ভাতের মাড়, ডাবের পানি বা চিঁড়ের পানি দেওয়া যেতে পারে।
সহজপাচ্য খাবার: খিদে থাকলে শিশুকে নরম ভাত, আলু সেদ্ধ বা কাঁচকলা দিয়ে রান্না করা জাও ভাত খাওয়ানো যেতে পারে।
জিঙ্ক (Zinc) প্রিপারেশন: চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ডায়রিয়া আক্রান্ত শিশুকে ১০-১৪ দিন জিঙ্ক সিরাপ খাওয়ালে ডায়রিয়া দ্রুত কমে এবং পরবর্তী কয়েক মাস পুনরায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি হ্রাস পায়।
যা করা যাবে না: চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া শিশুকে কোনো অ্যান্টিবায়োটিক বা পাতলা পায়খানা বন্ধ করার ওষুধ খাওয়ানো যাবে না।
কখন দ্রুত হাসপাতালে বা ডাক্তারের কাছে নেবেন?
নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিলে এক মুহূর্তও দেরি না করে শিশুকে নিকটস্থ হাসপাতাল বা চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান:
যদি শিশু বারবার বমি করে এবং কিছুই পেটে না রাখতে পারে।
শরীর অতিরিক্ত নিস্তেজ বা অবশ হয়ে পড়লে।
চোখ বসে গেলে এবং জিহ্বা বা মুখ একদম শুকিয়ে গেলে।
প্রস্রাব একদম কমে গেলে বা ৬ ঘণ্টার বেশি সময় প্রস্রাব না করলে।
মলের সাথে রক্ত গেলে বা প্রচণ্ড জ্বর থাকলে।
প্রতিরোধে করণীয়
শিশুকে সবসময় ফুটানো ঠান্ডা পানি পান করান।
বাইরের খোলা বা বাসি খাবার খাওয়ানো থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকুন।
খাবার তৈরি ও শিশুকে খাওয়ানোর আগে এবং মলত্যাগের পর সাবান দিয়ে ভালো করে হাত ধুয়ে নিন।
শিশুর ফিডার, বাটি ও চামচ সবসময় ফুটিয়ে জীবাণুমুক্ত রাখুন।