প্রতিদিনের একঘেয়ে রুটিন আর জিমের ভারী ওজন তুলতে তুলতে অনেক সময়ই আমাদের ওয়ার্কআউটের প্রতি আগ্রহ কমে যায়। মনে হয়, আজ আর জিমে না গেলে কেমন হয়? এই অলসতা বা ক্লান্তি দূর করতে সবচেয়ে বড় টনিক হিসেবে কাজ করতে পারে সঠিক মিউজিক। সাধারণ মেলোডি বা পপ গানের চেয়ে হাই-এনার্জি বিটের গান জিমের ক্লান্তি নিমেষেই দূর করে দিতে পারে। আপনি যদি জিমে নতুন জোশ ফিরে পেতে চান, তবে আজই আপনার প্লে-লিস্টে যোগ করুন ‘ফঙ্ক’ (Phonk) এবং ‘জাম্পস্টাইল’ (Jumpstyle) মিউজিক।
১. ‘ফঙ্ক’ (Phonk) মিউজিক: ভারী ওজনের জন্য পারফেক্ট পুশ
কাউবেল এবং চপড-অ্যান্ড-স্ক্রুড ঘরানার হিপ-হপ বিটের মিশ্রণে তৈরি হয় ‘ফঙ্ক’ মিউজিক। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে বডিবিল্ডার এবং ওয়েটলিফটারদের কাছে এটি অত্যন্ত জনপ্রিয়।
কেন শুনবেন: এই মিউজিকের বেস (Bass) এত বেশি শক্তিশালী এবং ডার্ক হয় যে, এটি আপনার ভেতরে এক ধরনের ওরিয়র বা যুদ্ধংদেহী মনোভাব তৈরি করে।
উপকারিতা: যখন আপনি বেঞ্চ প্রেস বা ডেডলিফটের মতো ভারী কোনো সেট দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তখন ব্যাকগ্রাউন্ডে ফঙ্ক মিউজিক চললে আপনার ফোকাস এবং গায়ের শক্তি এক ধাক্কায় অনেক বেড়ে যাবে।
২. ‘জাম্পস্টাইল’ (Jumpstyle): কার্ডিও এবং হাই-ইনটেনসিটি ওয়ার্কআউটের সঙ্গী
আপনি যদি ট্রেডমিলে দৌড়াতে ভালোবাসেন বা হাই-ইনটেনসিটি ইন্টারভাল ট্রেনিং (HIIT) করেন, তবে ‘জাম্পস্টাইল’ আপনার জন্য বেস্ট চয়েস। ১৪০ থেকে ১৫০ বিপিএম (BPM – Beজিমে মন বসছে না? ওয়ার্কআউটের ক্লান্তি দূর করতে ট্রাই করুন ‘ফঙ্ক’ ও ‘জাম্পস্টাইল’ মিউজিক
ats Per Minute) গতিবেগের এই ইলেকট্রনিক ডান্স মিউজিক সাব-জেনারটি নেদারল্যান্ডস ও বেলজিয়াম থেকে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে।
কেন শুনবেন: এর ফাস্ট-পেসড ইলেকট্রনিক ড্রাম বিট এবং এনার্জেটিক রিদম আপনাকে এক জায়গায় স্থির হয়ে বসতে দেবে না।
উপকারিতা: জাম্পস্টাইলের দ্রুতগতির ছন্দ আপনার হার্ট রেট বাড়াতে সাহায্য করে এবং ক্লান্তিকর কার্ডিও সেশনকেও অনেক বেশি আনন্দদায়ক করে তোলে। ফলে দীর্ঘক্ষণ দৌড়ালেও মনে হবে ক্লান্তি আপনাকে ছুঁতে পারছে না।
কেন জিমের জন্য হাই-এনার্জি মিউজিক জরুরি?
গবেষণায় দেখা গেছে, দ্রুতগতির এবং জোরালো বিটের গান শুনলে আমাদের মস্তিষ্ক থেকে ডোপামিন ও অ্যাড্রেনালিন হরমোন ক্ষরিত হয়। এটি শরীরকে ক্লান্তির সংকেত পাঠাতে বাধা দেয় এবং কর্মক্ষমতা প্রায় ১৫% পর্যন্ত বাড়িয়ে দিতে পারে। ফঙ্ক এবং জাম্পস্টাইলের মতো চাঙ্গা মিউজিক আপনার এক্সারসাইজের ক্লান্তি তো কমাবেই, পাশাপাশি জিমের সময়টাকেও একঘেয়েমি থেকে মুক্ত রাখবে।
তাহলে আর দেরি কেন? আজই হেডফোনটা কানে গুঁজুন, প্লে-লিস্টে সার্চ করুন সেরা কিছু ফঙ্ক বা জাম্পস্টাইল ট্র্যাক, আর জিমের ভেতরে নিজেকে নিয়ে যান এক নতুন উচ্চতায়!