Home বিশ্ব সুদের হার বাড়াল কেন্দ্রীয় ব্যাংক, অস্ট্রেলিয়ায় হু হু করে কমছে বাড়ির দাম!

সুদের হার বাড়াল কেন্দ্রীয় ব্যাংক, অস্ট্রেলিয়ায় হু হু করে কমছে বাড়ির দাম!

0
সুদের হার বাড়াল কেন্দ্রীয় ব্যাংক, অস্ট্রেলিয়ায় হু হু করে কমছে বাড়ির দাম!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, পাবনা নিউজ ২৪ | প্রকাশ: ১ জুলাই, ২০২৬

টানা সুদের হার বৃদ্ধির জেরে বড় ধরনের মন্দার মুখে পড়েছে অস্ট্রেলিয়ার আবাসন খাত (Housing Market)। দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক রিজার্ভ ব্যাংক অব অস্ট্রেলিয়া (RBA) মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দফায় দফায় সুদের হার বৃদ্ধি করায় সিডনি, মেলবোর্নসহ প্রধান প্রধান শহরগুলোতে রেকর্ড গতিতে কমছে বাড়ির দাম।

আবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, গত কয়েক দশকের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার প্রপার্টি মার্কেটে এটিই সবচেয়ে বড় দরপতন। ঋণ নেওয়ার খরচ অতিরিক্ত বেড়ে যাওয়ায় ক্রেতারা এখন বাজার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন।

কেন কমছে বাড়ির দাম?

অস্ট্রেলিয়ায় আবাসন খাতের এই ধসের পেছনে মূল কারণ হলো বন্ধকী ঋণের (Mortgage) সুদের হার বৃদ্ধি। ব্যাংক সুদের হার বাড়িয়ে দেওয়ায় সাধারণ মানুষের পক্ষে আগের মতো বড় অঙ্কের গৃহঋণ বা হোম লোন নেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছে। যারা ইতিমধ্যেই লোন নিয়ে বাড়ি কিনেছেন, তাদের প্রতি মাসে ব্যাংক কিস্তির পরিমাণ আকাশচুম্বী হয়েছে। ফলে নতুন করে কেউ আর বাড়ি কেনার ঝুঁকিতে যাচ্ছেন না, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে বাজারদরের ওপর।

সবচেয়ে বেশি ধস সিডনি ও মেলবোর্নে

পাবনা নিউজ ২৪-এর পাঠকদের জন্য আন্তর্জাতিক অর্থনীতি সূত্র থেকে জানা গেছে, অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে ব্যয়বহুল শহর সিডনি এবং মেলবোর্নে বাড়ির দাম সবচেয়ে বেশি কমেছে। গত কয়েক মাসে এসব অঞ্চলে প্রপার্টির দাম গড়ে ৫ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত নেমে গেছে। কুইন্সল্যান্ড এবং ব্রিসবেনের মতো এলাকাগুলোতেও এর হাওয়া লেগেছে। বিক্রেতারা ক্রেতা আকর্ষণের জন্য দাম কমিয়েও কাঙ্ক্ষিত সাড়া পাচ্ছেন না।

আবাসন খাতের এই মন্দার প্রভাব কী?

অর্থনীতিবিদদের মতে, বাড়ির দাম কমে যাওয়া আপাতদৃষ্টিতে নতুন ক্রেতাদের জন্য সুখবর মনে হলেও, সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য এটি বেশ উদ্বেগের। কারণ:

  • সম্পদের মূল্যহ্রাস: লাখ লাখ অস্ট্রেলীয় নাগরিকের প্রধান সম্পদ তাদের বাড়ি, যার দাম কমে যাওয়ায় তাদের সামগ্রিক সম্পদের মূল্য কমে যাচ্ছে।
  • নির্মাণ খাতে স্থবিরতা: নতুন বাড়ির চাহিদা কমে যাওয়ায় আবাসন নির্মাণ প্রতিষ্ঠানগুলো কাজ কমিয়ে দিচ্ছে, যা কর্মসংস্থানে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
  • ভোক্তা ব্যয় হ্রাস: ঋণের কিস্তি দিতে গিয়ে সাধারণ মানুষের পকেটের টাকা শেষ হয়ে যাওয়ায় বাজারে অন্যান্য পণ্যের কেনাকাটাও কমে গেছে।

ভবিষ্যৎ কোন দিকে?

অস্ট্রেলিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংক ইঙ্গিত দিয়েছে, মূল্যস্ফীতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত সুদের হার কমানোর কোনো সম্ভাবনা নেই। ফলে আগামী দিনগুলোতে আবাসন বাজারে এই মন্দা ভাব আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। যারা কম দামে বাড়ি কেনার জন্য উপযুক্ত সময়ের অপেক্ষায় ছিলেন, তাদের জন্য এটি সুযোগ হলেও, পুরো অস্ট্রেলিয়ার অর্থনীতি এখন এই সুদের হারের বেড়াজালে বন্দি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here