পাবনা নিউজ ২৪ ডেস্ক: বাংলাদেশের বহুল আলোচিত তিস্তা নদী সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্প (TRCMRP) নিয়ে ভারতের উদ্বেগের সরাসরি ও কড়া জবাব দিয়েছে চীন। বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার এই দ্বিপাক্ষিক উন্নয়নমূলক সহযোগিতা কোনো তৃতীয় পক্ষকে লক্ষ্য করে নয় এবং এই যৌথ উদ্যোগে বাইরের কোনো দেশের হস্তক্ষেপ বা প্রভাব থাকা উচিত নয়।
সম্প্রতি বেইজিংয়ে আয়োজিত এক নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াগুন ভারতের উদ্বেগের জবাবে এই অবস্থান তুলে ধরেন।
তৃতীয় পক্ষের প্রভাবমুক্ত সহযোগিতার বার্তা
চীনা মুখপাত্র সংবাদ সম্মেলনে জোর দিয়ে বলেন, “আমরা স্পষ্ট করতে চাই, বাংলাদেশ-চীন সহযোগিতা সম্পূর্ণভাবে নিজস্ব স্বার্থ এবং আঞ্চলিক উন্নয়নের ওপর ভিত্তি করে গঠিত। এটি কোনো তৃতীয় পক্ষকে লক্ষ্য করে পরিচালিত হয় না এবং এটি সম্পূর্ণভাবে তৃতীয় পক্ষের প্রভাবমুক্ত হওয়া উচিত।”
চীন তিস্তা প্রকল্পটিকে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলার জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জনকল্যাণমূলক প্রকল্প হিসেবে বর্ণনা করেছে। বেইজিং জানিয়েছে, বাংলাদেশ সরকার এই প্রকল্পটিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে এবং চীনও তাদের সর্বোচ্চ সামর্থ্য অনুযায়ী কারিগরি ও আর্থিক সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত।
শুরু হচ্ছে যৌথ কারিগরি সমীক্ষা
কূটনৈতিক সূত্র জানায়, সম্প্রতি দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক আলোচনার পর বাংলাদেশ ও চীনের বিশেষজ্ঞরা যৌথভাবে প্রথমবারের মতো কারিগরি সম্ভাব্যতা সমীক্ষা (Technical Feasibility Study) শুরু করতে একমত হয়েছেন। এই সমীক্ষার রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই চূড়ান্ত অবকাঠামো নির্মাণের কাজ শুরু হবে।
ভারতের উদ্বেগের মূল কারণ কী?
ভৌগোলিক ও কৌশলগত কারণে ভারতের কাছে তিস্তা নদী অববাহিকা অত্যন্ত সংবেদনশীল। এই প্রকল্পটি ভারতের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘শিলিগুড়ি করিডর’ বা ‘চিকেনস নেক’-এর কাছাকাছি অবস্থিত, যা ভারতের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোকে যুক্ত করেছে। ভারতের আশঙ্কা, সীমান্ত ঘেঁষা এই অঞ্চলে চীনা প্রকৌশলী ও কর্মকর্তাদের দীর্ঘমেয়াদি উপস্থিতি দিল্লির জাতীয় নিরাপত্তার জন্য কৌশলগত ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
তবে চীনের এই সাম্প্রতিক বিবৃতির পর স্পষ্ট যে, বেইজিং ভারতের ভূ-রাজনৈতিক চাপ উপেক্ষা করেই তিস্তা মহাপরিকল্পনায় বাংলাদেশের পাশে থাকতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।