স্পোর্টস ডেস্ক | পাবনা নিউজ ২৪
ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ এবং রোমাঞ্চকর আসর ‘ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬’ এবার ক্রীড়া ইতিহাসে এক সম্পূর্ণ নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। উত্তর আমেরিকার তিন পরাশক্তি—যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো এবং কানাডার যৌথ আয়োজনে বসা এবারের আসরটি নানা কারণেই অনন্য। তবে ফুটবলপ্রেমীদের মাঝে সবচেয়ে বেশি আলোচনা ও উত্তেজনা তৈরি করেছে এর নতুন ফরম্যাট। ফুটবল ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ৩২টি দলের পরিবর্তে মোট ৪৮টি দেশ বিশ্বসেরার মুকুটের জন্য লড়াইয়ে নেমেছে।১১ জুন থেকে শুরু হওয়া এই ফুটবল মহাযজ্ঞ চলবে ২০ জুলাই পর্যন্ত। দল সংখ্যা বৃদ্ধির কারণে টুর্নামেন্টের পরিধি যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে ম্যাচ এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঝাঁঝ। ভিন্নধর্মী রণকৌশল, মাঠের গতি আর একের পর এক রোমাঞ্চকর ফলাফলে ইতিমধ্যেই বুঁদ হয়ে আছে পুরো বিশ্ব। গ্রুপ পর্বের জমজমাট লড়াই শেষে টুর্নামেন্ট এখন প্রবেশ করছে সবচেয়ে শ্বাসরুদ্ধকর অধ্যায়—নকআউট পর্বে।
নতুন ফরম্যাটের রূপরেখা: কেমন ছিল গ্রুপ পর্বের সমীকরণ?
৪৮টি দল নিয়ে বিশ্বকাপ আয়োজনের সিদ্ধান্তটি প্রথমে ফুটবল মহলে কিছুটা সংশয় তৈরি করলেও, মাঠের লড়াইয়ে তা শতভাগ সফল প্রমাণিত হয়েছে। দলগুলোকে মোট ১২টি গ্রুপে ভাগ করা হয়েছিল, যেখানে প্রতি গ্রুপে ছিল ৪টি করে দল। এই নতুন নিয়মের কারণে প্রতিটি ম্যাচই রূপ নিয়েছিল অলিখিত ফাইনালে, যার ফলে তথাকথিত ছোট দলগুলোও পরাশক্তিদের বুক কাঁপিয়ে দিয়েছে।গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলোতে একদিকে যেমন দেখা গেছে অভিজ্ঞ ও ঐতিহ্যবাহী দলগুলোর চেনা আধিপত্য, অন্যদিকে বিশ্বমঞ্চে ফুটবল রোমান্টিকদের উপহার দিয়েছে কিছু অবিশ্বাস্য এবং অপ্রত্যাশিত চমক।
স্বাগতিকদের ঘরের মাঠে গর্জন
তিন স্বাগতিক দেশ—যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা এবার ঘরের মাঠের দর্শকদের হতাশ করেনি। বিশেষ করে মেক্সিকোর পারফরম্যান্স ছিল চোখে পড়ার মতো। গ্রুপ ‘A’ তে নিজেদের চেনা কন্ডিশনে প্রতিপক্ষকে কোনো সুযোগই দেয়নি তারা। টানা তিন জয়ে পূর্ণ ৯ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে নকআউটে পা রেখেছে মেক্সিকানরা।অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র দলগত রসায়ন এবং গতিময় ফুটবল খেলে গ্রুপ ‘D’ এর শীর্ষস্থান দখল করেছে। কানাডাও গ্রুপ ‘B’ থেকে অত্যন্ত লড়াকু ফুটবল উপহার দিয়ে ৪ পয়েন্টের সমীকরণ মিলিয়ে পরবর্তী পর্ব অর্থাৎ রাউন্ড অব ৩২ নিশ্চিত করেছে।
