নিউজ ডেস্ক ,পাবনা নিউজ ২৪
জিম্বাবুয়ের মাটিতে প্রথম দুই ম্যাচ হেরে আগেই ওয়ানডে সিরিজ হাতছাড়া করেছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। ফলে ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে উঁকি দিচ্ছিল হোয়াইটওয়াশের চরম লজ্জা। তবে সিরিজের শেষ ম্যাচে ঘুরে দাঁড়িয়েছে টিম বাংলাদেশ। গতকাল ১১ জুলাই (শনিবার) হারারে স্পোর্টস ক্লাবে স্বাগতিক জিম্বাবুয়েকে ৭ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারিয়ে হোয়াইটওয়াশের লজ্জা এড়াতে পেরেছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। মেহেদী হাসান মিরাজের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ দল এই সান্ত্বনার জয়ের মাধ্যমে ৩ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজটি ২-১ ব্যবধানে শেষ করল।
২০-২৬ মৌসুমের এই গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক সিরিজের শেষ ওয়ানডের খুঁটিনাটি ও আসন্ন টি-টোয়েন্টি সিরিজের বিশ্লেষণ নিয়ে পাবনা নিউজ ২৪-এর এই বিশেষ ক্রীড়া প্রতিবেদন।
শরিফুল-তাসকিনের তোপে ১৯৯ রানেই থমকে গেল জিম্বাবুয়ে
ম্যাচের শুরুতে টসে জিতে প্রথমে ফিল্ডিং করার সাহসী সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। অধিনায়কের সেই আস্থার প্রতিদান দিতে একটুও সময় নেননি টাইগার বোলাররা।
শরিফুলের বিধ্বংসী স্পেল: প্রথম ওভার থেকেই জিম্বাবুয়ে ব্যাটারদের ওপর চড়াও হন বাঁহাতি পেসার শরিফুল ইসলাম। দুর্দান্ত লাইন ও লেন্থ বজায় রেখে তিনি একাই শিকার করেন ৪টি মূল্যবান উইকেট।
তাসকিনের চমৎকার সঙ্গ: অভিজ্ঞ পেসার তাসকিন আহমেদ শুরু থেকেই আঁটসাঁট বোলিং করে প্রতিপক্ষের রানের গতি টেনে ধরেন। তিনি নেন ২টি উইকেট। বোলারদের এই সম্মিলিত তোপের মুখে পড়ে জিম্বাবুয়ে দল মাত্র ১৯৯ রানেই অলআউট হয়ে যায়। স্বাগতিকদের পক্ষে সর্বোচ্চ ৭৫ রান করেন ওয়েসলি মাধেভেরে এবং শেষদিকে ব্র্যাড ইভান্স খেলেন ৫০ রানের এক লড়াকু ইনিংস।
তানজিদ-সৌম্যর ১৫১ রানের মহাকাব্যিক উদ্বোধনী জুটি
২০০ রানের সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশ দলকে চমৎকার সূচনা এনে দেন দুই ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম ও সৌম্য সরকার। প্রথম উইকেট জুটিতেই তারা স্কোরবোর্ডে যোগ করেন ১৫১ রান, যা বাংলাদেশের অনায়াস জয়কে পুরোপুরি নিশ্চিত করে দেয়।
সেঞ্চুরির আক্ষেপে তানজিদ, দারুণ ছন্দে সৌম্য
তরুণ ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম শুরু থেকেই জিম্বাবুয়ের বোলারদের ওপর আধিপত্য বিস্তার করে খেলেন। তবে ব্যক্তিগত ৯৪ রানের মাথায় আউট হয়ে মাত্র ৬ রানের জন্য ক্যারিয়ারের একটি নিশ্চিত সেঞ্চুরি মিস করার আক্ষেপে পোড়েন তিনি। ১০১ বলে সাজানো তার এই ইনিংসে ছিল ৮টি চার ও ৩টি ছক্কার মার। অন্যপ্রান্তে অভিজ্ঞ সৌম্য সরকার ৮২ বলে ৬টি চার ও ২টি ছক্কায় ৬৯ রানের একটি দায়িত্বশীল ইনিংস খেলে দলের জয়ের ভিত শক্ত করে দেন।
৩৬ ওভারেই লক্ষ্যভেদ
দুই ওপেনারের বিদায়ের পর নাজমুল হোসেন শান্তর ১৮ রানের ছোট ইনিংসের ওপর ভর করে মাত্র ৩৬ ওভারেই ৩ উইকেট হারিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ (২০০/৩)। জিম্বাবুয়ের পক্ষে আর্নেস্ট মাসুকু ২টি উইকেট নেন। ম্যাচজয়ী ৯৪ রানের ইনিংস খেলার সুবাদে বাংলাদেশের তানজিদ হাসান তামিম ম্যাচ সেরার (Player of the Match) পুরস্কার জিতেন। তবে প্রথম দুই ম্যাচে দুর্দান্ত অলরাউন্ড পারফর্ম করে পুরো সিরিজে অবদান রাখায় জিম্বাবুয়ের ব্র্যাড ইভান্স সিরিজ সেরার (Player of the Series) পুরস্কার নিজের করে নেন।
এবার মিশন টি-টোয়েন্টি: বুলাওয়েতে প্রস্তুতির পালা
ওয়ানডে মিশন শেষ হতে না হতেই এবার ক্রিকেটারদের সামনে সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটের চ্যালেঞ্জ। ওয়ানডে সিরিজের ট্রফি হাতছাড়া হলেও শেষ ম্যাচের এই দাপুটে জয়টি আসন্ন টি-টোয়েন্টি সিরিজে ক্রিকেটারদের মানসিকভাবে বেশ আত্মবিশ্বাস যোগাবে বলে ক্রিকেট বিশ্লেষকদের ধারণা।
আগামী ১৫ জুলাই থেকে জিম্বাবুয়ের বুলাওয়েতে (Queen’s Sports Club) শুরু হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ বনাম জিম্বাবুয়ের তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি (T20I) সিরিজ। ওয়ানডের ব্যর্থতা ভুলে সংক্ষিপ্ত এই সংস্করণে বাংলাদেশ দল ট্রফি নিজেদের করে নিতে পারবে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।