আজকাল ট্রেন্ডি লুক পেতে অনেকেই চুলে পছন্দের কালার বা হাইলাইট করিয়ে থাকেন। তবে চুল কালার করার চেয়েও বড় চ্যালেঞ্জ হলো সেই কালারের উজ্জ্বলতা দীর্ঘদিন বজায় রাখা। সঠিক নিয়মে যত্ন না নিলে দামি ব্র্যান্ডের হেয়ার কালারও কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ম্যাটম্যাটে বা ফ্যাকাসে হয়ে যেতে পারে।
পাবনা নিউজ ২৪-এর আজকের ফিচারে আমরা আলোচনা করবো এমন কিছু সহজ কিন্তু দারুণ কার্যকরী টিপস, যা আপনার চুলের কালারকে দীর্ঘদিন নতুনের মতো উজ্জ্বল ও প্রাণবন্ত রাখতে সাহায্য করবে।
১. কালার করার পরপরই শ্যাম্পু করবেন না
চুল কালার করার পর অন্তত ৭২ ঘণ্টা (৩ দিন) শ্যাম্পু করা থেকে বিরত থাকুন। কালার করার সাথে সাথেই চুলের কিউটিকলগুলো উন্মুক্ত থাকে। ৩ দিন সময় দিলে চুলের ভেতরে পিগমেন্ট বা কালারটি ভালোভাবে বসে যাওয়ার সুযোগ পায়। এর আগেই শ্যাম্পু করে ফেললে কালার দ্রুত হালকা হয়ে যায়।
২. ‘কালার-প্রটেক্টিং’ শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার ব্যবহার করুন
সাধারণ শ্যাম্পুতে থাকা সালফেট এবং কেমিক্যাল চুলের কালারকে খুব দ্রুত ধুয়ে ফেলে। তাই হেয়ার কালার দীর্ঘদিন স্থায়ী করতে অবশ্যই ‘সালফেট-ফ্রি’ (Sulfate-free) এবং বিশেষায়িত ‘কালার-সেফ’ (Color-safe) শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার ব্যবহার করুন। এগুলো চুলের কালার লক করতে সাহায্য করে।
৩. গরম পানিকে ‘না’ বলুন
শীত বা গ্রীষ্ম—যেকোনো ঋতুতেই কালার করা চুলে গরম পানি ব্যবহার করা একদম অনুচিত। গরম পানি চুলের কিউটিকলগুলো খুলে দেয়, যার ফলে শ্যাম্পু করার সময় কালার ধুয়ে বের হয়ে যায়। তাই চুল ধোয়ার জন্য সবসময় স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানি বা হালকা ঠান্ডা পানি ব্যবহার করুন।
৪. হিট স্টাইলিং টুলস ব্যবহারে সতর্কতা
হেয়ার ড্রায়ার, স্ট্রেইটনার বা কার্লিং আয়রনের অতিরিক্ত তাপ কালার করা চুলের সবচেয়ে বড় শত্রু। অতিরিক্ত হিটের কারণে চুল শুষ্ক হয়ে যায় এবং কালার তার উজ্জ্বলতা হারায়। খুব প্রয়োজন হলে স্টাইলিং টুলস ব্যবহারের আগে চুলে ভালো মানের হিট প্রটেক্ট্যান্ট সিরাম বা স্প্রে লাগিয়ে নিন।
৫. রোদ এবং সুইমিং পুলের পানি থেকে দূরে থাকুন
সূর্যের ক্ষতিকর ইউভি (UV) রশ্মি চুলের কালারকে ব্লিচ বা হালকা করে দেয়। তাই কড়া রোদে বের হওয়ার সময় ছাতা ব্যবহার করুন বা স্কার্ফ দিয়ে চুল ঢেকে রাখুন। এছাড়া সুইমিং পুলের পানিতে থাকা ক্লোরিনও হেয়ার কালার নষ্ট করে দেয়। পুলে নামার আগে সুইমিং ক্যাপ পরতে ভুলবেন না।
৬. ডিপ কন্ডিশনিং বা হেয়ার মাস্ক
কেমিক্যাল ব্যবহারের কারণে কালার করা চুল কিছুটা রুক্ষ হয়ে পড়তে পারে। চুলের আর্দ্রতা ও কালারের গ্লসি ভাব ধরে রাখতে সপ্তাহে অন্তত একবার ডিপ কন্ডিশনিং মাস্ক ব্যবহার করুন। এটি চুলকে ভেতর থেকে পুষ্টি জোগাবে এবং কালারকে সতেজ রাখবে।
উপসংহার
চুলের কালার দীর্ঘদিন সুন্দর রাখা খুব কঠিন কিছু নয়, শুধু প্রয়োজন একটু বাড়তি সচেতনতা। সঠিক পণ্য নির্বাচন এবং সামান্য লাইফস্টাইল পরিবর্তনের মাধ্যমেই আপনি আপনার পছন্দের হেয়ার কালারকে মাসের পর মাস নতুনের মতো উজ্জ্বল রাখতে পারেন।