Home বিশ্ব মহাকাশ বিজ্ঞানে নতুন দিগন্ত: নাসা ও স্পেসএক্স-এর যৌথ মঙ্গল মিশন ও আইএসএস-এ নতুন পরীক্ষা

মহাকাশ বিজ্ঞানে নতুন দিগন্ত: নাসা ও স্পেসএক্স-এর যৌথ মঙ্গল মিশন ও আইএসএস-এ নতুন পরীক্ষা

0
মহাকাশ বিজ্ঞানে নতুন দিগন্ত: নাসা ও স্পেসএক্স-এর যৌথ মঙ্গল মিশন ও আইএসএস-এ নতুন পরীক্ষা

রিপোর্ট ডেস্ক , পাবনা নিউজ ২৪:

মানবজাতির মহাকাশ জয়ের স্বপ্ন এখন আর কল্পবিজ্ঞানের পাতায় সীমাবদ্ধ নেই, তা রূপ নিচ্ছে বাস্তবে। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা (NASA) এবং ধনকুবের ইলন মাস্কের বেসরকারি মহাকাশ সংস্থা স্পেসএক্স (SpaceX)-এর যৌথ উদ্যোগে মঙ্গল গ্রহ এবং আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন (ISS) ঘিরে শুরু হয়েছে এক নতুন অধ্যায়। আজ (২ জুলাই, ২০২৬) নাসা এবং স্পেসএক্স যৌথভাবে তাদের আগামী মঙ্গল মিশন এবং আইএসএস-এ চলমান বেশ কিছু বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার গুরুত্বপূর্ণ আপডেট প্রকাশ করেছে। এই যৌথ প্রচেষ্টা একদিকে যেমন মানুষকে লাল গ্রহে নিয়ে যাওয়ার পথ সুগম করছে, অন্যদিকে পৃথিবীর কক্ষপথে থাকা গবেষণাগারে মানবদেহের টিকে থাকার রহস্য উন্মোচন করছে।

মঙ্গল মিশনের নতুন রোডম্যাপ ও ‘স্টারশিপ’ প্রযুক্তির অগ্রগতি

নাসা এবং স্পেসএক্স-এর যৌথ মিশনের মূল লক্ষ্য হলো ২০৩০-এর দশকের প্রথম ভাগে মঙ্গল গ্রহে প্রথম মানববাহী মহাকাশযান পাঠানো। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে ২০২৬ সালের এই মাঝামাঝি সময়ে এসে স্পেসএক্স তাদের মেগা রকেট ‘স্টারশিপ’ (Starship)-এর নতুন সংস্করণের সফল পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে।নাসার আর্টেমিস (Artemis) চন্দ্র মিশনের সফলতার পর, এখন পুরো নজর দেওয়া হচ্ছে মঙ্গলের ওপর। নাসার বৈজ্ঞানিক অনবোর্ড প্রযুক্তি এবং স্পেসএক্স-এর সাশ্রয়ী ও পুনঃব্যবহারযোগ্য (Reusable) রকেট প্রযুক্তির মিশ্রণে তৈরি হচ্ছে এই ঐতিহাসিক মিশনের ব্লুপ্রিন্ট। আজকের আপডেটে জানানো হয়েছে, মঙ্গল গ্রহের পাতলা বায়ুমণ্ডলে ভারী মহাকাশযান নিরাপদে অবতরণ করানোর জন্য একটি নতুন ‘অ্যারোব্রেকিং’ (Aerobraking) এবং থার্মাল শিল্ড প্রযুক্তির সফল সিমুলেশন সম্পন্ন হয়েছে। এই প্রযুক্তিটি মঙ্গলের বুকে নামার সময় মহাকাশচারীদের চরম উত্তাপ থেকে রক্ষা করবে।

আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে (ISS) অভিনব বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা

মঙ্গল গ্রহে পৌঁছাতে মহাকাশচারীদের প্রায় ছয় থেকে আট মাস সময় লাগবে। এই দীর্ঘ সময়ে শূন্য মাধ্যাকর্ষণ বা মাইক্রোগ্রাভিটিতে মানবদেহ কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখায়, তা জানতে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে (ISS) বেশ কিছু রোমাঞ্চকর পরীক্ষা চালানো হচ্ছে।

