বিদায়ের ঘণ্টাধ্বনি তখন খুব স্পষ্ট শোনা যাচ্ছিল ইংলিশ শিবিরে। ঘড়ির কাঁটা যত এগোচ্ছিল, টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যাওয়ার আশঙ্কা তত তীব্র হচ্ছিল থ্রি লায়ন্সদের। তবে ফুটবল বিধাতা হয়তো অন্য কোনো চিত্রনাট্য লিখে রেখেছিলেন। যখন সব আশা শেষ হতে বসেছিল, ঠিক তখনই দলের ত্রাতা হয়ে আবির্ভূত হলেন অধিনায়ক হ্যারি কেইন। ম্যাচ শেষের অন্তিম মুহূর্তে তার জাদুকরী জোড়া গোলে ইউরোর গ্রুপ পর্বের খাদের কিনারা থেকে অবিশ্বাস্য এক জয় ছিনিয়ে নিয়েছে ইংল্যান্ড, নিশ্চিত করেছে শেষ ১৬-র টিকিট।
ম্যাচের শুরু থেকেই চেনা ছন্দে ছিল না ইংলিশরা। রক্ষণভাগের মারাত্মক ভুলে প্রথমার্ধেই গোল হজম করে ব্যাকফুটে চলে যায় তারা। মাঠের খেলায় পরিকল্পনার অভাব আর ফরোয়ার্ডদের ব্যর্থতায় ম্যাচ যখন প্রায় প্রতিপক্ষের পকেটে, ঠিক তখনই জ্বলে ওঠেন কেইন।
ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট ও কেইনের ম্যাজিক:
- ১ম গোল (৮৫ মিনিট): ডি-বক্সের বাইরে থেকে একক প্রচেষ্টায় বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ডান পায়ের এক বুলেট গতির শটে প্রতিপক্ষের গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন কেইন। সমতায় ফেরে দল।
- ২য় গোল (ইনজুরি টাইম): সমতার স্বস্তি যখন ম্যাচ টাইব্রেকার বা ড্রয়ের দিকে নিয়ে যাচ্ছিল, ঠিক তখনই কর্নার থেকে উড়ে আসা বলে এক দুর্দান্ত হেডে জাল কাঁপান এই ইংলিশ স্ট্রাইকার।
কোচ গ্যারেথ সাউথগেটের কৌশল নিয়ে যখন চারদিকে সমালোচনার ঝড় উঠছিল, ঠিক তখনই কেইনের এই অধিনায়কোচিত পারফরম্যান্স পুরো দলকে খাদের মুখ থেকে টেনে তুলল। এই রোমাঞ্চকর জয়ের ফলে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবেই নকআউট পর্বে পা রাখল সাউথগেটের শিষ্যরা।