Home লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য দেশে হামের প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে তৎপর স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, চিকিৎসাকেন্দ্রে বিশেষ সতর্কতা জারি

দেশে হামের প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে তৎপর স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, চিকিৎসাকেন্দ্রে বিশেষ সতর্কতা জারি

0
দেশে হামের প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে তৎপর স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, চিকিৎসাকেন্দ্রে বিশেষ সতর্কতা জারি

অনলাইন ডেস্ক (পাবনা নিউজ ২৪) | ২ জুলাই, ২০২৬

দেশে শিশুদের অন্যতম সংক্রামক ব্যাধি হামের (Measles) প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ তৎপরতা চালাচ্ছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর (DGHS)। সরকারি বিভিন্ন পদক্ষেপ এবং টিকাদান কর্মসূচির জোরদারের মাধ্যমে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে। তবে এখনো ঝুঁকি পুরোপুরি কেটে না যাওয়ায় এবং আক্রান্ত শিশুদের জটিলতা এড়াতে দেশের প্রতিটি সরকারি-বেসরকারি চিকিৎসাকেন্দ্রে বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

পাবনা নিউজ ২৪-এর আজকের বিশেষ প্রতিবেদনে থাকছে বর্তমান হাম পরিস্থিতি, সরকারি নির্দেশনা এবং শিশুদের সুরক্ষায় করণীয় নিয়ে বিস্তারিত।

১. নিয়ন্ত্রণে সরকারি উদ্যোগ ও বর্তমান পরিস্থিতি

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশের কিছু কিছু অঞ্চলে শিশুদের মাঝে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া শুরু হয়েছে। বিশেষ করে গ্রামীণ ও দুর্গম এলাকাগুলোতে যেখানে টিকাদানের হার তুলনামূলক কম, সেখানে বিশেষ ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে শিশুদের হাম-রুবেলা (MR) টিকা দেওয়া হচ্ছে। স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের নিয়মিত মনিটরিংয়ের কারণে আক্রান্তের গ্রাফটি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা সফল হচ্ছে বলে জানা গেছে।

২. চিকিৎসাকেন্দ্রে সতর্কতা জারির কারণ

হাম একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে রোগ। আক্রান্ত শিশুর হাঁচি-কাশি থেকে এটি দ্রুত অন্য শিশুদের মাঝে ছড়িয়ে পড়তে পারে। চিকিৎসাকেন্দ্রে যাতে এক শিশু থেকে অন্য শিশু সংক্রমিত না হয়, সেজন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে বিশেষ গাইডলাইন দেওয়া হয়েছে:

  • আইসোলেশন ও আলাদা কর্নার: হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে আসা শিশুদের সাধারণ ওয়ার্ডে না রেখে আলাদা স্থানে বা আইসোলেশনে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
  • দ্রুত স্ক্রিনিং: জরুরি বিভাগে আসা শিশুদের দ্রুত লক্ষণ দেখে হাম আক্রান্ত কিনা তা চিহ্নিত করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
  • বিশেষজ্ঞ নজরদারি: হামের কারণে শিশুদের নিউমোনিয়া বা ডায়রিয়ার মতো মারাত্মক জটিলতা দেখা দিতে পারে, তাই চিকিৎসকদের আক্রান্ত শিশুদের ওপর সার্বক্ষণিক কড়া নজর রাখতে বলা হয়েছে।

৩. অভিভাবকদের জন্য জরুরি পরামর্শ ও সতর্কবার্তা

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, হাম থেকে বাঁচার একমাত্র এবং সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো সঠিক সময়ে শিশুকে টিকা দেওয়া। ৯ মাস বয়স পূর্ণ হলে হাম-রুবেলার প্রথম ডোজ এবং ১৫ মাস বয়সে দ্বিতীয় ডোজ দিতে হয়।

  • যদি কোনো শিশুর শরীরে তীব্র জ্বর, লালচে ফুসকুড়ি বা র্যাশ, চোখ লাল হওয়া বা সর্দি-কাশি দেখা দেয়, তবে তাকে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যান।
  • আক্রান্ত শিশুকে অন্য শিশুদের থেকে আলাদা রাখুন এবং চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ খাওয়াবেন না।

পাবনা নিউজ ২৪-এর শেষ কথা

হাম একটি প্রতিরোধযোগ্য রোগ। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনাবলী মেনে এবং সঠিক সময়ে শিশুদের টিকা নিশ্চিত করার মাধ্যমে আমরা এই রোগটি সম্পূর্ণ নির্মূল করতে পারি। চিকিৎসাকেন্দ্রের সতর্কতার পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতাই পারে আমাদের শিশুদের সুরক্ষিত রাখতে।

জনস্বাস্থ্য, চিকিৎসাসেবা, সচেতনতামূলক টিপস এবং দেশের সব তাজা খবর সবার আগে পেতে চোখ রাখুন পাবনা নিউজ ২৪-এর পর্দায়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here