আন্তর্জাতিক ডেস্ক, পাবনা নিউজ ২৪:
মাটির নিচে চাপা পড়ে থাকা হাজার বছরের পুরনো প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলো বরাবরই মানবজাতিকে চমকে দেয়। সম্প্রতি তেমনই এক রোমাঞ্চকর আবিষ্কারের মুখোমুখি হয়েছেন গবেষকরা। প্রত্নতাত্ত্বিকদের একটি দল মাটি খুঁড়ে উদ্ধার করেছেন প্রায় ২,০০০ বছর পুরোনো একটি সোনার আংটি। অত্যন্ত নিখুঁত কারুকাজ খচিত এই প্রাচীন আংটিটি দেখার পর থেকেই ইতিহাসপ্রেমীদের মনে কৌতুহল ছিল—কী লেখা আছে এই আংটির গায়ে? অবশেষে দীর্ঘ গবেষণার পর গবেষকরা আংটিটির পাঠোদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন, যা উন্মোচন করেছে রোমান যুগের এক অনন্য ব্যক্তিগত ইতিহাস।
আংটিটির গঠন ও অনন্য নকশা
প্রত্নতাত্ত্বিকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিরেট সোনা দিয়ে তৈরি এই আংটিটি মূলত খ্রিষ্টপূর্ব প্রথম শতক বা খ্রিষ্টীয় প্রথম শতকের (আজ থেকে প্রায় দুই হাজার বছর আগেকার)। আংটিটির ঠিক মাঝখানে একটি মূল্যবান রত্নপাথর বা সিলস্টোন বসানো রয়েছে। প্রাচীনকালে এই ধরণের আংটিগুলো কেবল সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য নয়, বরং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্রে সিলমোহর মারার কাজে বা ব্যক্তিগত স্বাক্ষর হিসেবে ব্যবহার করা হতো।
আংটির গায়ে কি লেখা আছে?
দীর্ঘ পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে আংটির ভেতরের ও বাইরের খোদাই করা লিপির পাঠোদ্ধার করেছেন লিপি বিশেষজ্ঞরা। আংটিটিতে প্রাচীন ল্যাটিন হরফে খোদাই করে লেখা রয়েছে একটি নাম এবং সংক্ষিপ্ত প্রার্থনা বা শুভেচ্ছাবার্তা।
বিশেষজ্ঞরা জানান, আংটিটির ভেতরের অংশে খোদাই করা রয়েছে: “দয়াময় ঈশ্বর পরিধানকারীকে রক্ষা করুন” (বা তৎকালীন রোমান বিশ্বাসের কোনো দেবতার প্রতি উৎসর্গীকৃত বার্তা) এবং এর সাথে মালিকের নাম হিসেবে “ইউথাইকস” (Eutyches) বা সমসাময়িক কোনো রোমান অভিজাত নামের উল্লেখ রয়েছে। প্রাচীন রোমান সংস্কৃতিতে এই ধরণের আংটিগুলো সৌভাগ্যের প্রতীক বা অপশক্তি থেকে বাঁচার কবজ হিসেবে আঙুলে ধারণ করা হতো।
কার ছিল এই মূল্যবান আংটি?
ইতিহাসবিদদের মতে, ২,০০০ বছর আগে সাধারণ মানুষের সোনা ব্যবহারের সুযোগ ছিল না বললেই চলে। আংটির নিখুঁত ডিজাইন, সোনার গুণগত মান এবং এর গায়ে খোদাই করা লিপি প্রমাণ করে যে, এটি তৎকালীন রোমান সাম্রাজ্যের কোনো উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তা, ধনী ব্যবসায়ী বা রাজপরিবারের কোনো সদস্যের ব্যক্তিগত সম্পদ ছিল। হয়তো কোনো যুদ্ধ বা প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সময় আংটিটি মাটির নিচে হারিয়ে যায়, যা দীর্ঘ দুই সহস্রাব্দ পর আবার আলোর মুখ দেখল।
প্রত্নতাত্ত্বিক আবিষ্কারে নতুন মাত্রা
এই আবিষ্কারটিকে বর্তমান সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। গবেষকদের মতে, আংটির গায়ের এই ছোট্ট লেখাটি সে যুগের মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাস, ভাষাশৈলী এবং সোনা কামারদের উন্নত প্রযুক্তির এক জীবন্ত দলিল। এটি প্রমাণ করে যে, আজ থেকে ২০ শতাব্দী আগেও মানুষ কতটা নান্দনিক ও সুরক্ষিত উপায়ে তাদের গহনা তৈরি করতো। আংটিটি বর্তমানে সুরক্ষার স্বার্থে একটি আন্তর্জাতিক জাদুঘরে গবেষণার জন্য রাখা হয়েছে।
বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের এমন সব রোমাঞ্চকর প্রত্নতাত্ত্বিক আবিষ্কার, রহস্যময় ইতিহাস এবং ব্রেকিং আন্তর্জাতিক খবরের আপডেট সবার আগে পেতে পাবনা নিউজ ২৪-এর সাথেই থাকুন।