স্পোর্টস ডেস্ক |
বিশ্ব ফুটবলে রাজত্ব বদলের সুবাতাস বইছে বেশ কিছুদিন ধরেই। ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ও লিওনেল মেসির একচ্ছত্র আধিপত্যের যুগে কিলিয়ান এমবাপ্পে যে নিজের সাম্রাজ্য গড়ে তুলছেন, তার আরও একটি বড় প্রমাণ মিলল এবার। পর্তুগিজ মহাতারকা রোনালদোর একটি অনন্য রেকর্ড ভেঙে ফুটবল বিশ্বে নতুন আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন এই ফরাসি ফরোয়ার্ড। রোনালদোকে পেছনে ফেলে এমবাপ্পের পরবর্তী লক্ষ্য এখন আর্জেন্টাইন জাদুকর লিওনেল মেসির রেকর্ড।
আন্তর্জাতিক ফুটবল ও ক্লাব ফুটবলের পরিসংখ্যানের পাতায় কিলিয়ান এমবাপ্পে যেভাবে দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাচ্ছেন, তাতে ফুটবল বিশ্লেষকরা মনে করছেন—মেসি-রোনালদোর উত্তরসূরি হিসেবে ফুটবল বিশ্বকে শাসন করার সব যোগ্যতাই এই তারকার রয়েছে।
রোনালদোর রেকর্ড ভাঙলেন যেভাবে
দীর্ঘদিন ধরে ধরে রাখা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর একটি নির্দিষ্ট রেকর্ড (বয়সের তুলনায় গোলসংখ্যা বা নির্দিষ্ট টুর্নামেন্টে গোলের মাইলফলক) এবার নিজের করে নিলেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। ম্যাচের পর ম্যাচ দুর্দান্ত পারফরম্যান্স এবং গোল করার অবিশ্বাস্য ধারাবাহিকতাই তাকে এই রেকর্ডের চূড়ায় নিয়ে গেছে। রোনালদোর মতো কিংবদন্তিকে ছাড়িয়ে যাওয়া যে কোনো তরুণ খেলোয়াড়ের জন্যই এক বিশাল মনস্তাত্ত্বিক জয়, আর এমবাপ্পে ঠিক সেই কাজটিই করে দেখালেন।
মেসির ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছেন এমবাপ্পে
রোনালদো অধ্যায় পার হওয়ার পর এমবাপ্পের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ লিওনেল মেসি। ফুটবলের সর্বোচ্চ রেকর্ডগুলোর সিংহভাগই রয়েছে মেসির দখলে। তবে এমবাপ্পে যেভাবে গোলবন্যা বইয়ে দিচ্ছেন এবং একের পর এক অ্যাসিস্ট করছেন, তাতে মেসির রেকর্ড ভাঙা এখন আর অসম্ভব কিছু মনে হচ্ছে না। পরিসংখ্যান বলছে, মেসির ঘাড়ের ওপর আক্ষরিক অর্থেই নিঃশ্বাস ফেলছেন এই ফরাসি স্পিডস্টার। আর মাত্র কয়েকটি গোল বা মাইলফলক স্পর্শ করলেই তিনি ছুঁয়ে ফেলবেন মেসিকে।
ভবিষ্যতের বিশ্বসেরা হওয়ার লড়াই
মেসি ও রোনালদো দুজনেই ক্যারিয়ারের সায়াহ্নে দাঁড়িয়ে। এই শূন্যস্থান পূরণে কিলিয়ান এমবাপ্পে নিজেকে প্রতি মুহূর্তেই প্রমাণ করছেন। গতি, ড্রিবলিং আর নিখুঁত ফিনিশিংয়ের জোরে তিনি প্রতিনিয়ত আধুনিক ফুটবলের সংজ্ঞা বদলে দিচ্ছেন। রোনালদোর রেকর্ড ভাঙার পর ফুটবল দুনিয়ায় এখন একটাই প্রশ্ন—এমবাপ্পে কি পারবেন মেসিকেও ছাড়িয়ে সর্বকালের অন্যতম সেরাদের তালিকায় নিজের নাম সবার ওপরে লিখতে?
সামনের ম্যাচগুলোতে এমবাপ্পের এই অবিশ্বাস্য ফর্ম বজায় থাকলে ফুটবলপ্রেমীরা যে খুব দ্রুতই নতুন এক রেকর্ডের সাক্ষী হতে যাচ্ছেন, তা বলাই বাহুল্য।