স্পোর্টস ডেস্ক :পাবনা নিউজ ২৪
ফুটবল বিশ্বকাপের উন্মাদনা এখন তুঙ্গে। নকআউট পর্বের প্রতিটি ম্যাচই যেন এক একটি রূপকথা। ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর রাউন্ড অফ ৩২-এর দুটি ভিন্ন ম্যাচে আজ মুখোমুখি হয়েছিল ফুটবল বিশ্বের চার পরাশক্তি। মাঠের লড়াইয়ে একদিকে যেমন ছিল পেনাল্টি শুটআউটের স্নায়ুক্ষয়ী উত্তেজনা, অন্যদিকে ছিল একক গোলের ব্যবধানে রক্ষণভাগ ধরে রাখার কঠিন পরীক্ষা। শেষ পর্যন্ত জাদুকরী পারফরম্যান্স আর ভাগ্যের জোরে শেষ ১৬ নিশ্চিত করেছে মোহাম্মদ সালাহর মিশর এবং ল্যাটিন আমেরিকার অন্যতম শক্তি কলম্বিয়া। অস্ট্রেলিয়া ও ঘানার মতো লড়াকু দুটি দলকে বিদায় নিয়ে টুর্নামেন্ট থেকে বাড়ি ফিরতে হচ্ছে।
টাইব্রেকার থ্রিলারে সকারুদের স্বপ্নভঙ্গ, শেষ ১৬-তে সালাহর মিশর
রাউন্ড অফ ৩২-এর সবচেয়ে নাটকীয় ম্যাচগুলোর একটি মঞ্চস্থ হলো মিশর ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে। ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলই আক্রমণ এবং পাল্টা-আক্রমণের কৌশল বেছে নেয়। অস্ট্রেলিয়ার (সকারুস) শারীরিক ফুটবল এবং গতিশীলতার বিপরীতে মিশর খেলছিল তাদের চেনা ছন্দে, যার নেতৃত্বে ছিলেন মহাতারকা মোহাম্মদ সালাহ।প্রথমার্ধের খেলা গোলশূন্য থাকার পর দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই আক্রমণে ধার বাড়ায় মিশর। ম্যাচের ৫৮তম মিনিটে সালাহর বাড়ানো এক চমৎকার পাস থেকে ডি-বক্সের ভেতর বল পেয়ে দারুণ ফিনিশিংয়ে মিশরকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেন তাদের ফরোয়ার্ড। গোল খেয়ে মরিয়া হয়ে ওঠে অস্ট্রেলিয়া। ম্যাচের একদম শেষ মুহূর্তে, যখন মনে হচ্ছিল মিশর জয়ের বন্দরে পৌঁছে গেছে, ঠিক তখনই ৮৮তম মিনিটে এক কাউন্টার অ্যাটাক থেকে দুর্দান্ত হেডে সমতা ফেরায় অস্ট্রেলিয়া (১-১)।নির্ধারিত ৯০ মিনিটে খেলা সমতায় শেষ হওয়ায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। অতিরিক্ত ৩০ মিনিটেও কোনো দলই একে অপরের ডিফেন্স ভাঙতে পারেনি। ফলে ম্যাচ গড়ায় ভাগ্যনির্ধারণী পেনাল্টি শুটআউটে বা টাইব্রেকারে।টাইব্রেকারে দেখা যায় বিশ্বমানের স্নায়ুর লড়াই। মিশরের গোলরক্ষক অসাধারণ দক্ষতায় অস্ট্রেলিয়ার দুটি পেনাল্টি শট রুখে দিয়ে ম্যাচের নায়ক বনে যান। অন্যদিকে মিশরের পেনাল্টি টেকাররা কোনো ভুল করেননি। শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে ৪-২ ব্যবধানে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে উল্লাসে মাতে মিশর। এই জয়ের ফলে শেষ ১৬ বা দ্বিতীয় রাউন্ডে আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হবে মোহাম্মদ সালাহর দল, যা আগামী সপ্তাহের সবচেয়ে বড় হাইভোল্টেজ ম্যাচ হতে যাচ্ছে।
জন আরিয়াসের একমাত্র গোল: ঘানাকে বিদায় করে কলম্বিয়ার জয়জয়কার
দিনের অন্য এক টানটান উত্তেজনার ম্যাচে ল্যাটিন আমেরিকার শক্তিশালী দল কলম্বিয়া মুখোমুখি হয়েছিল আফ্রিকার কৃষ্ণতারকা বা ব্ল্যাক স্টার্স খ্যাত ঘানার। ম্যাচটি ল্যাটিন ফুটবলের টিকিটাকা ছন্দ বনাম আফ্রিকান ফুটবলের গতির লড়াই হিসেবে দেখা হচ্ছিল। তবে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হয়ে যায় প্রথমার্ধের শুরুতেই।ম্যাচ শুরুর পর থেকেই কলম্বিয়া ঘানার রক্ষণভাগের ওপর চড়াও হয়ে খেলতে থাকে। ম্যাচের ঠিক ১৪তম মিনিটে আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। কলম্বিয়ার আক্রমণভাগের তারকা জন আরিয়াস (Jhon Arias) ডি-বক্সের ঠিক বাইরে থেকে ডান পায়ের এক মাপা শটে ঘানার গোলরক্ষককে পরাস্ত করে বল জালে জড়ান (১-০)। এই গোলের পর মায়ামি স্টেডিয়ামে উপস্থিত হাজারো কলম্বিয়ান সমর্থক উল্লাসে ফেটে পড়েন।১-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার পর ঘানা ম্যাচে ফেরার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চালায়। প্রথমার্ধের শেষ দিকে এবং দ্বিতীয় আর্ধের পুরোটা সময় জুড়ে ঘানার ফরোয়ার্ডরা কলম্বিয়ার বক্সে একের পর এক আক্রমণ চালায়। কিন্তু কলম্বিয়ার রক্ষণভাগ আজ ছিল ইস্পাতকঠিন। বিশেষ করে কলম্বিয়ার গোলরক্ষক বেশ কয়েকটি নিশ্চিত গোলের সুযোগ নসাৎ করে দেন। ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজা পর্যন্ত আরিয়াসের সেই ১৪ মিনিটের গোলটিই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়। ১-০ ব্যবধানের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে কলম্বিয়া, আর বীরত্বপূর্ণ লড়াই করেও টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিতে হয় ঘানাকে। রাউন্ড অফ ১৬-তে কলম্বিয়ার প্রতিপক্ষ ইউরোপের পরাশক্তি সুইজারল্যান্ড।
বিশ্বকাপের শেষ ১৬-র রোমাঞ্চকর সমীকরণ
এই দুটি ম্যাচের ফলাফল প্রকাশের পর বিশ্বকাপের শেষ ১৬ বা দ্বিতীয় রাউন্ডের সমীকরণ আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। একদিকে ফুটবলপ্রেমীরা দেখতে পাবেন লিওনেল মেসি বনাম মোহাম্মদ সালাহর মধ্যকার এক ঐতিহাসিক লড়াই, যেখানে আর্জেন্টিনা লড়বে মিশরের বিরুদ্ধে। অন্যদিকে কলম্বিয়া ও সুইজারল্যান্ডের ম্যাচটিও হতে যাচ্ছে সমানে সমানে টক্কর। ফুটবল বিশেষজ্ঞদের মতে, এইবারের বিশ্বকাপে বড় দলগুলোর জন্য প্রতিটি ম্যাচই একেকটি ফাইনাল, যেখানে সামান্যতম ভুল হলেই বিদায় নিতে হচ্ছে টুর্নামেন্ট থেকে।