পাবনা নিউজ ২৪ ডেস্ক: মরুর বুকে বা বিশ্বমঞ্চের সবুজ গালিচায় আরও একটি হাই-ভোল্টেজ মহানাটকের অবসান হলো। বাঁচা-মরার লড়াইয়ে আফ্রিকান পরাশক্তি ঘানাকে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় করে নকআউট পর্বের টিকিট নিশ্চিত করল লাতিন আমেরিকার দেশ কলম্বিয়া। গতি, ছন্দ আর শারীরিক ফুটবলের মেলবন্ধনে জমে ওঠা ম্যাচে শেষ পর্যন্ত স্নায়ুযুদ্ধে জয়ী হয়ে শেষ ষোলোর মঞ্চে নিজেদের জায়গা করে নিল কলম্বিয়া।
শুরু থেকেই আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ
ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলের কৌশল ছিল স্পষ্ট—আক্রমণই সেরা রক্ষণ। একদিকে ঘানার গতি আর অন্যপ্রান্তে কলম্বিয়ার চিরচেনা শৈল্পিক ফুটবল ম্যাচটিকে শুরু থেকেই জমজমাট করে তোলে।
- কলম্বিয়ার প্রেসিং ফুটবল: মাঝমাঠের দখল নিয়ে প্রথমার্ধের শুরু থেকেই ঘানার রক্ষণভাগে চাপ সৃষ্টি করতে থাকে কলম্বিয়া। উইংগুলো ব্যবহার করে একের পর এক আক্রমণ শানাতে থাকে তারা।
- ব্ল্যাক স্টারদের প্রতিরোধ: আক্রমণ সামলে পাল্টা আক্রমণে যেতে ভুল করেনি ঘানাও। কলম্বিয়ার ডিফেন্সকে বেশ কয়েকবার কঠিন পরীক্ষার মুখে ফেলেছিল আফ্রিকান এই দলটি। কিন্তু ফিনিশিংয়ের অভাবে গোল অধরাই থেকে যায় প্রথমার্ধে।
ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণী সেই মুহূর্ত
দ্বিতীয়ার্ধে গোল পাওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে দুই দলই। তবে অভিজ্ঞতার দিক থেকে এগিয়ে থাকা কলম্বিয়াই ম্যাচের ডেডলক ভাঙতে সক্ষম হয়।
ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট: মাঝমাঠ থেকে বাড়ানো এক নিখুঁত থ্রু পাস ধরে ঘানার রক্ষণভাগকে স্তব্ধ করে দেয় কলম্বিয়ার ফরোয়ার্ডরা। ডি-বক্সের ভেতর দারুণ এক চতুর ফিনিশিংয়ে দলকে এগিয়ে নেন কলম্বিয়ান স্ট্রাইকার। এই এক গোলের লিডই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়।
গোল খাওয়ার পর ঘানা সমতায় ফেরার জন্য তাদের আক্রমণের ধার বাড়িয়ে দেয়। ম্যাচের শেষ ১০ মিনিটে কলম্বিয়ার গোলপোস্টে একের পর এক শট নেয় ব্ল্যাক স্টাররা। কিন্তু কলম্বিয়ার গোলরক্ষকের অসামান্য কিছু সেভ এবং রক্ষণভাগের ইস্পাতকঠিন দেয়াল ভেদ করতে পারেনি তারা। শেষ বাঁশি বাজার সাথে সাথেই বিদায় ঘণ্টা বেজে যায় ঘানার, আর উল্লাসে মেতে ওঠে কলম্বিয়া।
বিদায় ঘানা, নতুন স্বপ্নে বিভোর কলম্বিয়া
এই হারের ফলে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেল ঘানা। লড়াকু ফুটবল খেলেও গ্রুপ পর্বেই থামতে হলো তাদের। অন্যদিকে, কঠিন বাধা পেরিয়ে শেষ ষোলোতে পা রাখায় কলম্বিয়ার সামনে এখন বড় লক্ষ্য। নকআউট পর্বে ভুল করার কোনো সুযোগ নেই, আর এই জয় দলটির আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে তা নিশ্চিত।
এখন দেখার বিষয়, শেষ ষোলোর মঞ্চে এই ছন্দ ধরে রেখে কলম্বিয়া কতদূর এগিয়ে যেতে পারে।