জাতীয় ডেস্ক, পাবনা নিউজ ২৪ | প্রকাশ: ১ জুলাই, ২০২৬
পবিত্র হজ পালনের আনুষ্ঠানিকতা সফলভাবে শেষ করে আল্লাহর মেহমানদের নিজ দেশে ফেরার প্রক্রিয়া পুরোদমে চলছে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সসহ বিভিন্ন অনুমোদিত এয়ারলাইন্সের ফিরতি ফ্লাইটে এখন পর্যন্ত ৫৮ হাজারেরও বেশি বাংলাদেশি হাজি নিরাপদে দেশে প্রত্যাবর্তন করেছেন। প্রিয়জনদের বরণ করে নিতে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ দেশের প্রধান বিমানবন্দরগুলোতে এখন হাজি ও তাদের আত্মীয়-স্বজনদের উপচে পড়া ভিড়।
ধর্ম মন্ত্রণালয় এবং আশকোনা হজ ক্যাম্প সূত্র জানিয়েছে, হাজিদের ফিরিয়ে আনার এই কার্যক্রম অত্যন্ত সুনিয়ন্ত্রিতভাবে চলছে এবং আগামী কয়েকদিনের মধ্যে বাকি হাজিরাও দেশে ফিরে আসবেন।
পুরোদমে চলছে ফিরতি হজ ফ্লাইট
সৌদি আরব থেকে হাজিদের নিয়ে প্রতিদিন একাধিক বিশেষ ও নিয়মিত ফ্লাইট ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করছে। এ বছর হাজিদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, সৌদি অ্যারাবিয়ান এয়ারলাইন্স (সাউদিয়া) এবং ফ্লাইনাস নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। কোনো ধরনের বড় ধরনের শিডিউল বিপর্যয় ছাড়াই ফিরতি ফ্লাইটগুলো পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে।
বিমানবন্দরে আবেগঘন পরিবেশ ও জমজমের পানি বিতরণ
পাবনা নিউজ ২৪-এর পাঠকদের জানিয়ে রাখা ভালো, পবিত্র মক্কা ও মদিনার পুণ্যভূমি থেকে হাজিরা বিমানবন্দরে এসে পৌঁছানো মাত্রই সেখানে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হচ্ছে। দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর সুস্থ শরীরে প্রিয়জনকে ফিরে পেয়ে স্বজনদের চোখে আনন্দের অশ্রু দেখা যাচ্ছে।
এদিকে, সৌদি আরবের নিয়মানুযায়ী কোনো হাজি ব্যক্তিগতভাবে বিমানে জমজমের পানি বহন করতে পারছেন না। তবে হাজিদের সুবিধার্থে এয়ারলাইন্সগুলোর পক্ষ থেকে বিমানবন্দরেই প্রত্যেক হাজিকে ৫ লিটারের জমজমের পানির ক্যান বিনামূল্যে উপহার দেওয়া হচ্ছে।
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সেল ও সেবাদান
বাংলাদেশ সরকারের ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও হজ কাউন্সিলের বিশেষ প্রতিনিধি দল সার্বক্ষণিক হাজিদের আগমনী প্রক্রিয়া তদারকি করছে। বয়োবৃদ্ধ এবং অসুস্থ হাজিদের জন্য বিমানবন্দরে বিশেষ হুইলচেয়ার ও মেডিকেল টিমের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যাতে কাস্টমস ও ইমিগ্রেশনের আনুষ্ঠানিকতা সারতে তাদের কোনো ভোগান্তি পোহাতে না হয়।
হজ শেষে যারা সুস্থভাবে দেশে ফিরতে পেরেছেন, তারা মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করছেন এবং বাংলাদেশের শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য বিশেষ দোয়া করছেন।