রাজধানীর মিরপুরের হাম (মিজলস) আক্রান্ত হয়ে শিশু মৃত্যুর ঘটনায় নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ চারজনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন আদালত। মামলার বাদীর অভিযোগ আমলে না নিয়ে আদালত এ আদেশ প্রদান করেন।
মামলার প্রেক্ষাপটের বিস্তারিত বাদীপক্ষের অভিযোগ ছিল, হামের টিকা প্রদানের সময় অবহেলা এবং ভুল চিকিৎসার কারণে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসাকেন্দ্র এবং এর নীতিনির্ধারকদের দায়িত্বে অবহেলা ছিল। আবেদনে ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ চারজনকে বিবাদী করে মামলার আবেদন জানানো হয়েছিল। মূলত, যে প্রতিষ্ঠানে শিশুটি চিকিৎসা নিচ্ছিল বা যেখান থেকে টিকা গ্রহণ করেছিল, সেই প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদ ও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে দায়বদ্ধতার প্রশ্ন তুলে এই মামলাটি দায়েরের চেষ্টা করা হয়।
আদালতের পর্যবেক্ষণ শুনানি শেষে বিজ্ঞ আদালত মামলার আবেদনটি খারিজ করে দেন। আদালত পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেন যে, ফৌজদারি মামলা দায়েরের জন্য যে সুনির্দিষ্ট উপাদানের প্রয়োজন, তা এখানে পাওয়া যায়নি। ব্যক্তিগতভাবে কারো ওপর এই ধরনের ঘটনার দায় চাপানোর মতো পর্যাপ্ত তথ্য বা প্রমাণাদি মামলার আবেদনে উপস্থাপন করা সম্ভব হয়নি। আদালত আইনের যথাযথ প্রক্রিয়া ও নথিপত্রের বিশ্লেষণ শেষে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।
প্রতিক্রিয়া ও আইনি বিশ্লেষণ মামলা খারিজ হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট আইনজ্ঞরা জানান, যেকোনো ভুল চিকিৎসার বা অবহেলার জন্য মামলার ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সরাসরি সম্পৃক্ততা ও গাফিলতির প্রমাণ থাকা জরুরি। এখানে পরোক্ষ বা নামমাত্র দায়ভার থেকে ফৌজদারি মামলা গ্রহণ করা আইনের দৃষ্টিতে যুক্তিযুক্ত নয়। আদালত প্রাঙ্গণে বাদীর আইনজীবী বিষয়টি নিয়ে আপিলের কথা বললেও, আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন মামলার আবেদনে যৌক্তিক তথ্যের অভাব ছিল।
শিশুমৃত্যুর মতো একটি সংবেদনশীল ঘটনায় জনমনে ক্ষোভ থাকা স্বাভাবিক, তবে বিচার বিভাগ আইনের শাসনের প্রতি অবিচল থেকে উপযুক্ত প্রমাণ ছাড়া কোনো মামলা গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকে। ঘটনাটির প্রকৃত কারণ উদঘাটনে প্রশাসনিক তদন্তের দাবি জানিয়ে অনেকেই বলছেন, ব্যক্তিগত আক্রোশ বা প্রভাব বিস্তারের বদলে সঠিক তদন্তের মাধ্যমেই দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করা সম্ভব।