Home আইন ও আদালত স্বস্তির বাজেট: সংসদে নতুন অর্থবিল পাস, করমুক্ত আয়সীমা বেড়ে ৪ লাখ টাকা

স্বস্তির বাজেট: সংসদে নতুন অর্থবিল পাস, করমুক্ত আয়সীমা বেড়ে ৪ লাখ টাকা

0
স্বস্তির বাজেট: সংসদে নতুন অর্থবিল পাস, করমুক্ত আয়সীমা বেড়ে ৪ লাখ টাকা
নতুন অর্থবছরের বড় আপডেট! করমুক্ত আয়ের সাধারণ সীমা এখন ৪ লাখ টাকা। সাধারণ ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির ওপর থেকে করের চাপ কমাতে এই সময়োপযোগী পদক্ষেপ।

নিউজ ডেস্ক: পাবনা নিউজ ২৪

৩০ জুন, ২০২৬

জাতীয় অর্থনীতিতে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত শ্রেণির জন্য বড় এক স্বস্তির খবর নিয়ে এলো নতুন অর্থবিল। জাতীয় সংসদে দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সাধারণ নাগরিকদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের নতুন অর্থবিল আনুষ্ঠানিকভাবে পাস হয়েছে। এবারের অর্থবিলের সবচেয়ে আকর্ষণীয় এবং আলোচিত দিক হলো—ব্যক্তিপর্যায়ে করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়িয়ে ৪ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।বিশ্বব্যাপী চলমান অর্থনৈতিক মন্দা, মূল্যস্ফীতি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের চড়া দামের এই সময়ে সরকারের এই সিদ্ধান্তকে একটি সময়োপযোগী এবং জনবান্ধব পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন অর্থনীতিবিদ ও সাধারণ জনগণ। মূলত করের বোঝা কমিয়ে নাগরিকদের হাতে নগদ টাকার প্রবাহ বাড়ানো এবং অভ্যন্তরীণ বাজার সচল রাখাই এই সিদ্ধান্তের মূল উদ্দেশ্য।

করমুক্ত আয়সীমা ৪ লাখ টাকা: কার কী লাভ?

এর আগের অর্থবছরগুলোতে করমুক্ত আয়ের যে সীমা ছিল, বর্তমান উচ্চ মূল্যস্ফীতির বাজারে তা সাধারণ চাকরিজীবী বা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য বেশ কষ্টদায়ক হয়ে উঠেছিল। নতুন বিল পাসের ফলে, কোনো সাধারণ নাগরিকের বার্ষিক আয় যদি ৪ লাখ টাকা বা তার কম হয়, তবে তাকে কোনো আয়কর (Income Tax) দিতে হবে না।এই সিদ্ধান্তের ফলে সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবেন দেশের তরুণ চাকরিজীবী, ছোট ব্যবসায়ী এবং মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো। ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত আয়ের ওপর কর ছাড় পাওয়ার অর্থ হলো—একটি বড় জনগোষ্ঠীর পকেট থেকে কর বাবদ বাড়তি টাকা খোয়া যাবে না। এই বেঁচে যাওয়া টাকা তারা তাদের দৈনন্দিন চাহিদা পূরণ, সন্তানদের শিক্ষা এবং চিকিৎসা খাতে ব্যয় করতে পারবেন, যা পরোক্ষভাবে জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে সাহায্য করবে।

নারী, প্রবীণ ও প্রতিবন্ধীদের জন্য বিশেষ ছাড়

অর্থবিলে বরাবরের মতোই সমাজের অপেক্ষাকৃত সুবিধাবঞ্চিত ও বিশেষ মর্যাদা পাওয়ার যোগ্য নাগরিকদের জন্য অতিরিক্ত ছাড়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সাধারণ নাগরিকদের করমুক্ত আয়সীমা ৪ লাখ টাকা করা হলেও:

নারী এবং ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী প্রবীণ নাগরিকদের জন্য এই করমুক্ত আয়ের সীমা আরও কিছুটা বেশি রাখা হয়েছে।

গেজেটভুক্ত যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য এই সীমা সাধারণ মানুষের তুলনায় অনেক উর্ধ্বে রাখা হয়েছে, যাতে তারা অর্থনৈতিকভাবে স্বস্তিতে থাকতে পারেন।

সামষ্টিক অর্থনীতিতে এর প্রভাব ও সরকারের লক্ষ্য

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই অর্থবিলের মূল লক্ষ্য কেবল করের হার বাড়ানো নয়, বরং করের আওতা (Tax Net) সম্প্রসারণ করা। করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়ানোর ফলে একটি বড় সুবিধা হলো—মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে কর রিটার্ন দাখিল করতে উৎসাহিত হবে।অর্থনীতিবিদদের মতে, করমুক্ত সীমার কারণে সরকারের প্রত্যক্ষ কর রাজস্বে সাময়িকভাবে কিছুটা প্রভাব পড়তে পারে। তবে সাধারণ মানুষের হাতে টাকা থাকলে তারা বাজারে খরচ বেশি করবেন। এতে পণ্যের চাহিদা বাড়বে এবং ভ্যাট (VAT) বা পরোক্ষ করের মাধ্যমে সরকারের রাজস্ব আদায় অন্য খাত থেকে পুষিয়ে যাবে। একই সাথে এটি দেশের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন খাতকে গতিশীল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

অর্থবিলের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ আপডেট

পাস হওয়া নতুন এই অর্থবিলে করমুক্ত আয়সীমার পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতির আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে:

১. উৎস কর (Tax Deducted at Source – TDS): কিছু নির্দিষ্ট খাতের ব্যবসা ও সেবার ক্ষেত্রে উৎস করের হার পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে ব্যবসা পরিচালনা বা ‘ইজ অব ডুয়িং বিজনেস’ আরও সহজ হয়।

২. কালো টাকা সাদা করার সুযোগ: এবারের বিলে অপ্রদর্শিত অর্থ বা কালো টাকা নির্দিষ্ট পরিমাণ জরিমানা ও কর দিয়ে বৈধ করার ক্ষেত্রে কঠোর নিয়ম আরোপ করা হয়েছে, যা দেশের মূল ধারার অর্থনীতিতে স্বচ্ছতা আনবে।

৩. বিলাসবহুল পণ্যে শুল্ক: দেশীয় শিল্পকে সুরক্ষা দিতে এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ধরে রাখতে বিদেশি বিলাসবহুল গাড়ি, কসমেটিকস ও ইলেকট্রনিক্স পণ্যের ওপর আমদানি শুল্ক বৃদ্ধি করা হয়েছে।

সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের প্রতিক্রিয়া

পাবনা অঞ্চলের স্থানীয় ব্যবসায়ী এবং বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, সরকারের এই ৪ লাখ টাকার করমুক্ত সীমা নির্ধারণের সিদ্ধান্তকে তারা অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছেন। তবে সাধারণ মানুষের দাবি, কর ছাড়ের পাশাপাশি বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা যেন কঠোর করা হয়, যাতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে এনে এই কর ছাড়ের প্রকৃত সুফল সাধারণ মানুষ ভোগ করতে পারে।সব মিলিয়ে, ২০২৬ সালের এই নতুন অর্থবিল দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের পিঠ থেকে করের বড় একটি বোঝা নামাতে সক্ষম হবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here