১. কৃত্রিম অভিকর্ষ ও পেশী ক্ষয় রোধ: মহাকাশে দীর্ঘ সময় থাকলে নভোচারীদের হাড় ও পেশী দুর্বল হয়ে যায়। নাসা মহাকাশ স্টেশনে একটি ছোট আকারের সেন্ট্রিফিউজ ডিভাইস পাঠিয়েছে, যা ঘূর্ণন গতির মাধ্যমে কৃত্রিম অভিকর্ষ (Artificial Gravity) তৈরি করতে পারে। স্পেসএক্সের কার্গো ড্রাগন ক্যাপসুলের মাধ্যমে পাঠানো এই ডিভাইসে ইঁদুরের ওপর পরীক্ষা চালানো হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে মঙ্গলযাত্রীদের সুস্থ রাখতে সাহায্য করবে।

২. মহাকাশে থ্রিডি বায়ো-প্রিন্টিং: মহাকাশ স্টেশনে মানবদেহের টিস্যু বা কোষ থ্রিডি প্রিন্ট করার এক অভিনব প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছেন বিজ্ঞানীরা। পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণে যা তৈরি করা কঠিন, মহাকাশের শূন্য মাধ্যাকর্ষণে সেই কোষগুলো খুব নিখুঁতভাবে জ্যামিতিক আকার ধারণ করতে পারে। এই পরীক্ষার সফলতার ওপর নির্ভর করছে মহাকাশে জরুরি চিকিৎসায় কৃত্রিম অঙ্গ তৈরির ভবিষ্যৎ।

সবুজ শক্তির সন্ধান ও স্বয়ংক্রিয় অক্সিজেন উৎপাদন

মঙ্গল গ্রহে বেঁচে থাকার জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো অক্সিজেন ও পানির প্রাপ্যতা। নাসা তাদের ‘মক্সি’ (MOXIE) প্রযুক্তির আরও উন্নত সংস্করণ নিয়ে কাজ করছে, যা মঙ্গলের বায়ুমণ্ডলে থাকা কার্বন ডাই অক্সাইড থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অক্সিজেন তৈরি করতে পারবে।একই সাথে, স্পেসএক্স মহাকাশযানের জ্বালানি হিসেবে মিথেন ও তরল অক্সিজেন ব্যবহার করছে। তাদের লক্ষ্য হলো মঙ্গলের মাটির নিচে থাকা বরফ এবং বায়ুমণ্ডলের কার্বন ব্যবহার করে মঙ্গলের বুকেই ফিরতি ফ্লাইটের জন্য জ্বালানি তৈরি করা। একে বলা হচ্ছে ‘ইন-সিটু রিসোর্স ইউটিলাইজেশন’ (ISRU)। আজকের ব্রিফিংয়ে বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এই প্রযুক্তির প্রাথমিক ল্যাব টেস্টগুলোতে আশাতীত সাফল্য পাওয়া গেছে।

মহাকাশ গবেষণায় যৌথ উদ্যোগের গুরুত্ব

নাসার প্রধান প্রশাসক এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, “সরকারি ও বেসরকারি খাতের এই অংশীদারিত্ব মহাকাশ গবেষণার খরচ প্রায় ৪০% কমিয়ে এনেছে এবং কাজের গতি বাড়িয়েছে বহুগুণ।” স্পেসএক্সের তৈরি স্বয়ংক্রিয় ল্যান্ডিং সিস্টেম এবং নাসার গভীর মহাকাশ যোগাযোগ নেটওয়ার্ক (Deep Space Network) একসাথে কাজ করায় এখন মহাকাশ বিজ্ঞানের যেকোনো জটিল মিশন অনেক বেশি নিরাপদ ও সাশ্রয়ী হয়ে উঠেছে। যারা নিজেদের জীবদ্দশায় মানুষকে চাঁদের পর মঙ্গল গ্রহের মাটিতে হেঁটে বেড়াতে দেখবে। ২ জুলাইয়ের এই নতুন আপডেট মহাকাশ বিজ্ঞানের ইতিহাসে নিঃসন্দেহে এক বিশাল মাইলফলক।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here