খেলাধুলা ডেস্ক, পাবনা নিউজ ২৪ | প্রকাশ: ১ জুলাই, ২০২৬
চলতি ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের উত্তেজনার মাঝেই ফুটবল ঈশ্বর ডিয়েগো আরমান্দো ম্যারাডোনার একটি পুরোনো মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে ঝড় তুলেছে। তীব্র গরম থেকে খেলোয়াড়দের সুরক্ষার জন্য ফিফার চালু করা ‘হাইড্রেশন ব্রেক’ বা ‘কুলিং ব্রেক’ নিয়ে প্রয়াত এই কিংবদন্তির ৮ বছর পুরোনো একটি বিস্ফোরক মন্তব্য এখন হুবহু মিলে যাচ্ছে। ম্যারাডোনার এই দূরদর্শিতা দেখে রীতিমতো তাজ্জব বনে গেছেন ফুটবলপ্রেমীরা।
২০১৮ সালে যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোকে যৌথভাবে ২০২৬ বিশ্বকাপের আয়োজক ঘোষণা করা হয়, তখনই ফুটবলের বাণিজ্যিকীকরণ নিয়ে ফিফাকে সতর্ক করেছিলেন ম্যারাডোনা।
কী বলেছিলেন ফুটবল জাদুকর ম্যারাডোনা?
২০১৮ সালের সেই সাক্ষাৎকারে ম্যারাডোনা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছিলেন, উত্তর আমেরিকায় ফুটবল নিয়ে কোনো খাঁটি আবেগ নেই। আমেরিকানরা কেবল ফুটবলের বাণিজ্যিক দিকটাই বোঝে। তিনি স্মরণ করিয়ে দিয়েছিলেন, ১৯৯৪ সালের আমেরিকার বিশ্বকাপের আগেও ম্যাচটিকে ২৫ মিনিট করে চার ভাগে (কোয়ার্টারে) বিভক্ত করার একটি প্রস্তাব উঠেছিল।
সেই প্রসঙ্গ টেনে ম্যারাডোনা ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন—আমেরিকানরা মূলত টিভিতে বেশি বেশি বিজ্ঞাপন (Commercials) দেখানোর স্বার্থেই পুরো খেলাটিকে ভেঙে চার ভাগে ভাগ করতে চায়। তারা টুর্নামেন্ট আয়োজন করলে বিজ্ঞাপনের স্বার্থে খেলার ঐতিহ্য নষ্ট করতেও দ্বিধা করবে না।
ভবিষ্যদ্বাণী যেভাবে মিলে গেল এখন
চলতি ২০২৬ বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার নিয়ম বদলে ম্যাচকে চার কোয়ার্টারে ভাগ করা না হলেও, তীব্র গরম ও আর্দ্রতার অজুহাতে প্রতি অর্ধে একটি করে বাধ্যতামূলক ৩ মিনিটের ‘হাইড্রেশন ব্রেক’ বা ‘কুলিং ব্রেক’ চালু করেছে ফিফা।
বিতর্কে ফিফা এবং মিশ্র প্রতিক্রিয়া
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো অবশ্য দাবি করেছেন, খেলোয়াড়দের শারীরিক সুরক্ষার কথা বিবেচনা করেই এই নিয়ম রাখা হয়েছে। তবে ফুটবলপ্রেমী ও বিশ্লেষকদের অনেকেই ম্যারাডোনার সুরে সুর মিলিয়ে বলছেন, এটি আসলে কৌশলে খেলাটিকে চার ভাগে ভাগ করে কর্পোরেট স্পন্সরদের সুবিধা দেওয়ার একটি বাণিজ্যিক প্রয়াস মাত্র।
এমনকি অনেক দলের কোচও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, এই ৩ মিনিটের অনাকাঙ্ক্ষিত বিরতি ম্যাচের চেনা ছন্দ (Momentum) পুরোপুরি নষ্ট করে দিচ্ছে।
২০২০ সালে ম্যারাডোনা পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করলেও, ২০২৬ বিশ্বকাপে এসে তার সেই দূরদর্শী বার্তা প্রমাণ করল—ফুটবলের ভালো-মন্দ তিনি কতটা গভীরভাবে উপলব্ধি করতে পারতেন।
পাবনা নিউজ ২৪-এর পাঠকদের জানিয়ে রাখা ভালো, ম্যারাডোনার আশঙ্কাকে সত্যি করে এই বিরতিগুলো এখন সম্প্রচারকারী চ্যানেলগুলোর জন্য কোটি কোটি ডলারের বিজ্ঞাপনের খনি হয়ে উঠেছে। রেফারি হাইড্রেশন ব্রেকের বাঁশি বাজানোর ঠিক ২০ সেকেন্ডের মধ্যে টিভি পর্দায় কমার্শিয়াল ব্রেক চলে আসছে, যা খেলা শুরুর ৩০ সেকেন্ড আগে শেষ হচ্ছে। মিডিয়া অ্যানালিস্টদের মতে, এই ৩ মিনিটের একেকটি ছোট বিরতি থেকে ব্রডকাস্টাররা মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার রাজস্ব আয় করছে।