Home বিশ্ব শেষ আলটিমেটাম: হরমুজ প্রণালিতে হামলা বন্ধে ইরানকে আজ পর্যন্ত সময় দিল যুক্তরাষ্ট্র

শেষ আলটিমেটাম: হরমুজ প্রণালিতে হামলা বন্ধে ইরানকে আজ পর্যন্ত সময় দিল যুক্তরাষ্ট্র

0
শেষ আলটিমেটাম: হরমুজ প্রণালিতে হামলা বন্ধে ইরানকে আজ পর্যন্ত সময় দিল যুক্তরাষ্ট্র

পাবনা নিউজ ২৪ আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতির পারদ এবার চরমে পৌঁছেছে। কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’তে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা বন্ধ করতে এবং আন্তর্জাতিক এই জলপথ সম্পূর্ণ উন্মুক্ত করার ঘোষণা দিতে ইরানকে আজ (শনিবার) পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। হোয়াইট হাউস ও পেন্টাগনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো এই “অনমনীয় আলটিমেটাম”-এর খবর নিশ্চিত করেছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের স্পষ্ট হুঁশিয়ারি—এই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ইরান যদি প্রকাশ্যে তাদের অবস্থান পরিবর্তন না করে, তবে তেহরানকে আরও ভয়াবহ সামরিক পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে।

ট্রাম্পের ঘোষণা: “যুদ্ধবিরতি শেষ”

গত জুন মাসে ওমানে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত ১৪ দফার একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি (MoU) হয়েছিল। কিন্তু চলতি জুলাই মাসের শুরুতে ইরান সেই চুক্তি লঙ্ঘন করে হরমুজ প্রণালিতে বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। এর জবাবে গত ৮ ও ৯ জুলাই ইরানজুড়ে মার্কিন বিমান ও নৌবাহিনী ব্যাপক বোমাবর্ষণ করে।

সম্প্রতি এক সোশ্যাল মিডিয়া বার্তায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, “ইরান আমাদের কাছে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করেছে এবং আমরা তাতে রাজি হয়েছি। তবে ওয়াশিংটন তেহরানকে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে যে, পূর্বের যুদ্ধবিরতি (Ceasefire) এখন সম্পূর্ণ শেষ!”

কী চাইছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র?

মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসন দুটি প্রধান শর্তে ইরানকে এই ডেডলাইন দিয়েছে: ১. প্রকাশ্য ঘোষণা: ইরানকে আন্তর্জাতিক মহলের সামনে প্রকাশ্যে ঘোষণা করতে হবে যে, হরমুজ প্রণালি সব ধরনের বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য উন্মুক্ত এবং সেখানে কোনো টোল বা ফি আদায় করা যাবে না। ২. হামলা বন্ধের প্রতিশ্রুতি: বাণিজ্যিক ও পণ্যবাহী জাহাজে সমস্ত ধরনের আক্রমণ অবিলম্বে এবং স্থায়ীভাবে বন্ধ করার অঙ্গীকার করতে হবে।

মার্কিন প্রশাসনের দাবি, ইরান যদি সমুদ্রসীমার এই ন্যূনতম আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলতে ব্যর্থ হয়, তবে তাদের সাথে ভবিষ্যতে কোনো পরমাণু চুক্তি করা ওয়াশিংটনের পক্ষে অসম্ভব।

অনড় অবস্থানে ইরানও

যুক্তরাষ্ট্রের এই চরম আলটিমেটামের মুখেও তেহরান এখনো তাদের অনড় অবস্থান বজায় রেখেছে। জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির সাঈদ ইরাভানি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, “হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও নৌ-চলাচলের সমস্ত পরিকল্পনা ও দায়িত্ব এককভাবে এবং একচেটিয়াভাবে শুধু ইরানের। এখানে বাইরের কোনো শক্তির হস্তক্ষেপ বা নতুন কোনো নিয়ম চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা ইরান বরদাশত করবে না।”

বিশ্ব অর্থনীতিতে মহাসংকটের আশঙ্কা

বিশ্বের মোট উৎপাদিত জ্বালানি তেল ও গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ (২০ শতাংশ) এই হরমুজ প্রণালি দিয়েই পরিবাহিত হয়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের এই মুখোমুখি অবস্থানের কারণে ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। যদি আজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো কূটনৈতিক সমাধান না আসে, তবে মধ্যপ্রাচ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ শুরু হওয়া এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের বিপর্যয় নামার আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here