লাতিন আমেরিকার দুই পরাশক্তির রাজত্ব
বিশ্ব ফুটবলের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ও লাতিন শক্তির মূল ভিত্তি ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা এবারও নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রেখেছে। বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা তাদের চিরাচরিত আক্রমণাত্মক ফুটবল দিয়ে প্রতিপক্ষের ডিফেন্স ভেঙে চুরমার করেছে। লিওনেল মেসির উত্তরসূরিরা গ্রুপ ‘J’ থেকে অপরাজিত থেকে নকআউটের টিকিট কেটেছে।অন্যদিকে, পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল গ্রুপ ‘C’ তে সাম্বা ফুটবলের জাদু দেখিয়েছে। মাঝমাঠ ও আক্রমণভাগের দারুণ সমন্বয়ে ৭ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে পরবর্তী রাউন্ডে পা রেখেছে সেলেসাওরা।
ইউরোপীয় জায়ান্টদের দাপট ও আফ্রিকান চমক
ইউরোপের ফুটবল পরাশক্তি ফ্রান্স, স্পেন, নেদারল্যান্ডস এবং জার্মানি নিজেদের জাত চিনিয়েই রাউন্ড অব ৩২-এ উঠেছে। তবে পথটা মোটেও সহজ ছিল না। গ্রুপ ‘E’ তে বড় ধরণের ধাক্কা খেয়েছে জার্মানি। লড়াকু দল ইকুয়েডর শক্তিশালী জার্মানিকে হারিয়ে এবারের বিশ্বকাপের অন্যতম বড় অঘটনটি ঘটায়। যদিও শেষ পর্যন্ত জার্মানি ও ইকুয়েডর উভয় দলই পরের রাউন্ডে উঠেছে।এছাড়া কাতার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালিস্ট মরক্কো এবারও তাদের রূপকথার যাত্রা অব্যাহত রেখেছে। গ্রুপ ‘F’ থেকে নেদারল্যান্ডসের সাথে সমান তালে লড়াই করে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে এই আফ্রিকান সিংহরা।
রাউন্ড অব ৩২: শুরু হচ্ছে আসল ‘ডু অর ডাই’ যুদ্ধ
গ্রুপ পর্বের হিসাব-নিকাশ চুকিয়ে টুর্নামেন্ট এখন পা রাখছে আসল রোমাঞ্চে। ৩২ দলের বিশ্বকাপে যেখানে সরাসরি রাউন্ড অব সিক্সটিন বা ১৬ দলের নকআউট হতো, এবার ৪৮ দলের কারণে যুক্ত হয়েছে ‘রাউন্ড অব ৩২’। এখান থেকে শুরু হচ্ছে একক বিদায় বা ‘নকআউট’ পর্ব। এখানে কোনো ড্র বা পয়েন্ট ভাগাভাগির সুযোগ নেই; ১২০ মিনিটের লড়াই কিংবা পেনাল্টি শুটআউটে একমাত্র জয়ই টিকিয়ে রাখবে সোনার হরিণ ছোঁয়ার স্বপ্ন।ইতিমধ্যেই নিশ্চিত হওয়া রাউন্ড অব ৩২-এর কিছু হাই-ভোল্টেজ ম্যাচ ফুটবল বিশ্বের পারদ বাড়িয়ে দিয়েছে:
- আর্জেন্টিনা বনাম কাবো ভার্দে: শক্তির বিচারে আর্জেন্টিনা এগিয়ে থাকলেও, আফ্রিকান দল কাবো ভার্দে তাদের শারীরিক ফুটবল দিয়ে আর্জেন্টিনাকে কঠিন পরীক্ষায় ফেলতে প্রস্তুত।
