Home লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য গর্ভাবস্থায় হেপাটাইটিস সি-তে আক্রান্ত মা? শিশুর শরীরে সংক্রমণ ছড়ানোর ঝুঁকি নিয়ে সতর্কবার্তা

গর্ভাবস্থায় হেপাটাইটিস সি-তে আক্রান্ত মা? শিশুর শরীরে সংক্রমণ ছড়ানোর ঝুঁকি নিয়ে সতর্কবার্তা

0
গর্ভাবস্থায় হেপাটাইটিস সি-তে আক্রান্ত মা? শিশুর শরীরে সংক্রমণ ছড়ানোর ঝুঁকি নিয়ে সতর্কবার্তা
গর্ভাবস্থায় হেপাটাইটিস সি, মায়ের স্বাস্থ্য,

স্বাস্থ্য ডেস্ক, পাবনা নিউজ ২৪ | প্রকাশ: ১ জুলাই, ২০২৬

গর্ভাবস্থায় একজন হবু মায়ের শারীরিক সুস্থতার ওপর অনাগত সন্তানের ভবিষ্যৎ নির্ভর করে। এই সময়ে মায়েদের বিভিন্ন ধরণের শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হলেও একটি মারাত্মক ভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ে অনেকেই অসচেতন থাকেন, আর সেটি হলো ‘হেপাটাইটিস সি’ (HCV)। চিকিৎসকেরা সতর্ক করে বলছেন, গর্ভাবস্থায় কোনো মা যদি হেপাটাইটিস সি ভাইরাসে আক্রান্ত থাকেন, তবে তার গর্ভে থাকা শিশুর শরীরেও এই বিপজ্জনক ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ার বড় ঝুঁকি থাকে।

লিভার বা যকৃতের মারাত্মক ক্ষতিসাধনকারী এই নীরব ঘাতক ভাইরাসটি কীভাবে মায়ের শরীর থেকে শিশুর দেহে ছড়ায় এবং তা প্রতিরোধে কী করণীয়, তা নিয়ে আজ থাকছে বিস্তারিত প্রতিবেদন।

গর্ভের শিশু কীভাবে আক্রান্ত হয়?

হেপাটাইটিস সি মূলত একটি রক্তবাহিত ভাইরাস। গর্ভকালীন সময়ে মায়ের শরীর থেকে প্লাসেন্টা বা অমরা পার হয়ে ভাইরাসটি সরাসরি শিশুর রক্তে প্রবেশ করতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ‘ভার্টিক্যাল ট্রান্সমিশন’ (Vertical Transmission)।

গবেষণায় দেখা গেছে, হেপাটাইটিস সি-তে আক্রান্ত মায়েদের ক্ষেত্রে প্রায় ৫ থেকে ৬ শতাংশ সন্তানের এই ভাইরাসে সংক্রমিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। আর যদি মা একই সাথে এইচআইভি (HIV) ভাইরাসেও আক্রান্ত থাকেন, তবে শিশুর সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি দ্বিগুণ হয়ে যায়।

শিশুর শরীরে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব

গর্ভে বা প্রসবের সময়ে যদি কোনো শিশু হেপাটাইটিস সি ভাইরাসে আক্রান্ত হয়, তবে তার শরীরে নিচের জটিলতাগুলো দেখা দিতে পারে:

  • ক্রনিক লিভার ইনফেকশন: আক্রান্ত শিশুদের একটি বড় অংশ দীর্ঘমেয়াদী বা ক্রনিক হেপাটাইটিস সি-তে আক্রান্ত হয়।
  • লিভার ড্যামেজ: প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আগেই শিশুর লিভারের কার্যক্ষমতা নষ্ট হওয়া বা লিভার সিরোসিসের মতো মারাত্মক রোগ হতে পারে।
  • কম ওজনের শিশু: আক্রান্ত মায়েদের ক্ষেত্রে অনেক সময় প্রসবের নির্দিষ্ট সময়ের আগেই (Pre-term birth) সন্তান জন্ম নিতে পারে এবং শিশুর ওজন স্বাভাবিকের চেয়ে কম হতে পারে।

লক্ষণহীন নীরব আক্রমণ

পাবনা নিউজ ২৪-এর পাঠকদের জন্য জানা জরুরি যে, হেপাটাইটিস সি ভাইরাসটিকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ এই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর বছরের পর বছর শরীরে কোনো বিশেষ লক্ষণ প্রকাশ পায় না। সাধারণ জন্ডিস, ক্লান্তি বা পেট ব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দিলেও অনেকেই তা অবহেলা করেন। ফলে রক্ত পরীক্ষা না করা পর্যন্ত মা নিজেও জানতে পারেন না যে তিনি এই ভাইরাসের বাহক।

ঝুঁকি এড়াতে চিকিৎসকদের পরামর্শ ও করণীয়

১. গর্ভধারণের আগেই স্ক্রিনিং: সবচেয়ে নিরাপদ উপায় হলো সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা করার সময়ই স্বামী-স্ত্রী উভয়ের হেপাটাইটিস সি পরীক্ষা করা। ২. প্রথম এন্টেনাটাল চেকআপে পরীক্ষা: যদি আগে পরীক্ষা করা না হয়ে থাকে, তবে গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাসের মধ্যেই রক্তের ‘HCV’ পরীক্ষাটি করিয়ে নেওয়া উচিত। ৩. প্রসবের সময় সতর্কতা: প্রসবের সময় সিজারিয়ান নাকি নরমাল ডেলিভারি হবে, তা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নির্ধারণ করতে হবে, যাতে শিশুর সাথে মায়ের রক্তের সংস্পর্শ যথাসম্ভব কমানো যায়। ৪. জন্মের পর শিশুর পরীক্ষা: আক্রান্ত মায়ের সন্তান জন্ম নেওয়ার পর, চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নির্দিষ্ট বয়সে (সাধারণত ১৮ মাস পর) শিশুর অ্যান্টিবডি পরীক্ষা করিয়ে নিশ্চিত হতে হবে সে ভাইরাস মুক্ত আছে কিনা।

হেপাটাইটিস সি-এর কোনো কার্যকর ভ্যাকসিন বা টিকা এখনো আবিষ্কৃত হয়নি, তবে আধুনিক চিকিৎসায় সঠিক সময়ে অ্যান্টিভাইরাল ওষুধের মাধ্যমে এটি পুরোপুরি নিরাময় সম্ভব। তাই গর্ভাবস্থায় অবহেলা না করে সঠিক সময়ে পরীক্ষা করুন এবং আপনার অনাগত সন্তানকে রাখুন সম্পূর্ণ নিরাপদ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here