- ব্রাজিল বনাম জাপান: গতি আর কৌশলের এক চমৎকার প্রদর্শনী হতে যাচ্ছে এই ম্যাচে। এশিয়ান পাওয়ারহাউজ ব্লু সামুরাইরা যেকোনো মুহূর্তে ব্রাজিলের সাম্বা ছন্দ বিগড়ে দিতে পারে।
- জার্মানি বনাম প্যারাগুয়ে: গ্রুপ পর্বে ইকুয়েডরের কাছে হেরে ধাক্কা খাওয়া জার্মানি চাইবে নকআউটে নিজেদের চেনা রূপে ফিরতে, তবে প্যারাগুয়ের রক্ষণভাগ ভাঙা সহজ হবে না।
- フランス (ফ্রান্স) বনাম সুইডেন: কিলিয়ান এমবাপ্পের ফ্রান্সের গতি বনাম সুইডিশদের কাউন্টার অ্যাটাকিং ফুটবল—ম্যাচটি হতে যাচ্ছে ট্যাকটিক্যাল মাস্টারক্লাস।
- যুক্তরাষ্ট্র বনাম বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা: ঘরের মাঠের বিপুল দর্শক সমর্থনের সুবিধা নিয়ে মাঠে নামবে ইউএসএ।
মেটলাইফ স্টেডিয়ামের ফাইনাল ও শেষ কথা
৪৮ দলের এই বিশাল প্রতিযোগিতায় প্রতিটি ম্যাচই এখন ফুটবলারদের জন্য অগ্নিপরীক্ষা। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে দলগুলোর চূড়ান্ত লক্ষ্য নিউ ইয়র্কের মেটলাইফ স্টেডিয়াম, যেখানে আগামী ২০ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে এই ঐতিহাসিক বিশ্বকাপের ফাইনাল।
নতুন ফরম্যাটের এই বিশ্বকাপ কেবল একটি টুর্নামেন্ট নয়, এটি বিশ্ব ফুটবলের পরিধি বিস্তারের এক নতুন উদাহরণ। দল সংখ্যা বাড়ার কারণে প্রতিযোগিতার রোমাঞ্চ বহুগুণ বেড়ে গেছে, এবং ছোট-বড় দলের ব্যবধান যে ঘুচে আসছে তা মাঠের পারফরম্যান্সেই স্পষ্ট। বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমী এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে নকআউটের এই মহানাটকের জন্য।
শেষ পর্যন্ত কার হাতে উঠবে ফিফা বিশ্বকাপের সোনালী ট্রফি? উত্তর লুকিয়ে আছে মাঠের পরবর্তী ৯০ মিনিটের লড়াইয়ে।
৪৮ দলের মহাযজ্ঞ, এবার লড়াই নকআউটের!
৩২ থেকে বেড়ে ৪৮ দল—২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবল ইতিহাসে নিয়ে এসেছে এক নতুন উন্মাদনা! উত্তর আমেরিকার তিন দেশ যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় গ্রুপ পর্বের রোমাঞ্চকর লড়াই শেষে এবার শুরু হচ্ছে আসল যুদ্ধ।গ্রুপ পর্বে স্বাগতিকদের গর্জন, ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার চেনা আধিপত্যের পাশাপাশি আমরা দেখেছি ইকুয়েডর কিংবা মরক্কোর মতো দলগুলোর অবিশ্বাস্য চমক। কিন্তু এখন আর কোনো ভুল করার সুযোগ নেই! একটি ভুল মানেই বিশ্বকাপ থেকে বিদায়।শুরু হতে যাচ্ছে শ্বাসরুদ্ধকর ‘রাউন্ড অব ৩২’ বা নকআউট পর্ব! রাউন্ড অব ৩২-এর কিছু হাই-ভোল্টেজ ফিক্সচার:২০ জুলাই নিউ ইয়র্কের মেটলাইফ স্টেডিয়ামের ফাইনালে শেষ পর্যন্ত কারা হাসবে বিজয়ের হাসি? আপনার প্রিয় দল কোনটি এবং তারা কি পারবে ফাইনালে উঠতে?